ময়দান আপডেট: বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২৫৩ রানের বিশাল টার্গেট করার পর, রবিবার আমেদাবাদে বিশ্বকাপের ফাইনালে প্রথম ব্যাট করে নিজেদের সেমিফাইনালের রানকে টপকে গেলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে করল ভারতীয় দল ২৫৫ রান। এদিন অপরিবর্তিত ছিল ভারতীয় দল। তবে বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য আমেদাবাদের ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে এদিন টস জিতে, প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়ে সকলকে অবাক করে দেন কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। ফলে অনেকটাই সুবিধা পেয়ে যায় ভারতীয় দল। আর প্রথম ব্যাট করতে নেমে কার্যত সুপার সাইক্লোন তুলল দুই ভারতীয় ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। গোটা বিশ্বকাপ জুড়ে রান না পাওয়ায় দর্শকদের হতাশ করেছিলেন অভিষেক শর্মা। প্রবল সমালোচনার মুখেই পড়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফাইনালে দুরন্ত কামব্যাক অভিষেক শর্মার। এদিন ১৮ বলেই নিজের হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেন অভিষেক। পাশাপাশি আবারও চেনা ছন্দে ঝড়ো ব্যাটিং স্যামসনের। ২১ বলে ৫২ রানে আউট হয়ে ফিরে যান অভিষেক। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬ টা চার ও ৩ টে ছয়।

তবে অভিষেক থামলেও, থামানো যায়নি সঞ্জুকে। পাশাপাশি তাঁর সঙ্গে যুগলবন্দিতে দুর্দান্ত লড়াই করলেন ইশান কিশান। ভারতীয় ব্যাটারদের থামাতে রীতিমতো হিমসিম খেতে হল কিউয়ি বোলারদের। অবিশ্বাস্য আক্রমণাত্বক মেজাজে ব্যাট করে দ্রুত গতিতে রান বাড়াতে থাকে ভারত। প্রত্যেক ওভারেই ছয়-চারের প্রতিযোগিতা চলতে থাকে ভারতীয় ইনিংসে। ৯৮ রানে ১ উইকেটের পর, ভারতের দ্বিতীয় ইনিংসের পতন ঘটে ২০৩ রানে। ১৫ তম ওভারে জেমিস নিশামের বলে একইসঙ্গে তিনটি উইকেট হারিয়ে ফেলে ভারত। ওই ওভারেই নিশামের বলে প্রথমে ৪৬ বলে ৮৯ রানে আউট হয়ে ফিরে যান সঞ্জু। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫ টা চার ও ৮ টা ছয়। এরপর হাফসেঞ্চুরি করে ২৫ বলে ৫৪ রানে ফিরে যান ইশান। আর ১৫ তম ওভারের শেষ বলে ১ বলে ০ রানে আউট হয়ে ফিরে যান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তবে চার নম্বরে এদিন হার্দিককে ব্যাট করতে পাঠান গৌতম গম্ভীর। চার নম্বরে রানের গতি ধরে রাখতে শিবম দুবেকে না পাঠিয়ে, হার্দিককে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে কিছুটা চর্চা শুরু হয় ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মধ্যে।

যদিও ৪ উইকেট পড়ে যাওয়ার পর খেলায় রানের গতি কিছুটা শ্লথ হয়ে পড়ে। ১৩ বলে ১৮ রানে হার্দিক পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে দেন ম্যাট হেনরি। এরপর জুটি বাধেন তিলক বর্মা ও শিবম দুবে। শেষ ওভারে জেমিস নিশামকে মারমুখী মেজাজে ব্যাট চালিয়ে দলের রান আড়াইশো পার করে দেন শিবম দুবে। দুবে অপরাজিত থাকেন ৮ বলে ২৬ রানে। তিনি ৩ টে চার ও দুটি ছয় মারেন। তিলক বর্মা অপরাজিত থাকেন ৮ রানে। ভারত তোলে ৫ উইকেটে ২৫৫ রান।

আর জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের সামনে কার্যত দাঁড়াতেই পারল না নিউজিল্যান্ড। একতরফা ফাইনাল ম্যাচ উপভোগ করলেন আমেদাবাদের দর্শকরা। একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে কিউয়িরা। আগের ম্যাচে সেমিফাইনালে সাউথ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বিধ্বংসী ব্যাট করা ফিন অ্যালেনকে শুরুতেই এদিন ৯ রানে ফিরিয়ে দেন আমেদাবাদের ঘরের ছেলে অক্ষর প্যাটেল। রচিন রবীন্দ্রাকে ১ রানে আউট করে দেন বুমরাহ। এর পরের ওভারেই গ্লেন ফিলিপসকে ৫ রানে বোল্ড করে দেন আবারও অক্ষর। চতুর্থ ওভারেই আবারও একটি উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। মার্ক চ্যাপম্যানকে ৩ রানে বোল্ড করে দেন হার্দিক। তবে নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করেন টিম সাইফার্ড। তবে সাইফার্ডকে ২৬ বলে ৫২ রানে আউট করে দেন বরুন চক্রবর্তী। ৫ উইকেট হারিয়ে কার্যত ম্যাচ নিজেদের হাত থেকে বেরিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের।

তবে ষষ্ঠ উইকেটে নিউজিল্যান্ডের হয়ে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন ড্রারেল মিচেল ও মিচেল স্যান্টনার। দুই মিচেলের যুগলবন্দিতে রানের গতি একটু বাড়লেও, এত বিরাট টার্গেটের সামনে বিশেষ কিছু করার ছিল না কিউয়িদের। তবে ড্রারেল মিচেলের লড়াইও ১৭ রানে থামিয়ে দেন অক্ষর প্যাটেল। নিজের ঘরের মাঠে এদিন ফাইনালে অনবদ্য বোলিং প্রদর্শন করলেন অক্ষর। এরপর ম্যাচের ১৫ তম ওভারে পর-পর নিউজিল্যান্ডের আরও দুটি উইকেট তুলে নেন যশপ্রীত বুমরাহ। আউট হয়ে ফিরে যান জেমি নিশাম ও ম্যাট হেনরি। অন্যদিকে একাই কিছুটা লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার।

তবে কিউয়ি অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারকে ৪৩ রানে বোল্ড করে দেন আবারও যশপ্রীত বুমরাহ। তিনি তুলে নেন ৪ উইকেট। আর নিউজিল্যান্ডের শেষ উইকেট জেকব ডাফিকে ফিরিয়ে দেন অভিষেক শর্মা। ১৯ ওভারে মাত্র ১৫৯ রানে অলআউট হয়ে গেল নিউজিল্যান্ড। ৯৬ রানের বিরাট ব্যবধানে কিউয়িদের হারিয়ে তৃতীয়বারের জন্য টি-২০ বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ভারত। সেলিব্রেশনে মেতে ওঠে গোটা দেশ।
আইপিএলের আগে বিভিন্ন দলকে স্বস্তি দিচ্ছে টি-২০ বিশ্বকাপের একাধিক তারকারা!
