ময়দান আপডেট: ডুরান্ড কাপের গরিমা এবং ঐতিয্যে যেন ক্রমশ ভাঁটা পড়ছে। তার কারণ একটা সময় ছিল যখন এই ডুরান্ড কাপের ম্যাচে টানটান উত্তেজনা এবং হাইভোল্টেজ লড়াই উপভোগ করার সুযোগ পেতেন ফুটবল প্রেমীরা। তবে পরিস্থিতি বদলে গেছে, কারণ বর্তমানে ভারতীয় ফুটবলের বানিজ্যিকরণের সবথেকে বড় টুর্নামেন্ট ইন্ডিয়ান সুপার লিগ শুরু হওয়ার পর থেকেই, ডুরান্ড কাপকে কার্যত আইএসএলের প্রি-সিশন টুর্নামেন্ট বলেই মনে করেন অধিকাংশ আইএসএলে অংশ গ্রহণকারী দলের সদস্যরা। জুলাই-অগস্ট মাসে মরসুমের শুরুতে আয়োজিত ডুরান্ড কাপে সেভাবে দল গঠনই সম্পূর্ণ হয় না বড় দলদের। বেশিরভাগ বিদেশীরা দেশে এসে পৌঁছাননা। আর আসলেও তাদের প্রস্তুত করার জন্য এই টুর্নামেন্টে নামানো হয়, এককথায় বলা যেতে পারে
ডুরান্ড কাপকে সেভাবে গুরুত্ব দিতে চায় না বাংলার দুই প্রধান মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল। অন্যান্য রাজ্যের মুম্বই, গোয়া, জামশেদপুর দলও ডুরান্ডের মধ্যে মস্পূর্ণ প্রস্তুত হয়না। তবে আবার নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেড তারা কিন্তু এই প্রি-সিশন টুর্নামেন্ট হলেও ডুরান্ডকে যথেষ্ট ফোকাস করে থাকে। তার প্রমাণ গত দুই মরসুমে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে নর্থ-ইস্ট। পাশাপাশি ডুরান্ড কাপে বেশিরভাগ আর্মিদের যে সমস্ত দল পাঠানো হয় তাদের সারা বছর ফুটবলের সঙ্গে সে ভাবে সম্পর্ক থাকে বলে মনে হয় না। আর্মিতে কর্মরত সদস্যদের নিয়ে দল গঠন করা হয়। তাদের ফুটবলের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। আর তার ফলে তাদের বিরুদ্ধে অতি-সহজেই হাসতে-হাসতে ম্যাচ জিতে যায় বড় দলরা। ফলে খেলার জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে ডুরান্ডে।

এই মরসুমের ডুরান্ড কাপেই সেই ছবিটা স্পষ্ট হচ্ছে একাধিক ম্যাচে। প্রথমে সিআইএসএফ (CISF)-কে ৮-০ গোলে হারিয়ে জয় পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। আর এবার লাল-হলুদের দেখানো পথেই সাউথ ইউনাইটেড এফসিকে ৮-০ গোলের মালা পরিয়ে বড় জয় মোহনবাগানের। এই ম্যাচ দেখে কিছু সমর্থক খুশি হলেও, কার্যত কোথাও দাঁড়িয়ে ভারতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কিত ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ।

মঙ্গলবার যুবভারতীতে সাউথ ইউনাইটেড এফসির বিরুদ্ধে মোহনবাগান জয় লাভ করে ৮-০ গোলে। গোলের হ্যাটট্রিক করেন মনবীর সিং। পাশাপাশি জোড়া গোল করেন সুহেল আহমেদ ভাট। একটি করে গোল করেন রাহুল ভেকে, রদরিগেজ। একটি আত্মঘাতী গোল হয়। ফলে ঘরের মাঠে ৮ গোলে জিতে ডুরান্ডের নকআউট নিশ্চিত করে ফেলল মোহনবাগান। কারণ প্রথম ম্যাচে ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারায় সবুজ-মেরুন বাহিনী। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল ডার্বি হারের পর সিআইএসএফকে ৮ গোলে হারিয়েছে। ফলে মোহনবাগান বর্তমানে ২ ম্যাচ খেলে ২ ম্যাচেই জয় পেয়েছে। দুই ম্যাচে তারা করেছে ৯ গোল। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল তারা ২ ম্যাচ খেলে ১ ম্যাচে জয়, একটি হার। দুই ম্যাচে ৮ টি গোল করেছে, একটি গোল খেয়েছে। ফলে গোল পার্থক্যে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলের থেকে ২ গোলে এগিয়ে। নিজেদের পরের ম্যাচে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল দুই দলই আবারও বড় ব্যবধানে জয় পাবে আশা করা যায়। কারণ মোহনবাগান এবার খেলবে সিআইএসএফের সঙ্গে। ইস্টবেঙ্গল খেলবে সাউথ ইউনাইটেড এফসির সঙ্গে। ফলে আশা করা যায় সহজেই আবারও জয় পাবে দুই প্রধানই। সেক্ষেত্রে মোহনবাগান তিন ম্যাচ জিতে এক নম্বর স্থানে থেকেই পরবর্তী রাউন্ডে যাবে। আর ইস্টবেঙ্গল তারা দুই ম্যাচ জিতে দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে উঠবে। ফলে এখন দেখার এবার ডুরান্ডের নকআউটে কতটা সাফল্য দেখাতে পারে বাংলার দুই প্রধান!
