ময়দান আপডেট: বাংলা তথা দেশের অন্যতম সেরা স্টেডিয়ামের তকমা দেওয়া হয় যুবভারতীকে। যে যুবভারতীতে অতীতে খেলে গিয়েছেন পেলে-মারাদোনা থেকে মেসি। বিশ্বের তাবড় -তাবড় খেলোয়াড়দের পদধূলি রয়েছে বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গণে। বহু ইতিহাসের সাক্ষী বাংলার ফুটবলের এই প্রাণকেন্দ্র। আইএসএল থেকে এএফসির মতো হাইপ্রোফাইল খেলা আয়োজন করা হয় যুবভারতীতে। বাংলার উঠতি ফুটবলাররা স্বপ্ন দেখে জীবনে একবার হলেও যুবভারতীতে খেলতে নামার। বাংলার ফুটবল জগতের কাছে যুবভারতী শুধুমাত্র একটা স্টেডিয়াম নয়, কার্যত মন্দির তুল্য। অথচ শনিবারের দুপুরের পর সেই যুবভারতীকে কার্যত চেনা যাচ্ছে না। একেবারে ভাঙাচোরা-তছনছ হয়ে গিয়েছে, যেন ভগ্নস্তুপে পরিণত হয়েছে।
তারকাদের ভিড়ে মেসিকে দেখতে না পেয়ে রণক্ষেত্র যুবভারতী, গ্যালারি ভাঙচুর!
গ্যালারির অধিকাংশ চেয়ার ভাঙা। যুবভারতীর যে গোল পোস্ট বহু ইতিহাসের সাক্ষী সেই গোলপোস্টের জাল ছিঁড়ে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছেন উত্তেজিত জনতা। গ্যালারিতে ক্ষোভে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভেঙে দেওয়া হয় খেলোয়াড়দের ঢোকা-বেরনোর টানেল। ভেঙে চুরমার হয় সাউন্ড বক্স। এমনকী বিজ্ঞাপনী ব্যানারও পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

সব মিলিয়ে লন্ডভন্ড যুবভারতী স্টেডিয়াম। এমনকি যুবভারতীর ভিতরের ঘর থেকে বাথরুম বিভিন্ন জায়গা ভাঙচুর করা হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল মেসিকে দর্শন না পেয়ে সমর্থকদের রাগ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হবে এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে ফুটবল প্রেমী মানুষ হয়ে যে ভাবে বাংলার ফুটবলের হৃদপিন্ড যুবভারতীকে ধ্বংস করা হল সেটা কতটা যুক্তিসঙ্গত ? যদিএ এই বছর আইএসএল এখনও শুরু হয় নি। তাই আপাতত হয়তো যুবভারতীতে কোনও বড় ম্যাচ নেই। কিন্তু তাই বলে মাঠের এই পরিণতি! সমস্ত গ্যালারি থেকে গোটা স্টেডিয়াম সংস্কার করে আবারও স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে আনতে কতদিন সময় লাগবে? আর কত টাকাই বা খরচ হবে ! সেটাই এখন দেখার।

সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন থেকে বঙ্গ ফুটবল সংস্থা আইএফএ সকলেই চিঠি দিয়ে এই ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি জানিয়েছেন এই ধরনের অনুষ্ঠান যুবভারতীতে আয়োজনের কোনও অনুমতিও তাদের থেকে নেওয়া হয়নি। তাই এই ঘটনা একদমই অভিপ্রেত নয়! সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র টিকিটের টাকা ফেরত দিলেই হবে শতদ্রু দত্ত? স্টেডিয়াম সংস্কারের ক্ষতিপূরণও দেওয়া কাম্য নয় কি !
গ্রেফতার শতদ্রু দত্ত, টিকিটের টাকা ফেরত দিলেই কি দর্শকদের ক্ষোভ মিটে যাবে?

