রায়পুরের অতিরিক্ত শিশির ও ভারতের জঘন্য ফিল্ডিং এর সুযোগ কাজে লাগিয়ে সমতায় ফিরল প্রোটিয়ানরা

শনিবার সিরিজের ফাইনাল

0
47
Temba Bavuma (C) of South Africa and Temba Bavuma (C) of South Africa during the 2nd ODI match between India and South Africa at Shaheed Veer Narayan Singh International Cricket Stadium, Raipur, India, on December 3, 2025. Photo: Arjun Singh / CREIMAS for BCCI

 

ময়দান আপডেট: কার্যত অবিশ্বাস্য! কিন্তু সেটাই সম্ভব করে দেখাল প্রোটিয়ানরা। বিরাট-ঋতুরাজের সেঞ্চুরিতে ভর করে সাউথ আফ্রিকার সামনে জয়ের জন্য ৩৫৯ রানের এক বিশাল টার্গেট খাড়া করেছিল ভারতীয় দল। যা জয়ের জন্য মনে হয়েছিল যথেষ্ট রান। যদিও ভারতীয় ব্যাটিংয়েও কিছু গাফিলতি ছিল। শেষ দশ ওভারে উপযুক্ত রান তুলতে না পারার কারণে, ৩৫৯ রানে আটকে যায় ভারত। না হলে স্কোরটা বোধ হয় 400 কাছাকাছি যেতে পারতো। আর এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে যখন সাউথ আফ্রিকা ব্যাট করতে নামে রায়পুরের আবহাওয়ায় অত্যাধিক পরিমাণ শিশির পড়তে থাকায় মাঠ ভিজে যায়। এদিনের ম্যাচের টস বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াল তা স্পষ্ট। এদিন টস জিতে বুদ্ধি করেই সাউথ আফ্রিকা প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ তারা জানত রায়পুরের উইকেটে শিশির পড়লে চরম বিপাকে পড়বেন পরে ফিল্ডিং করতে আসা বোলাররা। আর সেই সুযোগ সহজেই কাজে লাগাতে পারবে সাউথ আফ্রিকা। আর হলও তাই। অতিরিক্ত পরিমাণ ডিউ থাকায়, বল গ্রিপ করতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল ভারতীয় বোলারদের। তার সুবিধা নিল দক্ষিণ আফ্রিকা। এডেন মার্করাম, টেম্বা বাভুমা, ম্যাথু ব্রিৎজকে, ডেওয়াল্ড ব্রেভিসদের ব্যাটে হাসতে হাসতে ৩৫৯ রান তাড়া করে ৪ উইকেটে জিতল দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতের মাটিতে দ্বিতীয় সর্বাধিক রান তাড়া করল তারা। এক দিনের সিরিজে সমতায় ফিরল দক্ষিণ আফ্রিকা। শনিবার বিশাখাপত্তনমে হবে সিরিজের ফয়সালা। তবে এদিন আদিন মার্করামের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি! কিংবা ম্যাথু ব্রিৎজকে, ব্রেভিসের হাফসেঞ্চুরি বা করবিন বশের শেষ মুহূর্তের অনবদ্য লড়াই থাকলেও ভারতীয় দলের ফিল্ডিং ও বোলিংয়ের গাফিলতিও চরমভাবে প্রকাশ্যে এল। এত ক্যাচ ও ফিল্ডিং মিস করলে ম্যাচ জেতা যে যায় না, তা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। এদিন বেশ কিছু সহজ ফিল্ডিং মিস করেন দলের অন্যতম সেরা ফিল্ডার হয়ে রবীন্দ্র জাদেজাও। আর অন্যদের কথা তো বলাই বাহুল্য। আর তারই খেসারত দিতে হল ভারতীয় দলকে।

উল্লেখ্য তবে এদিন রাঁচির পর রায়পুর। আবারও জ্বলে উঠে কিং কোহলির বিরাট ঝলক। কার্যত রাজকীয় মেজাজে প্রোটিয়ান বোলারদের সামনে বিধ্বংসী ব্যাটিং কোহলির। এদিন টস জিতে ভারতকে ব্যাট করতে পাঠান সাউথ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা ভাবুমা। উল্লেখ্য এই ম্যাচে সাউথ আফ্রিকার দলে তিনটি পরিবর্তন করা হয়। দলে কামব্যাক করেন টেম্বা ভাবুমা, কেশব মহারাজ, ও লুঙ্গি এনগিডি। তবে এদিন ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করলেও খুব বেশি সময় ইনিংসে টিকে থাকতে পারেননি রোহিত শর্মা। মাত্র ১৪ রানে রোহিতকে ফিরিয়ে দেন বার্গার। এরপর যশস্বী জয়সওয়ালকে সঙ্গে নিয়ে দলের রানের গতি বাড়াতে থাকেন বিরাট। তবে অতিরিক্ত আক্রমণাত্বক মেজাজে খেলতে গিয়ে যশস্বী জয়সওয়াল ২২ রানে মার্কো জনসনের বলে ভুল শট নিতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরে যান। কিন্তু এরপর চার নম্বরে আসা ঋতুরাজ গায়কোয়াডকে সঙ্গে নিয়ে প্রোটিয়ান বোলারদের কার্যত ডোন্ট কেয়ার করে দ্রুত গতিতে রান তাড়া করতে থাকেন বিরাট-ঋতুরাজ। অসাধারণ একটা বর্ণময় পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন তারা। দুজনেই হাফসেঞ্চুরি পার করে, সেঞ্চুরির পথে এগিয়ে যান। তবে এদিন বেশ কিছু খারাপ ফিল্ডিং, ক্যাচ মিস থেকে পর্যান্ত পরিমাণ অতিরিক্ত বল করায় নিজেদের সামনে টার্গেটের বহর বাড়িয়ে ফেলে সাউথ আফ্রিকা। এদিন জীবনের প্রথম মাইলস্টোন স্পর্শ করে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের প্রথম সেঞ্চুরি করলেন ঋতুরাজ। তাঁর লড়াইকে কুর্নিশ জানান কিং কোহলি। তবে ১০৫ রান করে ফিরে যান ঋতুরাজ। অন্যদিকে পর-পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুই ওয়ানডে ম্যাচে দলকে সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে গোটা গ্যালারিকে মাতিয়ে দেন কোহলি। ৯০ বলে ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের ৫৩ তম সেঞ্চুরি হাঁকালেন বিরাট।

আর এদিনও সেঞ্চুরির পর চেনাভঙ্গিতে বিরাট জাম্প দিলেন কোহলি। তবে এরপর ছয় মারতে গিয়ে ১০২ রানে ফিরলেন কোহলি। কিন্তু এই জুটি ভেঙে যাওয়ার পর কেএল রাহুল কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করলেও, অপরদিকে যোগ্য পার্টনারশিপের অভাবে কিছুটা চাপে পড়ে যায় ভারত। একটা সময় মনে হচ্ছিল রানটা বোধহয় ৪০০ পেরিয়ে যাবে। তবে শেষ ১০ ওভারে রাহুল-জাদেজারা সেভাবে আক্রমণাত্বক হতে না পারায়, ৫ উইকেটে ৩৫৮ রানে আটকে যায় ভারত। যদিও হাফসেঞ্চুরি করেন কেএল রাহুল। তিনি অপরাজিত থাকেন ৬৬ রানে। ফলে প্রোটিয়ানদের টার্গেট দেয় ৩৫৯ রানের। তবে এত বিশাল স্কোর টার্গেট রেখেও শেষ রক্ষা হল না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here