প্রতিভা অন্বেষণে আয়োজিত BSL এ সুযোগ থেকে সত্যেই কি বঞ্চিত অনেক প্রতিভা !

বেঙ্গল সুপার লিগের মাধ্যমে যোগ্যতা মানদন্ড নিরপেক্ষ হবে ?

1
92

সৌরভ রায়, সম্পাদক

ময়দান আপডেট: আর কয়েকদিন পরেই সাড়ম্বরে বাংলার ফুটবলে সংযোজন হতে চলেছে এক অভিনব টুর্নামেন্টের। শ্রাচী গ্রুপের উদ্যোগে বাংলার ফুটবল প্রতিভা তুলে আনার লক্ষ্য নিয়ে আইএফএর সহায়তায় শুরু হচ্ছে বেঙ্গল সুপার লিগ। রাজ্যের সবকটি জেলাকে কয়েকটি জোনে ভাগ করে ফুটবলারদের ট্রায়ালের মাধ্যমে বিএসএলে তুলে আনা হচ্ছে। সাম্প্রতি কলকাতা লিগ চলাকালীন দেখা গিয়েছিল লিগের বিভিন্ন ম্যাচের খেলার পরিদর্শন করতে মাঠে-মাঠে ঘুরছেন, বেঙ্গল সুপার লিগের প্লেয়ার নির্বাচক কমিটির পরিদর্শকরা। যে তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার হিসাবে মেহেতাব,নবি, অ্যালভিটোদের মতো প্রাক্তন তারকারা। এমনকি কলকাতা লিগ শেষ হতে না হতেই প্রিমিয়ার ডিভিশনের বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তাদের ফোন করা হয় শ্রাচী গ্রুপের পক্ষ থেকে। সূত্রের খবর, প্রিমিয়ার ডিভিশনের প্রত্যেক ক্লাব থেকে সাত থেকে আটজন করে ফুটবলারদের নাম, ফোন নম্বর নেওয়া হয়। এমনকি তাঁদের পারফম্যান্সের বিষয়ে খোঁজ-খবর নেওয়া হয় শ্রাচীর পক্ষ থেকে।

পঞ্জাবের সহজ ডিফেন্স ভেঙে ৩-১ গোলে জিতে ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল

পঞ্জাবের সহজ ডিফেন্স ভেঙে ৩-১ গোলে জিতে ফাইনালে ইস্টবেঙ্গল

এর কয়েক দিনের মধ্যেই প্রত্যেক ক্লাবের সেই সমস্ত ফুটবলারদের ফোন করা হয় শ্রাচীর পক্ষ থেকে। কোনও কোনও ফুটবলারদের একাধিকবারও ফোন করা হয়। তাঁদের থেকে পরিচয় পত্র সহ খেলার বিভিন্ন নথি অনলাইনে পাঠাতে বলা হয়। সেই মতো ফুটবলাররা উপযুক্ত নথি অনলাইনে পাঠান, তাঁদের বলা হয় খেলার তারিখ ঠিক হলে ডেকে নেওয়া হবে। তারপর কেটে গেছে প্রায় একমাস। অনেক ফুটবলাররাই এরপর থেকে অপেক্ষা করে বসে আছে কবে বেঙ্গল সুপার লিগে খেলার ডাক আসবে। কেউ গোয়া লিগ তো আবার কেউ অন্যান্য রাজ্যের বিভিন্ন লিগে খেলা ছেড়েও বিএসএল খেলার আশায় বাড়ি ফিরে এসেছেন। অথচ সূত্রের খবর, যেমনটা জানা যাচ্ছে বেঙ্গল সুপার লিগে খেলার জন্য কলকাতা লিগের প্রিমিয়ার ডিভিশনের কিছু ক্লাব থেকে ৭-৮ তো অনেক কম, ১২ থেকে ১৪ জন ফুটবলারকেও দলে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ ব্রাত্য থেকে গেছে কিছু ক্লাব। যাদের ফুটবলারদের ফোন করে নথি-পত্র নেওয়ার পরেও, তাঁদের টিমের কোনও ফুটবলারকে এখনও পর্যন্ত বেঙ্গল সুপার লিগের জন্য ডাকা হয় নি। ফলে হতাশ সেই সমস্ত ফুটবলাররা। আবার সেই নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় নিজেদের ক্ষোভ-হতাশার কথাও পোস্ট করতে দেখা গিয়েছে অনেক ফুটবলারদের। তাঁরা জানায় এমন অনেক ফুটবলারদের বেঙ্গল সুপার লিগের জন্য নেওয়া হয়েছে যারা কলকাতা লিগে কোনও ম্যাচেই টিম জার্সি পায়নি। এমনকি খেপের মাঠে খেলা ফুটবলারদেরও বিএসএলে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। অথচ কলকাতা লিগে ভালো খেলা উপহার দিয়ে দর্শকদের মন জয় করার পরেও, অনেক ফুটবলার এই নয়া টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ থেকে ব্রাত্য থেকে যাচ্ছে।

যদিও এই বিষয়ে সরাসরি সংবাদ মাধ্যমের সামনে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তাঁরা মুখোমুখি হতেও ভয় পাচ্ছে। কারণ তাঁদের আশঙ্কা যদিও এই সময় তাঁদের অভিযোগের কথা সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ্যে জানায় ভিডিও বার্তায়, তাহলে হয়তো আসন্ন সন্তোষ ট্রফির ট্রায়ালে তাঁদের নাম বাদ পড়ে যেতে পারে। কোচ সঞ্জয় সেনের নেতৃত্বে ময়দানে জোরকদমে চলছে সন্তোষ ট্রফির ট্রায়াল। যেখানে সংবাদ মাধ্যমে লাইভ বা ভিডিও করার কোনও অনুমতি নেই স্পষ্ট জানান হয়েছে বঙ্গ ফুটবল সংস্থার পক্ষ থেকে। ফলে সেখানেও ট্রায়াল নিয়ে এত গোপনীয়তা কেন সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে! তার ফলে বেঙ্গল সুপার লিগে সুযোগ থেকে অনেক প্রতিভারা বঞ্চিত থেকেও, সন্তোষ ট্রফির ট্রায়ালে অংশ নেওয়ার জন্য আপাতত বিএসএল প্রসঙ্গে মুখে কুলুপ আঁটছেন বাধ্য হয়ে। সবমিলিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন থেকেই যাচ্ছে এত বড় বাজেটের বেঙ্গল সুপার লিগ আয়োজন করার মধ্যে দিয়ে সত্যিই কি বাংলার বিভিন্ন জেলার প্রকৃত প্রতিভারা উঠে আসার সুযোগ পাবেন ? বাংলার ফুটবলের মান আগামী দিনে কতটা উন্নতি করবে এই ধরনের সুপার লিগ এখন সেটাই দেখার !

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here