দেশের ফুটবলকে সাফল্য উপহার,মছলন্দপুরের রাজরূপকে রাজকীয় সংবর্ধনা

আমেদাবাদে ইতিহাস রচনা মছলন্দপুরের রাজরূপের

1
127

 

ময়দান আপডেট: সদ্য অনুর্দ্ধ ১৭ এশিয়া কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে শক্তিশালী ইরানের বিরুদ্ধে আমেদাবাদের মাটিতে ইতিহাস রচনা করেছে ভারতের ছোটরা। যেখানে ভারতের সিনিয়র দলের ব়্যাঙ্কিং ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছে। সেখানে এশিয়া কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের ম্যাচে ২-১ গোলে ইরানকে হারিয়ে বাছাই পর্ব থেকে মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে ভারতীয় অনুর্ধ্ব ১৭ দল। আর সেই দলের সাফল্যের অন্যতম কারিগর অবশ্যই বাংলার মছলন্দপুরের মাত্র ১৬ বছর বয়সের তরুণ তুর্কি বাঙালি গোলকিপার রাজরূপ সরকার। ওই ম্যাচে ভারতীয় দলের গোলপোস্টের রক্ষাকবচ হিসাবে গোটা ৯০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকে শক্তিশালী ইরানকে থামিয়ে দিয়েছে রাজরূপ। তাঁর খেলায় অত্যন্ত খুশি দলের কোচ থেকে অন্যান্য ফুটবলাররা। আগামী বছর সৌদি আরবে হবে মূল প্রতিযোগিতা। রাজরূপের প্রথম একাদশ যে নিশ্চিত তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

অনুর্ধ্ব-১৭ ভারতীয় দলকে সাফল্য উপহার দিয়ে রাজরূপ মছলন্দপুরের বাড়িতে ফিরতেই একেবারে যেন উৎসবের মেজাজ গোটা এলাকা জুড়ে। নিজেদের ঘরের ছেলে এখন ভারতীয় ছোটদের দলের তারকা। বর্তমান দিনের উঠতি ফুটবলারদের কাছে এখন কার্যত আইকন হয়ে উঠেছে রাজরূপ। ফলে তাঁকে ঘিরে প্রতিদিনিই এলাকায় চলছে সংবর্ধনার আয়োজন। কখনও নিজের পাড়ায় তো, কখনও মামার বাড়ির পাড়াতে। মালা বদল থেকে ফুল-চন্দনে বরণ করে ছেলেকে আর্শীবাদ করতে রাজরূপের বাড়িতে ভিড় করছেন এলাকার বাসিন্দারা। এমনকি কেক কাটা থেকে ফটো সেশন এর পালা! রাজরূপ এখন পাড়ার সকলের কাছে গর্ব! আর হবে নাইবা কেন, বিশ্বের বুকে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে সে। বাঙালি ছেলে হিসাবে দেশের হয়ে সাফল্য পাওয়ায়, বাংলার ফুটবলের জন্যও গর্বের অধ্যায়।

যদিও বাংলার কোনও ক্লাব থেকে ভারতীয় দলে নয়। রাজস্থানের জিঙ্ক ফুটবল অ্যাকাডেমি থেকেই ভারতীয় দলে সুযোগ করে নেয় রাজরূপ। আর রাজরূপের এই সাফল্যে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে তাঁর অ্য়াকাডেমির গোলকিপার কোচ কল্যাণ মিত্রের। তবে রাজরূপ জানায়, বয়স কম থাকায় এবং উপযুক্ত সময় হাতে না থাকায় সেই সময় বাংলার কোনও ক্লাবে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেনি। কোচ কল্যাণ মিত্রের হাত ধরে রাজস্থানের অ্যাকাডেমিতেই ভর্তি হয়। আর সেখান থেকেই সুযোগ হয় ভারতীয় দলে। তবে রাজরূপের অবশ্যই স্বপ্ন আগামী দিনে তাঁর পছন্দের ক্লাব মোহনবাগানের জার্সিতে মাঠে নেমে খেলা, মোহনবাগান ক্লাবে খেলা। তবে এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য অতীতে এই মছলন্দপুর থেকেই উত্থান হয়েছিল মোহনবাগানের প্রাক্তন গোলকিপার তথা দীর্ঘ দিনের অধিনায়ক শিল্টন পালের। আর এবার সেই মছলন্দপুর থেকেই আবারও মোহনবাগানের গোলকিপার হিসেবে উঠে আসাই লক্ষ্য ছোট রাজরূপের।

বর্তমানে দশম শ্রেণীর ছাত্র রাজরূপ। তবে রাজরূপের বাবা-মা, মামার বাড়ির দাদু-দিদা কিংবা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা সকলেই বলছেন, রাজরূপ নিজের সাফল্যের জন্য যেটা করা সঠিক মনে করবে সমস্ত সিদ্ধান্তে পাশে থাকবেন সকলে। পড়াশোনা এবং ফুটবল দুই একসঙ্গে চালিয়ে যেতে চায় রাজরূপ। পাশাপাশি আগামী দিনে ভারতীয় সিনিয়র দলের হয়েও দেশের হয়ে খেলতে চান রাজরূপ সরকার। তাঁর পছন্দের ফুটবলার সুনীল ছেত্রী। তবে এখনও পর্যন্ত ছেত্রীর সঙ্গে সামনা-সামনি দেখা করার সুযোগ হয় নি রাজরূপের। তবে যদি কোনওদিন দেখা হয় কিংবদন্তি সুনীল ছেত্রীর পা ছুঁয়ে প্রণাম করতে চায় সে।

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here