Monday, March 23, 2026
Homeক্রিকেটআমেদাবাদের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি স্যান্টনারের! হাসিখুশি মেজাজে সূর্য

আমেদাবাদের দর্শকদের স্তব্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি স্যান্টনারের! হাসিখুশি মেজাজে সূর্য

যে দুইজন ক্রিকেটারকে বসানো হবে কিনা আলোচনা হচ্ছে, তারা হলেন গত কয়েকটি ম্যাচে অত্যন্ত খারাপ বোলিং প্রদর্শন করা বরুণ চক্রবর্তী ও ওপেনার অভিষেক শর্মা। এই প্রসঙ্গে ধোঁয়াশা রাখলেন সূর্য। তিনি বলেন, ম্যাচের দিনেই সবটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ময়দান আপডেট: দেখতে-দেখতে কাউন্টডাউন প্রায় শেষ। আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। তারপরেই টি-২০ বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। রণভূমি প্রস্তুত, প্রস্তুত যোদ্ধারাও। আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে রবিবাসরীয় বিশ্বকাপের মেগা ডুয়েলে মুখোমুখি হয়ে চলেছে ভারত ও নিউজিল্যান্ড। দেশের বৃহত্তম স্টেডিয়ামে রবিবার সন্ধ্যায় তৃতীয়বারের জন্য বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি টিম ইন্ডিয়ার সামনে। অন্যদিকে প্রথমবার টি-২০ বিশ্বকাপ জয়ের সুযোগ কিউয়িদের সামনে। এখনও পর্যন্ত একাধিকবার ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং একবার টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে খেললেও শেষরক্ষা হয়নি তাদের। দ্বিতীয়বারের জন্য টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাল নিউজিল্যান্ড। তারা এর আগে শুধুমাত্র ২০২১ সালে টি-২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে কিন্তু সেবারও অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় কিউয়িরা। আর ২০২৬ সালে সাউথ আফ্রিকাকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল নিউজিল্যান্ড। ফলে এই সুযোগ আর কোনও ভাবেই হারাতে চায়না তারা। আর ভারত ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যে শেষ পাঁচবারের টি-২০ ম্যাচের সাক্ষাতে ২০২৬ সালেই চারবার জিতেছে ভারত, একটি ম্যাচ নিউজিল্যান্ড। 

ভারতের হোম গ্রাউন্ড হওয়ায় অনেকটাই সুবিধা পাবে ভারত, যদিও আমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ভারতের অতীত ব্যাকগ্রাউন্ড খুব একটা মধুর নয়। ২০২৩ সালের ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের ফাইনালে এই স্টেডিয়ামেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল টিম ইন্ডিয়ার। এবারের বিশ্বকাপেও এখনও পর্যন্ত ভারত একটি ম্যাচ হেরেছে গ্রুপ পর্বে সাউথ আফ্রিকার কাছে সেটাও আমেদাবাদেই। ফলে অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এই স্টেডিয়ামে ভারতের ভাগ্য বদলাতে ইতিমধ্যেই ভারতীয় দলের টিম হোটেল থেকে ড্রেসিংরুম বদল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।যদিও বিষয়গুলো অনেকটাই কুসংস্কার! টিম হোটেল বা ড্রেসিং রুম বদলে দলের ভাগ্য কতটা বদলাবে সেটা অজানা।

টি-২০ বিশ্বকাপে এবারে ভারতীয় দল ছন্দে থাকলেও, দলের বোলিংলাইন অনেকটাই চিন্তায় রাখছে টিম ইন্ডিয়াকে। কারণ শেষ ম্যাচে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৫৩ রান করেও,ভাগ্যের জোরে হার বাঁচিয়েছে ভারত। মাত্র ৭ রানে জয় লাভ করেছে সূর্যকুমার যাদবের দল। ১৮ তম ওভারে যশপ্রীত বুমরাহের ভালো বোলিং ভারতের হার বাঁচিয়েছে তা বলা যেতেই পারে। ফলে প্রচুর রান খরচ করছেন ভারতের অন্যান্য বোলাররা। যা ফাইনালের আগে অনেকটাই চিন্তায় রাখছে ভারতকে। পাশাপাশি গোটা বিশ্বকাপ জুড়ে অভিষেক শর্মার অফ-ফর্ম, সেটাও সমস্যায় ফেলেছে ভারতকে। এই সমস্যাগুলি শুধরে ঘুরে দাঁড়ানোর রণনীতি সাজাচ্ছে গৌতম গম্ভীরের বাহিনী। 

