প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : আশা আর অলৌকিকের স্বপ্ন চোখে নিয়ে যখন কলকাতা প্রস্তুত হচ্ছে ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়ার জন্য, ঠিক তখনই অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের পারফরম্যান্স ভারতীয় ফুটবলপ্রেমীদের মনে এক ক্ষীণ আশার আলো জ্বালিয়ে দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রীতি ম্যাচে তারকাখচিত ‘সেলেকাও’দের ১-১ গোলে ড্র করার ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, মাঠের লড়াইয়ে তারাও সম্পূর্ণ অপরাজিত নয়। কার্লো আনচেলোত্তির অধীনে ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনহা, মারকিউনহোস ও গুইমারেসের মতো মেগা তারকাদের নিয়ে গড়া ব্রাজিল দল কুইন্সল্যান্ডের মাঠে বলের নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে থাকলেও, খেলায় তাদের সেই চেনা সাম্বার ছন্দ বা সুসংগঠিত আক্রমণের অভাব ছিল স্পষ্ট। খেলার প্রথমার্ধে এস্তেভাওয়ের গোল ভিএআরে বাতিল হওয়ার পর, ম্যাচের ৬৮ মিনিটে অনবদ্য এক ফ্রিকিক থেকে গোল করে ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দেন অস্ট্রেলিয়ার নেস্তোরি ইরানকুন্ডা।
এরপর হারের মুখে পড়া ব্রাজিল একদম শেষ মুহূর্তে রাফিনহার কর্নার থেকে রায়ানের হেডারে কোনো মতে সমতা ফেরাতে সক্ষম হয়। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার ধাক্কা কাটিয়ে নতুন পথচলা শুরু করার মুহূর্তে নেইমারের শূন্যতা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর জল্পনা দলের রসায়নে কতটা প্রভাব ফেলছে। তা নিয়েও চর্চা তুঙ্গে, কারণ কাতার বিশ্বকাপে বিদায়ের পর তিনি এই আসরকেই তাঁর শেষ বিশ্বকাপ বলে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা তিনি এখনও দেননি, তবে নেইমার উত্তর এই পুনর্গঠন পর্বে।
রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা তারকাদের উপস্থিতিও যখন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্স ভাঙতে গিয়ে হিমশিম খায়, তখন আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার মাঠে আনোয়ার আলি বা মনবীরদের লড়াই নিয়ে সমর্থকদের প্রত্যাশা বহুগুণ বেড়ে যাওয়া স্বাভাবিক। কাগজ-কলমে দুই দেশের শক্তির বিপুল তফাৎ থাকা সত্ত্বেও, অস্ট্রেলিয়ার এই মরণপণ লড়াই ও ব্রাজিলের ছন্দহীনতা প্রমাণ করছে যে, রক্ত-মাংসের এই তারকাদের বিরুদ্ধে অদম্য মনোভাব নিয়ে জানপ্রাণ লড়ে যেতে পারলে ফুটবল ঈশ্বরে বিশ্বাসী শহরে অঘটনের স্বপ্ন দেখা একেবারে অসম্ভব নয়।
