সৌরভ রায় ও সোনালি চ্যাটার্জী, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: চলতি আইএসএলে প্রথম দুই ম্যাচে নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড ও স্পোর্টিং ক্লাব দিল্লির বিরুদ্ধে জিতে অনেকটাই স্বস্তি ফিরে পেয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরা। কিন্তু শেষ ম্যাচে জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে এক গোলে এগিয়ে থেকেও ২-১ গোলে হার হজম করতে হয়েছে লাল-হলুদ বাহিনীকে। একটি ম্যাচ হেরেই পয়েন্ট টেবিলে অনেকটাই নিচে নেমে গেছে ইস্টবেঙ্গল। আর বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল মুখোমুখি হয় মানালো মার্কোয়েজের শক্তিশালী এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে। আর এদিন ইস্টবেঙ্গলের দলে কামব্যাক করলেন সাউল ক্রেসপো ও নাওরেম মাহেশ সিং। আগের দিন অ্যান্টন সোজবার্গ ও ইউসুফ হিজ্জেজারিকে প্রথম একাদশে রাখা হলেও, এদিন অ্যান্টনকে প্রথম একাদশে না রেখে রিজার্ভ বেঞ্চে রাখা হয়। পাশাপাশি প্রথম একাদশে যোগ দিলেন নাওরেম মাহেশ সিং। সাউলকে রাখা হয় রিজার্ভ বেঞ্চে।

ম্যাচের ৭ মিনিটে দুর্দান্ত ট্যাকেল আনোয়ার আলির। ইশান পন্ডিতার শট রুখে দিয়ে গোল বাঁচালেন তিনি। ১১ মিনিটে দূরপাল্লার ভালো শট নেন মিগুয়েল, যদিও গোল আসেনি। ১৩ মিনিটে আবারও দুর্দান্ত ডিফেন্স আনোয়ার আলির। ইশান পন্ডিতার শট রুখে দেন আনোয়ার। ১৭ মিনিটে ইউসুফ হিজ্জেজারির বাড়ানো বলে মিগুয়েলের শটে গোল রুখে দেন সন্দেশ জিঙ্গান। ২৩ মিনিটে ড্রাজিসকে ফাউল করেন এডমুন্ড। ২৭ মিনিটে বিপিনের বাড়ানো বলে সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন ইউসুফ হিজ্জেজারি। ৩৫ মিনিটে ভালো গোলের সুযোগ তৈরি করেন এফসি গোয়ার হয়ে ব্রাইসন, গোল রুখে দেন গোলকিপার প্রভসুখন গিল। ৩৯ মিনিটে আবারও ইস্টবেঙ্গলের পোস্ট লক্ষ্য করে শট নেন ইশান পন্ডিতা, তবে সুযোগ রুখে দেন প্রখসুখন গিল। কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ফের ইশানের শট রুখে দেন গিল। ৪১ মিনিটে বরিস সিং এর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ফলে প্রথমার্ধে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ঘন-ঘন আক্রমণে উঠতে দেখা যায় এফসি গোয়াকে। তবে ৪৩ মিনিটে রশিদের দূরপাল্লার শট গোয়ার পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ৩ মিনিট অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়। তবে ওই সময়ে আর কোনও গোল আসেনি। ফলে প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবে।

খেলার দ্বিতীয়ার্ধে ৪৯ মিনিটে বরিস সিং এর আঘাতে চোট পান নাওরেম মাহেশ সিং। হলুদ কার্ড দেখানো হয় বরিসকে। ৫৬ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন ইস্টবেঙ্গলের। মাহেশের জায়গায় নামেন বিষ্ণু, এডমুন্ডের জায়গান নামেন অ্যান্টন সোজবার্গ। ৭২ মিনিটে গোলের সুযোগ রশিদ তৈরি করলেও, গোল আসেনি। ৭৬ মিনিটে রায়ান ফার্নান্দেজের শট প্রতিহত হয়ে ফিরে আসে। ৭৭ মিনিটে লালচুঙ্গনুঙ্গার জায়গায় নামেন জয় গুপ্তা। ৮৯ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল বিপিনের জায়গায় নামান ডেভিডকে। ৯১ মিনিটে মিগুয়েলের শটে গোলের সুযোগ থাকলেও, কাজে লাগাতে ব্যর্থ অ্যান্টন সোজবার্গ। ফলে গোল ম্যাচ জুড়ে কার্যত অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলেই ম্যাচ সমাপ্ত করল দুই দলই। তবে এদিন একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করল দুই দলই। যদিও ম্যাচের শেষের দিকে একটি হ্যান্ডবলের আবেদন করেন ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা, কিন্তু রেফারি পেনাল্টি দেননি। গোলশূন্য ড্র ম্যাচ।ফলে পয়েন্ট টেবিলে ৪ ম্যাচ খেলে ৮ পয়েন্ট গোয়ার, ৭ পয়েন্ট ইস্টবেঙ্গলের।
প্রথমবার টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি নিউজিল্যান্ডের, প্রতিপক্ষ ভারত নাকি ইংল্যান্ড? জল্পনা তুঙ্গে