তবে রবিবার বিশ্বকাপের ফাইনালে আমেদাবাদের উইকেট কেমন হবে সেই নিয়ে চলছে জোর জল্পনা। আর শনিবার ফাইনালের আগের দিন সন্ধ্যায় অনুশীলনে কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারকে দেখা গেল তিনি মোবাইল ক্যামেরায় পিচের ছবি ক্যামেরাবন্দি করছেন। ঠিক ২০২৩ সালেও একই দৃশ্য দেখা গিয়েছিল অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক প্যাট কামিন্সকে। তিনিও ফাইনালের আগের দিন পিচের ছবি মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করেছিলেন। আমেদাবাদের স্টেডিয়ামে তিন ধরনের উইকেট রয়েছে। একটি লাল মাটির উইকেট, একটি কালো মাটির উইকেট এবং একটি মিক্সিড হাইব্রিড উইকেট অর্থাৎ লাল ও কালো মাটির সংমিশ্রণে তৈরি উইকেট। আর যেমনটা খবর ওই কালো ও লাল মাটির মিশ্রিত উইকেটেই ফাইনাল ম্যাচ খেলা হবে। 

আর ম্যাচের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাল কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারকে। তিনি জানান, আমরা আমেদাবাদের গোটা স্টেডিয়ামকে নিস্তব্ধ করে দিয়ে হৃদয় ভেঙে দিতে প্রস্তুত। অন্যদিকে বেশ হাসিখুশি চনমনে মেজাজে রয়েছেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তিনি স্পষ্ট বলেন, হৃদয় ভেঙে বার্তা দিয়ে প্রত্যেকবারই প্রতিপক্ষ দলের অধিনায়ক হাওয়া গরম করার চেষ্টা করেন। তবে আমরা যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী জয় নিয়ে।

তবে ভারতের দল নির্বাচন কেমন হবে? সেই নিয়ে চলছে জোর চর্চা। যে দুইজন ক্রিকেটারকে বসানো হবে কিনা আলোচনা হচ্ছে, তারা হলেন গত কয়েকটি ম্যাচে অত্যন্ত খারাপ বোলিং প্রদর্শন করা বরুণ চক্রবর্তী ও ওপেনার অভিষেক শর্মা। এই প্রসঙ্গে ধোঁয়াশা রাখলেন সূর্য। তিনি বলেন, ম্যাচের দিনেই সবটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সূত্রের খবর দলে একটাই পরিবর্তন আসতে পারে। বরুণ চক্রবর্তীর জায়গায় সুযোগ পেতে পারেন কুলদীপ যাদব। সবমিলিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালের মতো হাইপ্রোফাইল লড়াইয়ে যে চাপ থাকবে তা বেশ জানে গোটা ভারতীয় দল। তবে ভিতরে চাপ থাকলেও, প্রকাশ্যে দলের সমস্ত ক্রিকেটারদের রিলাক্স হাসিখুশি মাইন্ডে রাখার চেষ্টা করছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। ফলে এখন দেখার শেষ পর্যন্ত আমেদাবাদের অতীত ব্যর্থতা ভুলে, কিউয়িদের লড়াই থামিয়ে তৃতীয়বারের জন্য ট্রফি নিজেদের ঘরে ধরে রাখতে পারে কিনা সূর্যকুমার যাদবের দল!    

আইপিএলের আগে বিভিন্ন দলকে স্বস্তি দিচ্ছে টি-২০ বিশ্বকাপের একাধিক তারকারা!

  

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular