সৌরভ রায়, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: আর মাত্র চারদিনের অপেক্ষা। তারপরেই ১৩ ডিসেম্বর তিলোত্তমায় আসতে চলেছেন ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। আর ভারতীয় ফুটবলের মক্কা যুবভারতী সেজে উঠছে বাঁ পায়ের ম্যাজিসিয়ান এলএম টেনকে স্বাগত জানাতে। আজ থেকে ১৪ বছর ৩ মাস আগে অর্থাৎ ২০১১ সালের ২ সেপ্টেম্বর কলকাতায় শেষবার এসেছিলেন লিও। আর সেই বছর যুবভারতীতে মেসির দল আর্জেন্টিনা, ভেনিজুয়েলার বিরুদ্ধে একটা ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলেছিল। সেই ম্যাচ ঘিরে নীল-সাদা রঙে সেজে উঠেছিল যুবভারতীর গ্যালারি। মেসি-মেসি গর্জনে কাঁপছিল গোটা ফুটবলের মক্কা। আর সেই দিন যুবভারতীর ট্যানেলের ভিতর দিয়ে যখন মাঠের সবুজ গালিচায় প্রবেশ করছিলেন দুই দলের ফুটবলাররা, তখন বাংলার খুদে ফুটবলারদের হাত ধরেই মাঠে নামছিলেন তাঁরা। সেই দিন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি যে ছেলেটির হাত ধরে মাঠে নেমেছিলেন তাঁর নাম প্রাক্তন ফুটবলার প্রদীপ তালুকদারের ছেলে আত্মদীপ তালুকদার। তখন ছোট আত্মদীপের বয়স মাত্র ১১ বছর।

ছোটবেলা থেকেই সে মেসির খেলার ভক্ত। টিভির পর্দায় বহুবার মেসি ও আর্জেন্টিনার ম্যাচ দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে আত্মদীপ। কিন্তু সেই দিন হঠাৎই যুবভারতীর মাঠে আত্মদীপের পাশে দাঁড়িয়ে তার হাত ধরে মাঠে নামেন মেসি। দেখে গোটা শরীরে রীতিমতো শিহরণ জেগে ওঠে আত্মদীপের। বিস্মিত হয়ে যায় সে। মেসির সঙ্গে যুবভারতীর মাঠে নেমে জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিল আত্মদীপ। বিশ্ব ফুটবলের ম্যাজিসিয়ান মেসি তাঁর হাত স্পর্শ করেছিল সেই কথা চিন্তা করলে ১৪ বছর পরেও মনের মধ্যে বিস্ময় জাগে বর্তমানে ২৫ বছরের যুবক আত্মদীপের। আজও ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে ভেসে ওঠে সেই দৃশ্য। তবে এবারও মেসি আসছে কলকাতায়। কিন্তু একটাবার দূর থেকে হলেও যুবভারতীতে গিয়ে তাঁর জীবনের অনুপ্রেরণা মেসিকে দেখতে চায় আত্মদীপ। তবে সুযোগ হবে কিনা জানা নেই। কারণ এখনও পর্যন্ত কোনও যোগযোগ হয়নি তাঁর। তবে অপেক্ষায় আছে হাওড়ার ছেলে আত্মদীপ।

উল্লেখ্য আত্মদীপও একদিন ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিল। হাওড়ার সহযাত্রী ক্লাবে তাঁকে ফুটবলে ভর্তি করেছিলেন তাঁর বাবা প্রদীপ তালুকদার। কিন্তু ২০১৪ সালে ভাইফোঁটার দিনে এক ভয়াবহ স্কুটি দুর্ঘটনায় সব স্বপ্ন চুরমার। আত্মদীপের ফুটবল খেলা তো দূরের কথা, বাঁচার সম্ভবনা নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়। দীর্ঘদিন সেন্স লেস ছিল আত্মদীপ। বহু চিকিৎসার পর ঈশ্বরের কৃপায় আবারও জীবনদান পায় সে। তবে তার কয়েক বছর পর ২০২০ সালে নিজের মাকে হারায় আত্মদীপ। আচমকাই মা মারা যাওয়ায় বাড়িতে নিসঙ্গতা নেমে আসে। বর্তমানে বাড়িতে বাবা ও ঠাকুমাকে নিয়ে দিন গুজরান চলে আত্মদীপের। একটা বেসরকারি সংস্থায় কাজও করছে মেসিভক্ত আত্মদীপ। তবে আজও তাঁর জীবনে শত বাধা-বিধ্ন অতিক্রম করে ঘুরে দাঁড়ানোর মন্ত্র সেই লিওনেল মেসি। কিন্তু মেসিকে আর কোনওদিন সামনে থেকে দেখার সুযোগ হবে কিনা তা জানা নেই হাওড়ার মন্দিরতলার এই যুবকের।
ব্যাটে-বলে অনবদ্য হার্দিক, মাত্র ৭৪ রানে প্রোটিয়ানদের অলআউট করে ১০১ রানে জয়ী ভারত


[…] ১৪ বছর পরেও নিজের হাতে মেসির ছোঁয়া খোঁ… […]