ময়দান আপডেট: সুপার কাপের উদ্দেশ্যে কলকাতা টু গোয়া রওনা দেওয়ার সময় থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল দলের অন্দরমহল। কেন উত্তপ্ত ! তা বোধ হয় বেশ স্পষ্ট ভাবেই জানেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। গোয়া বিমানবন্দরে নামার আগেই নিজেদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ও বচসায় জড়ান ইস্টবেঙ্গল দলের হেড কোচ অস্কার ব্রুজোঁ ও দলের গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দী। তার জেরে গোয়ার হোটেলে না গিয়ে আবারও বিমান ধরে কলকাতা ফিরে আসেন সন্দীপ। তারপর থেকেই স্যোশাল মিডিয়ায় প্রতিবাদের সুর চড়িয়েছেন অস্কারের বিরুদ্ধে সন্দীপ নন্দী। দলের গোলকিপার কোচের পদ থেকে ইস্তফা দেন প্রাক্তন ভারতীয় দলের তারকা গোলকিপার সন্দীপ নন্দী। আর এই ঘটনা মোটেই ভালো ভাবে গ্রহণ করেননি ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের প্রাক্তন ফুটবলাররা। একযোগে অস্কারের বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তাঁরা। আর এই ঘটনার সূত্রপাত আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ডার্বিতে পেনাল্টিতে দেবজিৎকে নামানোর বিষয়কে কেন্দ্র করে। আর সন্দীপ বনাম অস্কার বিরোধের জেরে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের ড্রেসিংরুমের পরিবেশও যথেষ্ট উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সুপার কাপে। যদিও ইস্টবেঙ্গল ম্যানেজমেন্ট অস্কারের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন এই ঘটনায়। প্রত্যাশা করেছিল হয়তো গোয়া থেকে সুপার কাপ আসবে কলকাতায়।

সুপার কাপের গ্রুপ পর্ব থেকে মোহনবাগান বিদায় নিয়ে নেওয়ায় এবং ইস্টবেঙ্গল সেমিফাইনালে ওঠায় লাল-হলুদ সমর্থকদের প্রত্যাশা বেড়েছিল হাজারোগুন। দলের পরিবেশও অনেকটা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে এসেছিল। সেমিতে পঞ্জাবের বিরুদ্ধে ইস্টবেঙ্গলের বড় ব্যবধানে জিতে ফাইনালে ওঠায় ট্রফি জয়ের স্বপ্ন আরও মজবুত হয়েছিল। কিন্তু ফাইনালে এফসি গোয়ার কাছে তাঁদের ঘরের মাঠে ফাতোরদাতে পেনাল্টিতে হার লাল-হলুদের। আর এই হারের পর থেকেই আবারও অস্কারের একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ক্ষুব্ধ প্রাক্তন ফুটবলার থেকে সমর্থকরা। প্রাক্তন ফুটবলার সুমিত মুখার্জী বলছেন, “ফাইনালে খেলা পেনাল্টি পর্যন্ত যাওয়ার কথাই নয়। অনেক আগেই ম্যাচ জিতে নেওয়া উচিত ছিল ইস্টবেঙ্গলের। দলের জাপানি স্ট্রাইকার হিরোসির জঘন্য খেলায় হতাশ সুমিত মুখার্জী। অনেক প্রাক্তন ফুটবলাররাই একযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হিরোসির ভূমিকা নিয়ে। পাশাপাশি হামিদের খেলাতেও খুশি নন প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল তারকা ফুটবলার সুমিত মুখার্জী। হিরোশি ইবুসুকি এদিন ফাইনাল ম্যাচে একাধিক সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন। ফলে এককথায় বলা যায় হিরোসির ইস্টবেঙ্গল জার্সির ওজন বোঝার মতো ক্ষমতাই নেই। আইএসএলে ভালো ফলাফল করতে হলে অতি দ্রুত হিরোসিকে বিদায় জানান উচিত ইস্টবেঙ্গলের। না হলে আরও খারাপ সময় আসবে “। পাশাপাশি উল্লেখ্য ফাইনালে ইস্টবেঙ্গলের হারের পরেই দলের প্রাক্তন গোলকিপার কোচ সন্দীপ নন্দীও প্রশ্ন তুলেছেন এবার কাকে দোষ দেবেন অস্কার? সন্দীপ নন্দীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছেন ইস্টবেঙ্গস কোচ। তার পরেও কোচের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন অনেক সমর্থক। কিন্তু গোয়ার মাটিতে সুপার কাপের ব্যর্থতার পর, কোচ অস্কার ব্রুজোঁর ভূমিকা নিয়েও হতাশ ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। যদিও এখনও পর্যন্ত ফাইনালে দলের ব্যর্থতা নিয়ে কোনও মুখ খোলেননি অস্কার।

