ময়দান আপডেট: নেইমারের সাম্বা বাহিনীকে ঘিরে বিশ্বকাপে প্রবল প্রত্যাশা রয়েছে ব্রাজিল সমর্থকদের। তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে শনিবার ভোররাতে খুব একটা মন ভরাতে পারল না ইয়েলো আর্মিরা। ফুটবল প্রেমীদের মতে অনেকটাই স্লো ফুটবল খেলেছে ব্রাজিল। আর তার ফলে প্রথম ম্যাচেই মরক্কোর বিরুদ্ধে ১ পয়েন্ট নষ্ট করল ব্রাজিল। এদিন ২১ মিনিটে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়লেও নেইমারদের মান বাঁচালেন ভিনিসিয়াস। ফলে ১-১ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ল সাম্বা বাহিনী। নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে এদিন মরক্কোর বিরুদ্ধে শুরু থেকেই অনেকটাই নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব এবং ছন্নছাড়া ফুটবল খেলছিল ব্রাজিল। অন্যদিকে মরক্কো শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে। ব্রাজিলের ফুটবলারেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। বুঝতেই পারছিলেন না কী ভাবে আটকানো যায় এই মরক্কোকে।

২১ মিনিটে মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি গোল করার সময় ব্রাজিলের রক্ষণ যেন থমকে গিয়েছিল। ব্রাহিম দিয়াজের পাস পেয়ে ব্রাজিলের দুই ডিফেন্ডারকে ঘাড়ের কাছে নিয়ে যে গোল সাইবারি করলেন তা অনবদ্য। গোল হজম করার পরে ব্রাজিলের খেলায় কিছুটা বদল আসে। কিছুটা আক্রমণাত্য ফুটবল খেলতে দেখা যায় তাদের। ৩২ মিনিটে ভিনিসিয়াস গোল শোধ করেন ব্রাজিলের হয়ে। বাঁ দিকে প্রায় কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে বল পেয়েছিলেন। কাট করে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে ডান পায়ে যে শটে গোল করলেন, তা অবশ্যই ফুটবল প্রেমীদের কাছে একটা স্মরণীয় গোল হয়ে থাকবে। সমতায় ফেরে ব্রাজিল। যদিও এরপর গোটা ম্যাচ জুড়ে প্রয়াস করলেও আর কোনো গোল আসেনি। তবে এদিন ব্রাজিলের পয়েন্ট নষ্ট করার অন্যতম কারণ যে দলের ফুটবলারদের মধ্যে বোঝাপড়ার অভাব তা স্পষ্ট হচ্ছিল বারবার। ব্রাজিলের এই দলের গড় বয়স প্রায় ৩০-এর কাছাকাছি। বিশ্বকাপে এত বেশি বয়সি দল নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে খেলেনি তারা। এ কারণে তাদের ‘ড্যাডিজ আর্মি’ও বলা হচ্ছে। সেই আর্মিরই একজন সদস্য কাসেমিরো। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে মরসুম মোটামুটি কেটেছে। কিন্তু দেশের জার্সিতে এ দিন পুরোপুরি বর্ণহীন কাসেমিরো। অন্যদিকে গতবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে চমক দিয়েছিল আফ্রিকার দেশ মরক্কো। চার বছর পরের এই মরক্কো দল আগের চেয়েও ভাল। অনেকেরই গত বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে নতুন যাঁরা এসেছেন তাঁরাও মানিয়ে নিয়েছেন। আর তারই প্রমাণ পাওয়া গেল এ দিন ম্যাচের ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মরক্কোর দৃষ্টিনন্দন ফুটবল দেখে। যদিও ব্রাজিল সমর্থকরা আশাবাদী পরবর্তী ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াবে সাম্বা বাহিনী।

রবিবার বিশ্বকাপের অন্য ম্যাচে বল নিয়ন্ত্রণ থেকে শট সব ক্ষেত্রেই গোটা ম্যাচ জুড়ে আধিপত্য দেখাল সুইজারল্যান্ড। তবে শেষ রক্ষা হল না। ১৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে সুইজারল্যান্ডকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ব্রিল এমবোলো। তবে যে হারে সুযোগ নষ্ট করেছে তারা তা চিন্তায় ফেলে দিল দলের কোচ মুরাত ইয়াকিনকে। প্রশংসা করতে হবে কাতারের গোলকিপার মাহমুদ আবুনাদার। তিনি প্রচুর শট বাঁচিয়েছেন। ম্যাচের শুরু থেকেই সুইজারল্যান্ডের আগ্রাসন ছিল। তার মাঝেই দুর্দান্ত একটি সুযোগ নষ্ট করেন এডমিলসন। ওই মিসের পর কার্যত হারিয়েই যায় কাতার। এদিন কার্যত লো ব্লকে কাতারের ১০ জন ফুটবলারকেই ডিফেন্স করতে দেখা যায়। তার ফলে দ্বিতীয় গোল তুলে আনতে পারেনি সুইজারল্যান্ড। অপরদিকে খেলার অতিরিক্ত সময়ে আচমকাই গোল করে দেয় কাতার। সংযুক্তি সময়ে ৯৪ মিনিটে মিনিটে বাঁ দিক থেকে সতীর্থের ভাসানো বলে জোরালো হেডে বল জালে জড়িয়ে দলের এক পয়েন্ট নিশ্চিত করেন খুখি। কাতার গোল শোধ করে দেওয়ায় ১-১ গোলে শেষ হয় কাতার বনাম সুইজারল্যান্ড ম্যাচ।

অন্যদিকে রবিবার সকালে বিশ্বকাপের অপর ম্যাচে হাইতিকে ১-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়েই বিশ্বকাপের লড়াই শুরু করল স্কটল্যান্ড। ২৮ মিনিটে স্কটল্যান্ডের হয়ে একমাত্র গোলটি করেন ম্যাকগিন। গোটা ম্যাচে আর গোল শোধ করতে পারিনি হাইতি। ফলে ৩৬ বছর পর ফুটবল বিশ্বকাপে জয় পেল স্কটল্যান্ড। ২৮ বছর পর মূলপর্বে খেলার সুযোগ পেয়ে প্রথম ম্যাচেই জয় ছিনিয়ে নিল স্টিভ ক্লার্কের দল। শেষ বার ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচও জিততে পারেনি স্কটল্যান্ড। এর আগে বিশ্বকাপে চারটি ম্যাচ জেতা স্কটিশেরা তাদের পঞ্চম জয় তুলে নিল এবার প্রথম ম্যাচেই। এদিন আক্রমণও বেশি করেছে লাতিন আমেরিকার দ্বীপ রাষ্ট্রটি। মূলত স্ট্রাইকারদের ব্যর্থতায় পয়েন্ট পেল না হাইতি।
