জয়দেব ভট্টাচার্য্য
ময়দান আপডেট: অনূর্ধ্ব ১৩ অম্বর রায় টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ বিশবাঁও জলে রেখেই, অনূর্ধ্ব ১৫-র অম্বর রায় টুর্নামেন্ট যৌথ উদ্যোগে করার ভাবনা – যেখানে মূল পর্বের দায়িত্বে সিএবির পাশাপাশি প্রথম পর্ব জেলার উপরেই ন্যাস্ত। পনেরো হাজারী এই টুর্নামেন্টের আয়োজন ১লা জানুয়ারী ২০২৬ থেকে বলেই জানা গেছে। যদিও এই টুর্নামেন্ট আয়োজন ও তার পরিচালনা প্রয়োগ ক্ষেত্রে কি হবে তা নিয়ে অনেকের মনেই এখনো ধোয়াশা যথেষ্ট। আর সেই আবহেই এবার বয়েস ভিত্তিক প্রাইভেট টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রচার ও প্রসার যে আরো বাড়তে চলেছে তা বলাই বাহূল্য। কারন- সিএবি আয়োজিত অনূর্ধ্ব ১৩-র অম্বর রায় টুর্নামেন্ট ২০২৫-২৬ মরশুমে করার সম্ভাবনা কতোটা বা হ’লেও কবে হ’তে পারে তা নিয়ে আপাতত কোনো বার্তা নেই । অথছ এই খবরটি-ই “গ্ৰামে গ্ৰামে সেই বার্তা রটি গেলো ক্রমে” এর মতোই সকলের কানে (যারাই এই টুর্নামেন্টের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত) পৌঁছে গেছে। আর এর ফলেই এবার একশ্রেণীর টুর্নামেন্ট আয়োজকগন যেমন খুশি সাজোর মানসিকতা নিয়েই এই বয়েসের বয়েস ভিত্তিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করার জন্য আগ্ৰহী হয়ে উঠবেন। যথাযথ ভাবনা ও পরিকল্পনা নিয়েই যে ব্যতিক্রমী কিছু সংগঠন এই বয়েসের টুর্নামেন্ট আয়োজন করবেনা, তা নয়। অবশ্যই তারাও থাকবেন, কিন্তু নিশ্চিত ভাবে এই সংখ্যাটা কম।

আসলে ২০২৪-২৫ মরশুম চলাকালীনও বাংলার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থার পক্ষ্য থেকে কোনো ধারণা দেওয়া ছিলোনা, বা টুর্নামেন্ট আপাতত না করার মতো এমন একটি সিদ্ধান্ত (আদৌও অনূর্ধ্ব ১৩-র বয়েস ভিত্তিক টুর্নামেন্ট নিয়ে প্রকৃত সিদ্ধান্তটাই বা কি তাও যে কজন জানেন, জানা নেই) নেওয়া হবে সেটা ময়দানে সারাক্ষণ কান পেতেও কজন পেয়েছে জানা নেই।
অথছ পূজোর মরশুম কাটার পরে প্রথমে কানাঘুষো, এর পরে সিএবি-র পক্ষ্য থেকে প্রকাশিত কিছু বিজ্ঞপ্তির (বয়েস ভিত্তিক) কথা জানা জানি হ’তেই শুরু হয়েছিল বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে এই বয়েসের টুর্নামেন্ট আয়োজন নিয়ে প্রাথমিক ভাবনা। আর সেটাই ক্রমে ক্রমে সঞ্চারিত হয়েছে, হচ্ছে এবং ২০২৫-২৬ এর মরশুম জুরে সেই ভাবনায় মুখরিত হবে বিভিন্ন সংগঠন। দিনে রাতে টি-২০ থেকে ৩০/৩৫ ওভারের ম্যাচ ও আয়োজিত হবে অনূর্ধ্ব ১৩-র বয়সী ছেলেদের টুর্নামেন্ট আয়োজনের মধ্যে দিয়ে।
