গ্রেফতার শতদ্রু দত্ত, টিকিটের টাকা ফেরত দিলেই কি দর্শকদের ক্ষোভ মিটে যাবে?

মাঠে কেন জলের বোতল নিয়ে অবাধে প্রবেশ ! নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

0
64

ময়দান আপডেট: বিশ্ব ফুটবল মহলের কাছে মাথা নত বাংলার। ভারতীয় ফুটবলের মক্কা বলে অভিহিত করা হয় যুবভারতীকে। অথচ সেই যুবভারতীর এত ভয়ানক ছবি থেকে দেখে আতঙ্কে গোটা দেশ। প্রশ্নের মুখে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা! সবথেকে বড় প্রশ্ন সাধারণত যুবভারতীতে কোনও ধরনের ম্যাচেই যেখানে জলের বোতল নিয়ে ঢোকার অনুমতি থাকে না, সেখানে লিওনেল মেসির মতো বিশ্বফুটবলের কিংবদন্তির উপস্থিতি ঘিরে যেখানে গোটা রাজ্যের মানুষের এত উৎসাহ, সমস্ত টিকিট হাউসফুল হয়ে গিয়েছে, সেখানে কি ভাবে জলের বোতল মাঠে বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হল আয়োজক সংস্থার পক্ষ থেকে ? এমনকি ২০ টাকার জলের বোতল চড়া দামে ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ। তাহলে কী জলের বোতল থেকেও অর্থ কমিশন হিসেবে পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন উদ্যোক্তারা !

মেসি তো ২০১১ সালেও কলকাতায় যুবভারতীতে এসেছিলেন তখন তো কোনও বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে নি। তাহলে এদিন কেন এত লজ্জাজনক ঘটনার সাক্ষী থাকল যুবভারতী! মেসিকে শুধুমাত্র দর্শন করার জন্য কেউ চার হাজার, কেউ পাঁচ হাজার আবার কেউ অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়েও টিকিট কেটে দূর-দূরান্ত থেকে শহরে এসেছিলেন। অথচ মেসিকে এইভাবে নেতা-মন্ত্রীরা মিলে ঘিরে রাখার কারণ কি ! মেসিকে তো চাইলে হুড খোলা গাড়িতে চড়িয়ে গোটা মাঠ ঘোরানো যেতে পারত, সেক্ষেত্রে তো সমর্থকরা সকলেই কাছ থেকে একবার দেখার সুযোগ পেতেন। অথচ এদিন দেখা যায় নেতা-মন্ত্রীদের পরিবার থেকে টলিউডের সেলেবরা এবং কিছু নিরাপত্তারক্ষী কার্যত মেসিকে ঘিরে রাখেন মাঠের মধ্যে। উল্লেখ্য এদিন মেসি ও তাঁর সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো ডি’পল। তারকারাই মেসি ও লুইস সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো ডি’পলের সঙ্গে দেদার সেল্ফি তুলতে ব্যস্ত ছিলেন! আর এত টাকা খরচ করে মাঠে আসা দর্শকদের ধারে-কাছেও নিয়ে যাওয়া হয় নি ফুটবলের রাজপুত্রকে। ফুটবলপ্রেমীদের উন্মাদনা দেখে উচ্ছ্বসিত দেখায় মেসিকে।

ভগ্নপ্রায় ফুটবলের প্রাণকেন্দ্র যুবভারতী ! কতদিনে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে ফুটবলের মক্কা ?

তবে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছু মানুষ ঘিরে ধরেন তাঁকে। ফলে মেসি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন ভালো ভাবে বুঝতেও পারলেন না সাধারণ মানুষ। ফলে গ্যালারি থেকে শুধু মেসিকে নয়, লুইস সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো ডি’পলকেও দেখা যায়নি। এক সময় ক্ষুব্ধ ফুটবলপ্রেমীরা ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান দিতে শুরু করেন।

মোহনবাগান এবং ডায়মন্ড হারবারের প্রাক্তন ফুটবলারদের সঙ্গে মেসি পরিচিত হওয়ার সময়ও ভিড় ঘিরে ছিল তাঁকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্তকে মাইক্রোফোনে ঘোষণা করতে হয়। তাতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। কারণ, মেসি যে ১০ থেকে ১৫ মিনিট মাঠে ছিলেন, সেই সময় গ্যালারি থেকে একবারও দেখা যায়নি তাঁকে। তাহলে এত চূড়ান্ত অব্যবস্থার কারণ কি ? সেই প্রশ্নই এখন ঘোরাফেরা করছে ময়দানে।

পাশাপাশি এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন স্যোশাল মিডিয়ায়। ক্ষমা চাইলেন সমর্থকদের কাছে ও মেসির কাছে। পাপাপাশি তদন্ত কমিটি গঠন করে আয়োজকদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরই গ্রেফতার করা হয় শতদ্রু দত্তকে। আটক করা হয় আরও বেশ কয়েকজনকে। আর এরপরই দ্রুত সাংবাদিক সম্মেলনে টিকিটের সমস্ত টাকা দর্শকদের ফেরত দিতে হবে, না হলে কঠোরতর আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে শতদ্রু দত্তের বিরুদ্ধে। জানান হয় পুলিশের পক্ষ থেকে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল টাকা ফেরত দিলেই মানুষের সব ক্ষোভ চলে যাবে! যারা তাঁদের স্বপ্নের নায়ক লিওকে একবার দেখার জন্য বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করেছিলেন। এত কষ্ট করে দূর-দূরান্ত থেকে টিকিট কেটে খেলা দেখতে আসলেন তাঁদের আবেগ-ভালোবাসার সঙ্গে এই রকম ছেলেখেলা করার কারণ কি? সেই হতাশা আর ক্ষোভের আগুন যে এত সহজে প্রশমিত হবে না সেটা খুবই স্বাভাবিক।

তারকাদের ভিড়ে মেসিকে দেখতে না পেয়ে রণক্ষেত্র যুবভারতী, গ্যালারি ভাঙচুর!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here