প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে অপ্রত্যাশিত পারফরম্যান্স, ব্যাটিং লাইনে ঘন ঘন ধস, এবং ডেথ ওভারে বোলারদের চরম ব্যর্থতার দরুন লজ্জাজনক হারের মুখোমুখি হতে হয়েছিল ভারতীয় ক্রিকেট দলকে। ভারতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর নবনিযুক্ত ক্যাপ্টেন শ্রেয়াস আয়ারের নেতৃত্ব নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছিল, কারণ প্রথম দুটি সিরিজেই তাঁর দল বাজেভাবে হেরে মানসিক চাপের মুখে পড়েছিল। যা পুরো দল ও ব্যবস্থাপনার ওপর তৈরি করেছিল এক পাহাড়সম মানসিক চাপ।

অনেকেই হয়তো মনে করতে পারেন যে জিম্বাবুয়ে একটি তুলনামূলক ছোট দল এবং তাদের হারানো খুব সহজ, কিন্তু ক্রিকেট প্রেমীদের ভুলে গেলে চলবে না যে এই ভারতীয় দলই পূর্বে আয়ারল্যান্ডের মতো দলের কাছে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার চরম লজ্জা বহন করে এসেছে, তাই জিম্বাবুয়ের মাটিতে যেকোনো জয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তবে সমস্ত ব্যর্থতার গ্লানি ও হতাশার অন্ধকার পেছনে ফেলে জিম্বাবুয়ে সফরে অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ারের দক্ষ নেতৃত্ব এবং পুরো দলের আক্রমণাত্মক মেজাজে রাজকীয় প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেদের শক্তিমত্তা নতুন করে জানান দিল।

নির্বাচক মণ্ডলী ও দলীয় ব্যবস্থাপনা তরুণ ক্রিকেটারদের ওপর যে আস্থা রেখেছিলেন, মাঠে নেমে সেই নতুন রক্তের প্রতিনিধিরাই নির্ভীক ক্রিকেট খেলে টপ অর্ডারের ঝড়ো সূচনা থেকে শুরু করে মিডল অর্ডারের পরিণত ব্যাটিংয়ে প্রতিটি ম্যাচেই বিশাল রান দাঁড় করায়। বোলিং বিভাগে নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ, পাওয়ার-প্লেতে সুইং, মাঝের ওভারে স্পিনারদের কৃপণতা এবং ডেথ ওভারে নিখুঁত ইয়র্কারের প্রয়োগ জিম্বাবুয়ের ব্যাটারদের পুরোপুরি কোণঠাসা করে রাখে। এর সাথে প্রাণবন্ত ফিল্ডিংয়ে বাড়তি রান বাঁচানোর সুবাদে এই দাপুটে জয় শুধুমাত্র আগের সিরিজের ক্ষত ও চাপ মুছে দেয়নি, বরং অধিনায়ক শ্রেয়াস আয়ারের ঘুরে দাঁড়ানোর অদম্য মানসিকতা এবং প্লেয়ারদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী থাকলো ক্রিকেট প্রেমীরা।

