সোনালী চ্যাটার্জী, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: ভারতীয় ফুটবলের নির্ভরতা দিন দিন বেড়ে চলেছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খেলোয়াড়দের উপর। ISL এর বিভিন্ন দলে সহজেই জায়গা করে নেয় নর্থ-ইস্টের ফুটবলাররা। সুযোগ পেয়ে উঠেও আসে তাঁরা,কখনও কখনও ভারতীয় ফুটবলে নবজাগরণ ঘটান। কিছু নাম আমাদের একদম চোখের সামনে। খুঁজলে উঠে আসে আরও কিছু নাম, যাঁরা উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে উঠে এসে যেরকম সমৃদ্ধ করেছেন ভারতীয় ফুটবলকে, তেমনিই ভারতীয় ফুটবলের নির্ভরশীলতা উত্তর – পূর্বাঞ্চলের খেলোয়াড়দের প্রতি অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছেন।

বাইচুং, রেনেডি, সুরকুমার সিং, কিরণ খোঙ্গসাই ভারতীয় ফুটবলে তাঁদের অবদানের দ্বারা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য ভারতীয় ফুটবলের দরজা চিরকালের মতো খুলে দিয়েছেন। ISL এর বিভিন্ন দলে চোখ ফেরালেই যেমন দেখতে পাওয়া যায় উত্তর – পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন ফুটবলারদের তেমনিই ভারতীয় মহিলা ফুটবলের দিকে তাকালেও একই দৃশ্য। উত্তর – পূর্বাঞ্চলের ফুটবলারদের মধ্যে যে তীক্ষ্ণতা দেখতে পাওয়া যায়, তা যেমন বিরল তেমনিই তাঁদের গতিও নজরকাড়ার মতো। তবে দূর্বলতা একটাই,বেশ কিছু ক্ষেত্রে তাঁদের উচ্চতা! যে কারনেই মনিপুর – মিজোরামের কোনও দল বেশি উচ্চতার স্ট্রাইকার প্রতিপক্ষে থাকলে একটু নড়ে চড়েই বসে। কিন্তু উত্তর -পূর্বাঞ্চলের ফুটবলারদের গতি, তীক্ষ্ণতা, শারীরিক সক্ষমতা এবং লড়াই করার ক্ষমতা এই মূহুর্তে ভারতীয় ফুটবলের নির্ভরতা অনেকগুন বেশি বাড়িয়ে দিয়েছে উত্তর -পূর্বাঞ্চলের ফুটবলারদের প্রতি।

ভারতীয় ফুটবলের পাশাপাশি বাংলার ফুটবলেও ভরসা হয়ে উঠছে উত্তর -পূর্বাঞ্চলের খেলোয়াড়েরা। কলকাতা লিগের সময়েও বেশ কিছু দলে মনিপুর – মিজোরামের বেশ কিছু ফুটবলারদের চোখে পড়ে। বর্তমানে জোরকদমে চলছে কন্যাশ্রী কাপ। সেখানেও বিভিন্ন দলে চোখ ফেরালেই দেখা যায় উত্তর – পূর্বাঞ্চলের মেয়েরা জায়গা করে নিয়েছে দলে। কিন্তু এরই মাঝে আরেক শ্রেণি নীরবে লড়তে লড়তে নিজেদের জায়গা পাকা করে নিতে চাইছে, ইতিমধ্যেই ময়দানে কান পাতলে শোনা যায়,বাংলার ফুটবলের সাপ্লাই লাইন হয়ে উঠেছে আদিবাসী ফুটবলাররা। দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই করে,ভোর রাতে মাটির রাস্তা পার করে কলকাতায় এসে তারা নিজেদের প্রাণপন প্রমাণ করার লড়াই চালাচ্ছে। রঘু নন্দীই ঝাঁকে ঝাঁকে প্রথম তুলে এনেছিলেন আদিবাসী ফুটবলারদের। বুধিরাম টুডু, পিন্টু মাহাতা, জিতেন মুর্মু খুঁজলে এরকম বহু নাম উঠে আসবে যাঁরা সমৃদ্ধ করে গিয়েছেন বাংলার ফুটবলকে। আদিবাসী ছেলেদের মধ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করার ক্ষমতা রয়েছে,শারীরিক দক্ষতাও নজড় কাড়ে।
আদিবাসী মহিলা ফুটবলারাও কলকাতা লিগসহ বিভিন্ন স্তরে নিজের প্রমাণ করার লড়াই করে চলেছেন।
সারাদিনের খেলার বাছাই করা গুরুত্বপূর্ণ খবর আপনাদের জন্য-দেখুন
ভারতীয় ফুটবলে যেমন পাকাপাকি জায়গা করে নিয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ফুটবলাররা তেমনিই যদি বাংলার ফুটবলে ক্ষেত্রে আদিবাসী ফুটবলারদের উপর নির্ভর করা যায় তবে বাংলার ফুটবলের উজ্জ্বলতা হয়তো বাড়বে বই কমবে না। কিন্তু এক্ষেত্রে আদিবাসী ফুটবলারদের তৃণমূলস্তর থেকেই সঠিক পথ দেখিয়ে তৈরি করা যায় ভবিষ্যতের জন্য, তবে বোধহয় বাংলার ফুটবল আরও সমৃদ্ধ হতে পারে তাঁদের হাত ধরে। ইতিমধ্যেই খেলো ইন্ডিয়া ট্রাইবাল গেমসে প্রথম বছরেই বাংলার ছেলেরা কোয়ালিফাই রাউন্ডে প্রত্যেকটি ম্যাচ জিতে উত্তীর্ণ হয়েছে পরবর্তী রাউন্ডে। আদিবাসী ছেলেদের জন্য এ এক নতুন দিশা, তবে এইরকম ভাবেই যদি আদিবাসী ফুটবলারদের দিকে আরেকটু বেশি নজর দেওয়া যায় তবে ওঁরাও প্রতিকূলতা পার করে বাংলার ফুটবলের জন্য নিজেদের উজাড় করে দিতে পারে। মাঝে বাকি রইলো শুধুমাত্র ওদের নিয়ে ভাবনা এবং তা বাস্তবায়িত করা।ঋত্বিক ঘটক বলে গিয়েছিলেন,”ভাবো ভাবো,ভাবা প্রাকটিস করো”।