আবার এটাও ঠিক, উত্তর বঙ্গের শিলিগুড়ি থেকে বাংলার বিভিন্ন জেলায় বেশ কিছু সংগঠন আছেন যারা দীর্ঘদিন ধরে বছরের পর বছর এক নির্দিষ্ট মান বজায় রেখে নিয়মিত ভাবেই বয়েস ভিত্তিক (অনূর্ধ্ব ১২ থেকে ১৩-১৫ একাধিক বয়েসের) টুর্নামেন্ট করে আসছে।সিএবির নেওয়া এই হটাৎ সিদ্ধান্তে ঐ সকল টুর্নামেন্ট আয়োজকদের একাংশের ভাবনাতেও বদল আসতে পারে। কারন তাদের কাছে দলের নাম নথিভুক্তির সংখ্যা এবার বাড়বে। এর পাশাপাশি আগেই লিখেছি যে ২৫-২৬ মরশুমে বয়েস ভিত্তিক টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়বেই।
আর এখনে সতর্কীকরণ এই যে, এই ধরনের নতুন টুর্নামেন্ট আয়োজকদের পাশাপাশি পুরাতনদের ক্ষেত্রেও টিম নাম দেওয়ার একটা উৎসাহ থাকবে (বিভিন্ন কোচিং সেন্টারর পক্ষ্য তাদের এই বয়েসের ছেলেদের খেলানোর একটা চাপ থাকবেই)। সেই চাপের বা উৎসাহের সৌজন্য টুর্নামেন্ট আয়োজকরা ভেসে না গেলেই হ’লো। কেনোনা এই উৎসাহ ও চাপের সঙ্গে বিভিন্ন দলের পক্ষ্য থেকে এমন কিছু খেলোয়াড়দের খেলানোর ব্যবস্থা করা হবে, বা করানোর চাপ থাকবে যারা “সিং ভেঙে বাছুর” সেজেই এখানে মাথা গলিয়ে দেবে। এক্ষেত্রে আয়োজকদের দৃঢ়তা আর টুর্নামেন্টের মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে স্বচ্ছ্বতা ও নিরপেক্ষতাই পারে ঐ সকল দলের ও খেলোয়াড়দের তাদের নিজ নিজ টুর্নামেন্টকে বাঁচিয়ে প্রকৃত অর্থেই একটি ভালো মানের টুর্নামেন্ট আয়োজন করাতে।
আর এটা সম্ভব হ’লে, বা এমন টুর্নামেন্টের সংখ্যা যতো বাড়বে ততই প্রকৃত বয়েস ভিত্তিক টুর্নামেন্টের সার্থকতা বাড়বে। তখন সিএবি বয়েস ভিত্তিক টুর্নামেন্টের আয়োজন না করলেও মনে হয়না কোচিং সেন্টারগুলির খুব একটা ক্ষতি হবে। বাংলার যথাযথ মানের ক্রিকেট কোচিং সেন্টারগুলিকে বাঁচাতেই আজ স্বচ্ছ্বতা আর নীরপেক্ষতা বজায় রেখে বিভিন্ন ক্লাব সংগঠনের ভাবনা হোক বয়েস ভিত্তিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করার। তবেই বাংলার ক্রিকেটে একাধিক ক্রিকেট প্রতিভা ধারাবাহিক ভাবে এই টুর্নামেন্টগুলির মাধ্যমে উঠে আসবে। সিএবি আজ এই বয়েসের টুর্নামেন্ট নিয়ে এক চরম ধোয়াশা তৈরী করলেও একদিন তারাও হয়তো অনুধাবন করবে বয়েস ভিত্তিক টুর্নামেন্ট নিয়ে তাদের আজকের ভাবনা সমালোচনার উর্ধ্বে নয়! বিশেষ করে বাংলার খুঁদে খেলোয়াড়দের মধ্যে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন গড়ে তোলা একটি টুর্নামেন্ট যা অম্বর রায় নামাঙ্কিত একটি মিথ হ’য়ে ওঠা টুর্নামেন্ট বলেই বিবেচিত, তাকে নিয়ে এই ধোঁয়াশা না তৈরী করলেই পারতো বাংলার ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ও তার বর্তমান শীর্ষ কর্তারা।

