সোনালি চ্যাটার্জী, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: রবিবার ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে যুবভারতীতে ইন্ডিয়ান আর্মির মুখোমুখি হয় ইস্টবেঙ্গল এফসি। গ্রুপ পর্বে দুই ম্যাচেই বড় ব্যবধানে জয় পেলেও,ডার্বি ম্যাচে মোহনবাগানের কাছে হেরে যাওয়ায় গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে থেকে শেষ আটে উঠে আসে ইস্টবেঙ্গল। আর এদিন ইন্ডিয়ান আর্মির বিরুদ্ধে খেলার প্রথমার্ধে কিছুটা রক্ষণাক্ষক দেখাচ্ছিল ইস্টবেঙ্গলকে। ১২ মিনিটে ফ্রি-কিকে ইস্টবেঙ্গলের ড্যানি রামিরেজ একটা ভালো শট নেন, যদিও গোল আসেনি। তবে ইন্ডিয়ান আর্মির ফুটবলাররা তারাও বেশ কিছু আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে থাকে। ১৯ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে আবারও একটা ভালো গোলের সুযোগ তৈরি করলেও, কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন রাজিরেজ। ২১ মিনিটে একটি দূরপাল্লার শটে গোলের প্রচেষ্টা করেন লালচুঙ্গনুঙ্গা। তবে দুর্দান্ত ভাবে গোল রুখে দেন ইন্ডিয়ান আর্মির গোলরক্ষক। ২৯ মিনিটে জয় গুপ্তার শট পোস্টের সামনে থাকলেও, গোলের সুযোগ নষ্ট করেন পিভি বিষ্ণু। তবে ম্যাচের ৩৯ মিনিটে গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন পিভি বিষ্ণু। ইস্টবেঙ্গলের নয়া অজি তারকা ইকোনোমিসের বাড়ানো শটে, হেডে পোস্টের সামনে থেকে দুর্দান্ত গোল করেন তিনি। খেলার ফলাফল হয়ে যায় ১-০। উল্লেখ্য চলতি ডুরান্ড কাপে গ্রুপ পর্বে একটি ম্যাচে হ্যাটট্রিক করেছিলেন বিষ্ণু। খেলার প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-০ গোলে।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের গতি কিছুটা বাড়ায় লাল-হলুদ বাহিনী। ৫৫ মিনিটে রশিদ একটা ভালো দূরপাল্লার শট নেন, তবে কার্যকরি হয়নি। ৫৮ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করে ইস্টবেঙ্গল। ইকোনোমিস ও ডেভিডকে তুলে নিয়ে মাঠে নামানো হয় জেসিন টিকে ও এডমুন্ডকে। আর মাঠে নেমেই ৫৯ মিনিটে একটা দুর্দান্ত শটে গোলের প্রচেষ্টা করেন জেসিন টিকে। ৬৮ মিনিটে ইন্ডিয়ান আর্মির পক্ষ থেকে একটা ভালো আক্রমণের প্রচেষ্টা করা হয়, তবে বল পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। এরপর ৭৩ মিনিটে ইন্ডিয়ান আর্মির কাছে আবারও একটা ভালো গোলের সুযোগ চলে আসে, তবে শট রুখে দেন ইস্টবেঙ্গলের গোলরক্ষক লেচেমপা। ৮০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের বিপিন সিং এর বাড়ানো বলে পোস্টের সামনে থেকে একটা সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করেন জেসিন টিকে। ৮৩ মিনিটে জেসিন টিকের বাড়ানো বলে এবার গোলের সুযোগ নষ্ট করেন বিপিন সিং।

তবে এদিন পিভি বিষ্ণুর করা গোলে ইস্টবেঙ্গল ম্যাচ জিতে ডুরান্ড কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে সেমিফাইনালে উঠলেও, একাধিক সহজ গোলের সুযোগ নষ্ট করে ইস্টবেঙ্গল ফুটবলাররা। ফলে দলের খেলায় যথেষ্ট হতাশ সমর্থকরা। বিশেষ করে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা প্রচুর সুযোগ নষ্ট করেন। সেই জায়গায় অনেকটাই আকর্ষনীয় দেখায় ইন্ডিয়ান আর্মিকে। দ্বিতীয়ার্ধে বেশ কিছু ভালো গোলের সুযোগ তৈরি করে ইন্ডিয়ান আর্মি। যদিও কোনও গোল আসেনি। ফলে এদিন ঘরের মাঠে ১-০ গোলে ইন্ডিয়ান আর্মিকে হারিয়ে শেষ চারে জায়গা করে নিল লাল-হলুদ বাহিনী।
