ময়দান আপডেট: পঞ্জিকা মতে ২৩ জানুয়ারি বাঙালির ভ্যালেন্টাইনস ডে অর্থাৎ সরস্বতী পুজো। আর ১৪ ফেব্রুয়ারি গোটা বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হয় ভালোবাসার দিবস অর্থাৎ ভ্যালেন্টাইনস ডে। আর এবার ভ্যালেন্টাইনস ডে হয়ে উঠতে চলেছে দেশের ফুটবল প্রেমীদের জন্য FOOTBALL LOVERS DAY। তার কারণ দীর্ঘ প্রায় ৫ মাসের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি ফিরতে চলেছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ( ISL)। দেশের ফুটবলে কার্যত অচলাবস্থা অব্যাহত। ফুটবল না থাকায়, কার্যত মন খারাপ ফুটবল প্রেমীদের। দেশের সর্বোচ্চ লিগ শুরু হওয়া নিয়ে নানান সমস্যা,জটিলতা যেন কাটতেই চাইছিল না। তার জেরে আশাহত হয়ে অনুশীলন বন্ধ রেখেছে বেশ কিছু ক্লাব। এমনকি বেশ কিছু আইএসএল দলের বিদেশী ফুটবলাররা দেশ ছেড়ে অন্য দেশের ক্লাবে যুক্ত হয়েছেন। আর্থিক সঙ্কট থেকে আইনি জটিলতা,যেন কোনও ভাবেই সমাধান সূত্র খুঁজে পাচ্ছিল না ফেডারেশন। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক থেকে বিভিন্ন ক্লাব জোটের দফায়-দফায় বৈঠক, বাজেট নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা! চলেছে সবকিছুই। অবশেষে সোমবারের ফিনান্স কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে ফের বৈঠকে বসে এআইএফএফের কার্যকরী কমিটি। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের কার্যকরী কমিটির সদস্যদের পাশাপাশি ১৪ টি দলের প্রতিনিধি এবং কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যর।

আর এই বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে আইএসএল শুরু হচ্ছে। ১৪টি দলই তাতে অংশ নেবে। বৈঠকের পর স্যোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে তা জানান কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যর। সেই বৈঠকেই আইএসএলের সম্ভাব্য রোডম্যাপ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ক্লাবগুলিকে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল ক্রীড়ামন্ত্রী তো জানিয়ে দিলেন লিগ শুরু হচ্ছে তবে ফেডারেশনের আর্থিক সমস্যা কি ভাবে মিটবে? লিগের অর্থ কি ভাবে যোগার হবে তার কোনও দিশা দেখাতে পারেনি ফেডারেশন। জানা গিয়েছে, ফেডারেশন স্পনসরের জন্য নতুন করে টেন্ডার ডাকতে চলেছে। সেটার জন্য আগের টেন্ডারে কিছু শর্ত শিথিল করা হচ্ছে। যার জন্য আবার সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি প্রয়োজন। সব ঠিক থাকলে বুধবারই শীর্ষ আদালতে টেন্ডারের শর্ত শিথিল করার আবেদন করা হবে। এবং আগামী ১০ জানুয়ারি নতুন করে টেন্ডার ডাকা হবে। সমস্যা হল, আগের বার এই টেন্ডার ডাকার পরও কোনও সংস্থা আগ্রহ দেখায়নি। এবারও দেখাবে তাঁর কোনও নিশ্চয়তা নেই।
বেঙ্গল সুপার লিগে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ IFA-শীর্ষকর্তার,ক্ষুব্ধ শ্রাচী! তদন্তের নির্দেশ পুলিশকে
এদিন বৈঠকে জানান হয়েছে, প্রতিটি দল প্রত্যেক দলের বিরুদ্ধে একটি করে ম্যাচ খেলবে। ম্যাচগুলি হবে হোম ও অ্যাওয়ে ভিত্তিতে। তারপর আগের মতোই নকআউট। অর্থাৎ প্রত্যেক ক্লাব কিছু হোম ম্যাচ খেলবে, কিছু অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলবে। ক্লাবগুলিই ঠিক করবে কোন ম্যাচ তাঁরা হোম এবং কোন ম্যাচ অ্যাওয়ে খেলতে চায়। জানা গিয়েছে, লিগ আয়োজনের মোট খরচ ঠিক করা হয়েছে ২৪ কোটি ২৬ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে এআইএফএফ দেবে ৯ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা। বাকি টাকা ক্লাবগুলি দেবে। লিগের স্বার্থে প্রতিটি ক্লাবই ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি হিসাবে ১ কোটি টাকার কিছু বেশি দিতে রাজি হয়েছে। সেই সঙ্গে হোম ম্যাচের খরচও তারা চালাবে।
