ময়দান আপডেট: বাংলা পারল না ! করে দেখাল হায়দরাবাদ। চনমনে মেজাজে হায়দরাবাদে স্টেডিয়ামে বলে শট মারলেন লিওনেল মেসি। খুশি সমর্থকরা। শনিবার সকালে যুবভারতীতে এসে চরম বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেখে মাত্র ১০ মিনিটেই যুবভারতী ছেড়ে বেরিয়ে সোজা এয়ারপোর্টে চলে যান লিওনেল মেসি। এরপর ফ্ল্যাইট ধরে তিনি বিকালে যান হায়দরাবাদে। আর সেখানে স্টেডিয়ামে আয়োজন ও সমর্থকদের উচ্ছ্বাস দেখে বেশ খুশি মেসিও।

আর এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন বাংলার প্রাক্তন তারকা ফুটবলাররা। ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সকলেই। এই বিষয়ে প্রাক্তন ভারতীয় ফুটবলার তথা ইস্টবেঙ্গল অধিনায়ক সুমিত মুখার্জী নিজের প্রতিক্রিয়ায় জানান,তাঁকে কোনও আমন্ত্রণ জানান হয়নি। কোনও প্রাক্তন ফুটবলারদেরও যেতে বলা হয়নি। ফলে মনের মধ্যে আক্ষেপ ছিল। তাই সাধারণ টিকিট নিয়ে গ্যালারিতে গিয়েছিলেন তিনি। মৌমাছির মতো মেসিকে ঘিরে রাখা হল। একবিন্দুও মেসিকে দেখতে পাননি তিনি। মেসি হয়তো টাইব্রেকার মারার কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু চারপাশে যে লোকরা ছিলেন তারা মেসিকে এমনভাবে ঘিরে রাখে যে মেসির যাওয়া সম্ভব হয়নি। সবমিলিয়ে চূড়ান্ত একটা পরিকল্পনার অভাব ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়। যেটা বাংলার ফুটবলের জন্য অত্যন্ত খারাপ একটা অধ্যায় তৈরি করল।

অন্যদিকে আমরা কথা বলেছিলেন প্রাক্তন ফুটবলার মানস ভট্টাচার্যের সঙ্গে। তিনি এদিন মাঠেই ছিলেন প্রতিক্রিয়ায় জানান, এটা বাঞ্চনীয় ছিল না। ফুটবলের লোকের সঙ্গে ফুটবলাররা থাকবে এটাই স্বাভাবিক। অথচ শতদ্রু যাদের নিরাপত্তারক্ষী রেখেছিলেন তাঁরাই গন্ডগোল পাকান। মেসিকে যদি হুড খোলা গাড়িতে করে ঘোরানো হতো, তাহলে এই বিশৃঙ্খলা হত না। পরিকল্পনার অভাব। তবে আমাদের সকলের টাকায় তৈরি করা স্টেডিয়াম যে ভাবে ভাঙচুর করা হল, সেটা খুব অন্যায়। যারা এই কাজ করেছে তারা কখনই ফুটবল প্রেমী হতে পারেন না। এটা মানা যায় না। পাশাপাশি মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গলের পতাকা নিয়ে মাঠে আসুন আসুবিধা নেই। তবে রাজনৈতিক পতাকা নিয়ে মাঠে আসা উচিত নয়। এর সমস্ত দায় আয়োজকদের।

উল্লেখ্য শুক্রবার মধ্যরাতেই শহরে এসে পৌঁছান লিওনেল মেসি। মেসি বিমানবন্দরে নামার বহু আগে থেকেই এয়ারপোর্টে সমর্থকদের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। আর মেসি এয়ারপোর্টের রানওয়ে থেকে বেরিয়ে আসতেই কার্যত উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। সঙ্গে ছিলেন মেসির দীর্ঘ দিনের সতীর্থ এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু লুইস সুয়ারেজ় এবং রদ্রিগো ডি’পল। শনিবার ভোরবেলায় ছোট ছেলে আব্রামকে নিয়ে কলকাতায় আসেন শাহরুখও। সকালেই হোটেলে গিয়ে মেসির সঙ্গে দেখা করেন শাহরুখ। তাঁদের আলাপ করিয়ে দেন মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত। শনিবার সকাল ৯.৩০ থেকে ১০.৩০ পর্যন্ত হোটেলেই চলে মিট অ্যান্ড গ্রিট পর্ব। সকাল ১১ নাগাদ ভার্চুয়ালি শ্রীভূমিতে তৈরি হওয়া ৭০ ফুটের নিজের মূর্তি উন্মেচন করেন এলএম টেন।
গ্রেফতার শতদ্রু দত্ত, টিকিটের টাকা ফেরত দিলেই কি দর্শকদের ক্ষোভ মিটে যাবে?
সবকিছু স্বাভাবিক চলছিল তবে এরপরই তাল কাটল যুবভারতীতে মেসি প্রবেশ করতেই। শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা! মোহনবাগান ক্লাবের পক্ষ থেকে জার্সি উপহার দেওয়া হয় মেসির হাতে। উপহার তুলে দেন দেবাশীষ দত্ত ও সৃঞ্জয় বসু। পাশাপাশি এদিন নেতা-মন্ত্রীদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দেখা যায় মেসিকে ঘিরে রেখেছেন মোহনবাগান ও ডায়মন্ড হারবার ক্লাবের কর্মকর্তারা, সঙ্গে উপস্থিত তাঁদের পরিবারের অনেকেই। কেন তাঁদের সবাইকে মেসির কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল জানা নেই সেই উত্তর ! অথচ মেসির অনুষ্ঠানে ডাক পাননি বহু প্রাক্তন তারকা ভারতীয় দলে খেলা থেকে মোহনবাগান-ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা!
তারকাদের ভিড়ে মেসিকে দেখতে না পেয়ে রণক্ষেত্র যুবভারতী, গ্যালারি ভাঙচুর!

