সোনালি চ্যাটার্জী ও প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : ডুরান্ড কাপের মঞ্চে এক ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় ম্যাচের সাক্ষী থাকল ফুটবলপ্রেমীরা। যেখানে সিআইএসএফ (CISF)-কে ৮-০ গোলের বিরাট ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ কাঁপাল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের শুরু থেকেই লাল-হলুদ ফুটবলাররা আক্রমণাত্মক মেজাজে ফুটবল খেলতে শুরু করেন। ম্যাচের ১২ মিনিটে জিকসন সিং প্রথম ভালো সুযোগ পান। ১৮ মিনিটে পিভি বিষ্ণুর একটি দুরন্ত শট দক্ষতার সঙ্গে সামাল দেন সিআইএসএফ-এর গোলরক্ষক রাজ কুমার মাহাতো। ইস্টবেঙ্গল প্রতিপক্ষের বক্সে প্রচুর সুযোগ পাচ্ছিল এবং সিআইএসএফ-এর প্রায় দশজন খেলোয়াড় মিলে কেবল রক্ষণ সামলাতেই ব্যস্ত ছিলেন। এই ম্যাচে ডানিয়েল রামিরেজের বল রিসিভিং ও কন্ট্রোল ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

২৮ মিনিটে পিভি বিষ্ণু আক্রমণে গেলে তাঁকে ফাউল করেন সিআইএসএফ-এর ভোলা সিং, কিন্তু সেই ফ্রি-কিক থেকে আসা বলটি রক্ষা করেন গোলরক্ষক রাজ কুমার। ৩০ মিনিটে বিষ্ণুর একটি সুন্দর ক্রস রাজ কুমার সেভ করার পর সেকেন্ড বল পান রশিদ, তবে তাঁর শটটি সোজাসুজি গোলরক্ষকের হাতেই চলে যায়। একের পর এক আক্রমণের পর অবশেষে ৩৮ মিনিটে প্রথম গোল করে দলকে এগিয়ে দেন পিভি বিষ্ণু। ৪২ মিনিটে বিষ্ণু বল নিয়ে বক্সে ঢুকে ড্যানিয়েলকে পাস বাড়ান এবং ড্যানিয়েলের থ্রু বল ধরে বিষ্ণু পুনরায় মাইনাস রাখলে সিআইএসএফ-এর ডিফেন্ডার বলটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে গোলরক্ষকের গায়ে লাগিয়ে ফেলেন, ফলে একটি আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। সিআইএসএফ-এর পক্ষ থেকে কোনো নো-প্রেসিং বা পাল্টা প্রতিরোধ দেখা যায়নি, আর প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে (৪৫+) বিষ্ণুর থেকে বল পেয়ে ড্যানিয়েল মাইনাস রাখলে সেখান থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করেন জিকসন, যার ফলে প্রথমার্ধেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অর্থাৎ ৪৬ মিনিটে সন্দীপ মান্ডির ক্রস থেকে এক মনোমুগ্ধকর ব্যাক ভলিতে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন পিভি বিষ্ণু। ৫৫ মিনিটের পর থেকে সিআইএসএফ কিছুটা আক্রমণ বিভাগে লোক বাড়িয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও তা ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণে বাধা পায়। ৬৪ মিনিটে দ্বিতীয়ার্ধে পরিবর্ত হিসেবে নামা বিপিন সিং, বিষ্ণুর বাড়ানো বল ধরে দলের হয়ে পঞ্চম গোলটি করেন। ৬৬ মিনিটে লালচুংনুঙ্গার একটি দারুণ শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে জয় গুপ্তা সেই ফিরতি বল ধরে শট নিলেও তা চলে যায় গোলরক্ষকের হাতে।
৭০ মিনিটে নুঙ্গার লং বল থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে গোল পান জেসিন টিকে এবং এর ঠিক চার মিনিট পর, অর্থাৎ ৭৪ মিনিটে জেসিন নিজের দ্বিতীয় গোলটি সম্পন্ন করেন। ৭৬ মিনিটে বিপিনের চমৎকার অ্যাসিস্ট থেকে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন পিভি বিষ্ণু। ম্যাচে পিভি বিষ্ণুর ৩টি গোল, জেসিন টিকের ২টি গোল এবং বিপিন ও জিকসনের ১টি করে গোলের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের ১টি আত্মঘাতী গোলের সহায়তায় ইস্টবেঙ্গল ৮-০ গোলের এক বিশাল জয় সুনিশ্চিত করে। ১৯৭২ সালের পর ২০২৬ সালের ডুরান্ড কাপের এই ম্যাচে ইস্টবেঙ্গল আবারও এত বড় ব্যবধানে জয় লাভ করে এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল।
