সৌরভ রায়, মৃন্ময় গুপ্ত, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: আইএসএলের দিন ঘোষণা হতেই সমস্ত দলগুলির মধ্যে অনুশীলনে তৎপরতা বেড়েছে। আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে চলেছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ। জোরকদমে অনুশীলন সারছে একদিকে মোহনবাগান, অন্যদিকে পিছিয়ে নেই লাল-হলুদ শিবিরও। ৫ তারিখ থেকে যুবভারতী প্রাকটিস গ্রাউন্ডে অনুশীলনে নেমে পড়েছে ইস্টবেঙ্গল। প্রথম দুইদিন ক্লোজডোর প্রাকটিস হলেও, বুধবার ৭ তারিখ সংবাদ মাধ্যমের জন্য প্রথম ১৫ মিনিট অনুশীলন দেখার ও কভারেজ করার সুযোগ ছিল। ফলে এদিন অনুশীলনে দেখা গেল সুপার কাপের ব্যর্থতা ভুলে আইএসএলকে পাখির চোখ করে দলের ফুটবলারদের নিয়ে অনুশীলনে সিরিয়াস মুডে কোচ অস্কার ব্রুজোঁ। ইস্টবেঙ্গলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে দলের মরক্কোর স্ট্রাইকার হামিদ আহদাদকে। তার বিকল্প ফুটবলার হিসাবে বেশ কয়েকজন বিদেশী ফুটবলারের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। এদিন ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলনে দেখা গেল বেশ চনমনে মেজাজে অনুশীলনে ব্যস্ত সাউল, রশিদ,হিরোসি,কেভিন সিবিল্লে এই চার বিদেশী। তবে দেখা নেই দলের তারকা বিদেশী মিগুয়েলের। যদিও জানা গিয়েছে মিগুয়েল ইতিমধ্যেই কলকাতায় এসে গেছেন। সম্ভবত বৃহস্পতিবার থেকে দলের অনুশীলনে যোগ দেবেন মিগুয়েল।

এছাড়া এদিন ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলনে আসলেও সম্পূর্ণ ফিট না থাকায়, দলের অন্যান্য ফুটবলারদের থেকে কিছুটা দূরত্বে ফিজিক্যাল ট্রেনারের সঙ্গে সময় কাটাতে দেখা গেল আনোয়ার আলি ও নন্দকুমার শেখরকে। পাশাপাশি সন্তোষ ট্রফির দলে থাকায় সিনিয়র দলের অনুশীলনে উপস্থিত ছিলেন না দলের সায়ন,তন্ময়,মনতোষদের মতো বাঙালি ফুটবলাররা। এদিন অনুশীলনের শুরুতে প্রথমে কিছুটা ফিটনেস ট্রেনিং করানো হয় ফুটবলারদের।
এরপর দেখা যায় দুটি গ্রুপে ভাগ করে ফুটবলারদের ছোট-ছোট পাশ খেলানো হয়। পাশাপাশি নিজেদের মধ্যে ম্যাচও খেলেন ফুটবলাররা। সবমিলিয়ে আইএসএলের আগে শেষ একমাস নিজেদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে সাফল্য ছিনিয়ে নেওয়ায় লক্ষ্য লাল-হলুদ ব্রিগেডের। উল্লেখ্য এদিন দলের অনুশীলন দেখতে যুবভারতীতে উপস্থিত ছিলেন ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের শীর্ষ কর্তা দেবব্রত সরকার সহ অন্যান্য বেশ কয়েকজন অফিসিয়ালরা। দলের অনুশীলন শেষ হওয়ার পর দেবব্রত সরকার জানান, তিনি আগেই বলেছিলেন লিগ হবে। তবে অবশেষে যে লিগ হচ্ছে এটাই ভালো খবর। তবে তিনি আশাবাদী এই একমাসে ইস্টবেঙ্গল দল নিজেদের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে লিগে ভালো ফলাফল করবে। আর হামিদের বিকল্প ফুটবলারের নাম খুব শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।

অন্যদিকে মেসির কলকাতা সফর ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল যুবভারতী। ভগ্নপ্রায় ছবি ফুটে উঠেছিল যুবভারতীর গ্যালারি জুড়ে। ফলে এই বছরের আইএসএলের ম্যাচ যুবভারতীতে আদৌও করা সম্ভব কিনা সেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল। তবে আইএসএলের দিন ঘোষণা হতেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে যুবভারতীর সংস্কারের কাজ।

এই একমাসের মধ্যেই রাজ্য সরকার যুবভারতীকে আগের চেহারায় ফেরাতে বদ্ধপরিকর। তাই এদিন দেখা গেল ভাঙাচোরা গ্যালারি সারানোর কাজ চলছে জোরকদমে। কলকাতায় যুবভারতীতে হোম ম্যাচ আয়োজন করতে মরিয়া রাজ্য সরকার ও বঙ্গ ফুটবল সংস্থা।
আবারও বৈভব ঝড় প্রোটিয়াভূমে! সিরিজ হোয়াইটওয়াশ টিম ইন্ডিয়া জুনিয়রদের
