ময়দান আপডেট: ১২ বছরের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি বিশ্বকাপে। তবে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানদের সামনে সেই দিন ছিল বিশ্বের আর এক শক্তিধর ফুটবল বিশ্বের দেশ ব্রাজিল। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আয়োজক ব্রাজিলকে ৭-১ গোলের ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল জার্মানি। আর ১২ বছর পর ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নবাগত দল কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারাল জার্মানি। কুরাসাও যে দেশটি জনসংখ্যা মাত্র এক লক্ষ ৫৬ হাজার। সেই দেশটিও বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন করে প্রথমবার বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে গোটা বিশ্বকে চমকে দিয়েছে। আর তাদের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বড় ব্যবধানে পরাজয় ঘটলেও, জার্মানির মতো বিশ্ব ফুটবলের অপ্রতিরোধ্য দলের বিরুদ্ধে মরিয়া লড়াই এবং একটি গোল করা ফুটবলপ্রেমীদের মন জয় করে নিয়েছে। ম্যাচের শুরুতেই গোল করে এগিয়ে যায় জার্মানি। ৬ মিনিটে গোল করেন ফেলিক্স মেচা। ২১ মিনিটে গোল শোধ করে দেন লিভানো কমেনেন্সিয়া। কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ ইতিহাসে যা প্রথম গোল। প্রতি আক্রমণ থেকে যে ভাবে গোল করেন কমেনেন্সিয়া, তা প্রশংসা করার মতোই।

তবে এই গোল খাওয়ার পরেই জার্মানদের মধ্যে আগ্রাসী ফুটবল খেলার মানসিকতা হাজারোগুণ বেড়ে যায়। আর তার ফলে এরপর গোটা ম্যাচ জুড়ে একের পর এক গোল করতে থাকে জার্মানি। ৩৮ মিনিটের কর্নারে মাথা ছুঁইয়ে জার্মানিকে ২-১ এগিয়ে দেন নিকো সোলোত্তেরবেক। এরপর প্রথম অর্ধের অতিরিক্ত সময়ে পেনাল্টি থেকে খেলার স্কোর ৩-১ করেন কাই হাভের্তজ। জামাল মুসিয়ালা ৪৭ মিনিটে দুই দলের মধ্যে ব্যবধান আরও বাড়িয়ে দেন। এরপর যথাক্রমে ৬৮ এবং ৭৮ মিনিটে গোল করে জার্মানদের জয়ের ব্যবধান বাড়িয়ে দেন নাথাননিল ব্রাউন এবং ডেনিজ উনদেভ। আর খেলার শেষ লগ্নে ৮৮ মিনিটে কুরাসাওয়ের পোস্টে শেষ পেরেকটা পুঁতে দেন নিজের দ্বিতীয় গোল করে কাই হাভের্তজ। ফলে ৭-১ গোলে জিতে যায় জার্মানি। উল্লেখ্য, এদিন বল পজেসন জার্মানির পক্ষে ৬৫ শতাংশ, কুরাসাওয়ের পক্ষে ৩৫ শতাংশ, মুসিয়ালারারা পাস খেলেছে ৫৯৯টি, অন্য পক্ষের পাসের সংখ্যা ২৮৯। তবে জার্মানরা এই ধারাবাহিকতা বিশ্বকাপে কতটা ধরে রাখতে পারে এখন সেটাই দেখার।

অন্যদিকে বিশ্বকাপে রবিবার ভারতীয় সময় মধ্যরাতে মুখোমুখি হয়েছিল জাপান ও নেদারল্যান্ড। আর এই ম্যাচের গোটা প্রথমার্ধ জুড়ে দুই দলকেই অত্যন্ত ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলতে দেখা যায়। প্রথমার্ধ জুড়ে কোনও রকম বড় আক্রমণ খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফলে অনেকেই ভাবছিলেন এটা হয়তো বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচ চলছে! ম্যাচের শুরুতে একটি মাত্র আক্রমণ দেখা গিয়েছিল প্রথমার্ধে। তিন মিনিটের মধ্যেই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ডস। কিন্তু ডনিয়েল মালেনের শট বারের উপর দিয়ে উড়ে যায়। তবে খেলার দ্বিতীয়ার্ধে জাপান ও ডাচদের দুই দলের মধ্যেই খেলার ধরন সম্পূর্ণ বদলে যায়। আক্রমণ প্রতি আক্রমণে ঝড় তোলে দুই দলই। গোলের শুরুটা হয় নেদারল্যান্ডসকে দিয়ে। সেটাও জাপানের রক্ষণের ভুলে। ডান দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস যখন ভার্জিল ভ্যান ডাইক হেড করছেন, তখন জাপানের কোনও খেলোয়াড় তাঁকে মার্ক করেননি। কার্যত ফাঁকায় গোল করে যান নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক। তবে এর সাত মিনিটের মধ্যেই গোল শোধ করে জাপান। তাকেফুসা কুবো নেদারল্যান্ডসের বক্সে ঢুকে পাস দিয়েছিলেন কিতো নাকামুরাকে। তিনি বল ধরে সামান্য এগিয়ে নিচু শটে পরাস্ত করেন বার্ট ভারব্রুগেনকে। নাকামুরার এক সতীর্থ অফসাইডে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁর পায়ে হালকা স্পর্শ লেগে বল গোলে ঢোকে। কয়েক মিনিট পরে আবার এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এ বার গোল করেন ক্রিসেন্সিয়ো সামারভিল। এর ফলে খেলায় যখন মনে হচ্ছিল ডাচদের জয় নিশ্চিত ঠিক সেই সময়ই আবারও গোল করে সমতায় ফেরে জাপান। কোকি ওগাওয়ার শট দাইচি কামাদার গায়ে লেগে গোলে ঢুকে যায়। ফলে ম্যাচ ড্র হয় ২-২ গোলে।
