প্রিয়াংশু মণ্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: জমজমাট উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে পর্দা উঠল ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী দিনেই মাঠের লড়াইয়ে নেমেছিল সহ-আয়োজক মেক্সিকো, এশিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়া। নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিয়ে আসরে দুর্দান্ত সূচনা করেছে দল দুটি।মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে মেক্সিকানরা। মাত্র ৯ মিনিটেই কুইনোনেসের গোলে লিড নেয় তারা। এরপর ম্যাচের ৬৭ মিনিটে জিমিনেজ গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। তবে ম্যাচটি গোল ছাড়াও আলোচনায় ছিল লাল কার্ডের নাটকীয়তার জন্য। ম্যাচের ৫০ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার সিথোল লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর ৮৪ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় জোয়ানেও লাল কার্ড দেখলে ৯ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে অর্থাৎ সংযোজিত সময়ের ২ মিনিটে মেক্সিকোর মন্তেস লাল কার্ড দেখলেও তা স্বাগতিকদের জয়ে কোনো বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে চেক প্রজাতন্ত্রকে হারিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার এশিয় সূর্যোদয়। জাপোপানের এস্তাদিও গুয়াদালাজারায় চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমক দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ৫৯ মিনিটে ক্রেজকির গোলে এগিয়ে গিয়েছিল চেক প্রজাতন্ত্র। তবে পিছিয়ে পড়েও দমে যায়নি দক্ষিণ কোরিয়া। ম্যাচের ৬৭ মিনিটে হোয়ান গোল করে দলকে সমতায় ফেরান। এরপর হিয়নের দুর্দান্ত এক গোলে লিড নেয় দক্ষিণ কোরিয়া, যা শেষ পর্যন্ত তাদের জয় নিশ্চিত করে। এই জয়ের মাধ্যমে আসরের শুরুতেই নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিল এশিয়ার এই প্রতিনিধিরা।

২০২৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় ম্যাচে বসনিয়ার বিপক্ষে পিছিয়ে পরেও ১-১ গোলে ড্র করল সহ আয়োজক কানাডা। বসনিয়ার হয়ে গোলটি করেছেন লুকিক এবং কানাডার হয়ে গোলটি করেন লারিন। টরন্টো স্টেডিয়ামে আয়োজক দেশ কানাডা ১-১ ড্র করল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে। তবে গোটা ম্যাচে কানাডা যা খেলেছে তাতে এই ম্যাচে তিন পয়েন্ট পাওয়ার যোগ্য ছিল তারাই। সুযোগ নষ্টের খেসারত দিতে হয়েছে তাদের। ম্যাচের শুরু থেকে কানাডার দাপট ছিল বেশি। বসনিয়ার তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণ করছিল তারা। ম্যাচের প্রথম দিকে ডান দিক থেকে খেলা তৈরি করছিল কানাডা। সে দিকে সুবিধা করতে না পেরে ধীরে ধীরে বাঁ দিকের উইং দিয়ে আক্রমণ শুরু করে তারা। কিন্তু সুযোগ নষ্টের প্রবণতা কমেনি। সম্ভাবনা তৈরি হলেও কখনও কানাডার বেশির ভাগ শট বাইরে যাচ্ছিল। ২১ মিনিটে খেলার বিপরীতে গোল দেয় বসনিয়াই। কর্নার থেকে ফ্লিক করেছিলেন বসনিয়ার এক ফুটবলার। গোলের একদম সামনে ছিলেন জোভো লুকিচ। তিনি সহজেই বল জালে জড়িয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতা ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল কানাডা। কিন্তু বসনিয়ার সিড কোলাসিনাচের সৌজন্যে সে যাত্রায় বেঁচে যায় তারা। ৬১ মিনিটে তিনটি পরিবর্তন করেন কানাডার কোচ জেসে মার্শ। আক্রমণ ভাগ নতুন করে সাজান। তাতে খেলায় বদল আসে। আগের চেয়ে অনেক বেশি আক্রমণ করতে থাকে কানাডা। ৭৯ মিনিটে অবশেষে সমতা ফেরায় কানাডা। গোল করেন সাইল লারিন। সতীর্থের সুন্দর ব্যাক ফ্লিক পেয়ে চকিতে ঘুরে গিয়ে গোল করেন তিনি। ফলে ম্যাচ শেষ হয় ১-১ গোলে।
শনিবার সকালে নিজেদের ঘরের মাঠে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করল আয়োজক মাউরিসিয়ো পোচেত্তিনোর দল। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় আমেরিকাকে। প্রথম ম্যাচেই আমেরিকার প্রেসিং ফুটবলের সামনে দাঁড়াতে পারল না প্যারাগুয়ে। প্রথমার্ধেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের ফলাফল প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে আমেরিকার ফুটবলারেরা। প্যারাগুয়ো পিছিয়ে পড়ে ম্যাচের ৭ মিনিটের আত্মঘাতী গোলে। আমেরিকার স্ট্রাইকারদের চাপে নিজের গোলে বল ঠেলে দেন প্যারাগুয়ের ড্যামিয়েন বোবাডিলা। তাঁর আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর চাপ আরও বাড়ান আমেরিকার ফুটবলারেরা। ৩১ মিনিটে আমেরিকাকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন বালোগান। বালোগান নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পক্ষে তৃতীয় গোল করেন প্রথমার্ধের শেষে সংযুক্ত সময়ে। ৭৩ মিনিটে পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে প্যারাগুয়ের হয়ে ব্যবধান কমান মরিসিয়ো। গোল খাওয়ার পর আক্রমণে ঝাঁজ আবার বাড়ায় আমেরিকা। তার সুফলও পায় বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজকেরা। ম্যাচ শেষ হওয়ার ১ মিনিট আগে আমেরিকার হয়ে চতুর্থ গোল করে জয় নিশ্চিত করেন জিয়োভান্নি রেয়না। আর এই জয়ের ফলে উচ্ছ্বসিত আমেরিকার সমর্থকরা। উল্লেখ্য শনিবার মধ্য রাতে বিশ্বকাপের অভিযান শুরু করছে সাম্বা বাহিনী। রাত জাগার কাউন্টডাউন শুরু ব্রাজিল সমর্থকদের। ব্রাজিলের প্রথম প্রতিপক্ষ গ্রুপ সি তে মরক্কো। প্রথম ম্যাচেই সমর্থকদের নজর থাকবে নেইমার জুনিয়রের দিকে। রাত সাড়ে তিনটে মুখোমুখি হবে দুই দল।
