ময়দান আপডেট: পর-পর চার ম্যাচে ঘরের মাঠে অপরাজিত থাকলেও, প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচে কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে বিজয়রথ থামল সবুজ-মেরুনের। সুনীলদের ঘরের মাঠে প্রচুর গোলের সুযোগ তৈরি হলেও, এদিন কাজে লাগাতে পারেননি দিমি-ম্যাকলারেনরা। যদিও হার বাঁচিয়ে ১ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষেই থেকেই শহরে ফিরছে মোহনবাগান সুপার জায়েন্টস। তবে পয়েন্ট টেবিলে মোহনবাগানের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে জামশেদপুর। ফলে জামশেদপুর জিতলেই পয়েন্ট টেবিলে দুই নম্বরে নেমে যাবে মোহনবাগান। যদিও সবুজ-মেরুনের পরবর্তী ম্যাচ ২০ মার্চ নিজেদের ঘরের মাঠে মুম্বই সিটি এফসির বিরুদ্ধে। মুম্বই কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও, ওই ম্যাচে হোম গ্রাউন্ডের সুবিধা কাজে লাগিয়ে জিততে পারলেই শীর্ষ স্থানেই থাকবে মোহনবাগান।

উল্লেখ্য শনিবার সন্ধ্যায় ব্যাঙ্গালুরুর কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে সুনীল ছেত্রীর ব্যাঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে মরসুমের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে নামে মোহনবাগান। আর এই ম্যাচে ব্যাঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে গোলশূন্য ম্যাচ ড্র করে সার্জিও লোবেরার দল। ফলে চলতি আইএসএলে এই প্রথম ২ পয়েন্ট নষ্ট করল মোহনবাগান। উল্লেখ্য এদিন ব্যাঙ্গালুরুতে ম্যাচ হলে কি হবে! প্রচুর সংখ্য়ক সবুজ-মেরুন সমর্থকরা মাঠে উপস্থিত ছিলেন। মেরিনার্স অ্যাট ব্যাঙ্গালুরু ফ্যানস ক্লাবের পক্ষ থেকে এদিন ম্যাচের আগে মোহনবাগানের টিম বাস ঘিরে যুবভারতীর ধাঁচেই স্লোগান দেওয়া থেকে, সেলিব্রেশন করেন তারা। পাশাপাশি উল্লেখ্য ম্যাচের আগের দিন মোহনবাগান দলের ফুটবলারদের প্রত্যেকের নাম লেখা বিশেষ টুপি উপহার দেওয়া হয় মেরিনার্স অ্যাট ব্যাঙ্গালুরু ফ্যানস ক্লাবের পক্ষ থেকে। একইসঙ্গে এদিন সবুজ-মেরুন জার্সিতে দিমিত্রি পেত্রাতোসের শততম ম্যাচে কান্তিরাভায় বিশেষ টিফোও নামায় সমর্থকরা। অন্যদিকে, গোলাপি জার্সিতে মাঠে নামে ব্যাঙ্গালুরু এফসি। নারীদের সম্মানে সুনীল ছেত্রী, আশিক কুরুনিয়নদের বিশেষ এই উদ্যোগ দর্শকমহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ম্যাচ শুরুর আগে ব্যাঙ্গালুরু ফুটবলারদের সঙ্গে মাঠে প্রবেশ করেন তাঁদের মা-স্ত্রীরা। সব মিলিয়ে বর্ণোজ্জ্বল পরিবেশেই শুরু হয় খেলা।

এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই ঘন-ঘন আক্রমণে যান দিমি-ম্যাকলারেনরা। যদিও গোল আসেনি। খেলার প্রথমার্ধ গোলশূন্যই শেষ হয়। যদিও খেলা শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যেতে পারত বেঙ্গালুরু। অসাধারণ জায়গায় বল পেয়ে গিয়েছিলেন রায়ান উইলিয়ামস। দুর্দান্ত সেভ বিশাল কাইথের। তবে এদিন অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ স্টাইলে ফুটবল খেলে ব্যাঙ্গালুরু এফসি। ফলে তাদের ডিফেন্ডারদের প্রতিহত করতে বার-বারই ব্যর্থ হতে হয় মোহনবাগানের ফুটবলারদের। আর দ্বিতীয়ার্ধে ৮৩ মিনিটে বিপক্ষ গোলকিপার গুরপ্রীতকে একলা পেয়েও বাইরে মারেন দিমিত্রি। ম্যাচের সহজতম সুযোগ বলা চলে সেটাই। গোলটি পেলে শততম ম্যাচে গোল করে মোহনবাগানকে জেতাতে পারতেন দিমি। যদিও গোল করতে ব্যর্থ হন তিনি। তবে এদিন অ্যাওয়ে ম্যাচে সবুজ-মেরুন ফুটবলারদের খেলায় প্রত্যাশিত ছন্দ দেখতে পেলেন না সমর্থকরা।

পাশাপাশি উল্লেখ্য এদিন অ্যাওয়ে ম্যাচ হওয়ায় কলকাতার মোহনবাগান সমর্থকদের জন্য মোহনবাগান ক্লাবে বিশেষ জায়েন্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে খেলা দেখার আয়োজন করা হয় মোহনবাগান ক্লাবের পক্ষ থেকে। যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রচুর সংখ্যক মেরিনার্সরা। সেখানেও দেখা যায় গ্যালারির ধাঁচে মোহনবাগান সমর্থকদের খেলা দেখতে-দেখতে স্লোগান থেকে সেলিব্রেশন।
১-১ গোলে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ড্র করেও নৈতিক জয় কেরালার, জঘন্য ফুটবল লাল-হলুদের!
