ময়দান আপডেট: ভারতীয় ফুটবলে এখন কার্যত অচলাবস্থা! কবে খেলা শুরু হবে, তা অজানা দেশের ফুটবল মহলের। আইএসএল নিয়ে টানাপোড়েন এখনও অব্যাহত। কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সমস্যা সমাধানের জন্য প্রায় দুই সপ্তাহ সময় চাওয়া হয়েছে। নভেম্বর-ডিসেম্বরের ভরা শীতের মরসুমে অন্যান্য বছর ফুটবলের মক্কা যুবভারতীর ছবিটা থাকে সমর্থকদের ভিড়, টিকিট নিয়ে উন্মাদনা, প্রিয় দলের অনুশীলন দেখতে ফ্যানস ক্লাবের সদস্যদের উৎসাহ। কিন্তু এই বছর কোথায় কি! বাংলার দুই প্রধানের মধ্যে অন্যতম মোহনবাগানের তো সুপার কাপের পর থেকেই অনুশীলন বন্ধ। বিদেশীরা দেশে ফিরে গিয়েছেন। ভারতীয় কিংবা বাংলার ফুটবলাররা নিজেদের মতো করে অনুশীলন সারলেও অফিসিয়াল ভাবে প্রথাগত অনুশীলন শুরু হয় নি। অপরদিকে ইস্টবেঙ্গল অবশ্য নিজেদের সুপার কাপের সেমিফাইনালের লক্ষ্যে যুবভারতীর প্রাকটিস গ্রাউন্ডে বেশ কিছুদিন ক্লোজডোর অনুশীলন সারে। তবে সেখানেও সমর্থক থেকে মিডিয়ার সাংবাদিকদের নিরাপত্তার ঘেরাটোপে ধার ঘেঁসার উপায় নেই। যেন অনুশীলনের কৌশল দেখে নিলে সুপার কাপের ট্রফিই বোধহয় হাতছাড়া হয়ে যাবে লাল-হলুদের।

সুপার কাপের গ্রুপ পর্বের ডার্বিতে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ড্র করে সেমিফাইনালে টিকিট নিশ্চিত করে হাসিমুখে গোয়া থেকে কলকাতা ফিরেছিল ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। তবে কিছুদিনের বিরতির পর আগামী ৪ ডিসেম্বর পঞ্জাব এফসির বিরুদ্ধে সুপার কাপের সেমিফাইনালে ফাতোরদা স্টেডিয়ামে খেলতে নামবে ইস্টবেঙ্গল। অন্য সেমিফাইনালে এফসি গোয়ার মুখোমুখি হবে মুম্বই সিটি এফসি। হাতে এখনও সাতদিনের বেশি সময় থাকলেও, ২৭ তারিখ গোয়া পৌঁছে গেছে ইস্টবেঙ্গল। সেখানে ডেম্পো সহ কিছু দলের বিরুদ্ধে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে নিজেদের প্রস্তুত করে নেবে লাল-হলুদ শিবির। পাশাপাশি গোয়ার পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্যও আগেভাগে পৌঁছে যাওয়ায় সিদ্ধান্ত অস্কারের।

তবে বুধবার কলকাতায় শেষ দিনের অনুশীলন সেরে বেরোনোর সময় অস্কার বার্তা দেন কয়েক দিনের বিরতিতে দলের টিম কম্বিনেশন যথেষ্ট ভালো গুছিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। পঞ্জাব কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও, সমানে-সমানে লড়াই হবে। ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররাও লড়াই দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। ভালো ম্যাচ হবে আশাবাদী ইস্টবেঙ্গল কোচ। এদিন অনুশীলন ক্লোজডোর হলেও, সূত্রের খবর দলের ফুটবলারদের দুটো গ্রুপে ভাগ করে ম্যাচ খেলান অস্কার ব্রুজোঁঁ। সেখানে গোল করেন মাহেশ থেকে মিগুয়েল। ফলে গোটা দলের সমস্ত ফুটবলাররাই একদম চাঙ্গা রয়েছেন সুপার কাপে ভালো ফুটবল উপহার দেওয়ার জন্য। সবমিলিয়ে কলিঙ্গ সুপার কাপের পর গোয়া থেকে সুপার কাপের ট্রফি শহর কলকাতায় আসার আশায় লাল-হলুদ সমর্থকরা।

