Saturday, October 17, 2026
Homeফুটবলদেশ- বিদেশের ফুটবলঅন্তিম লগ্নে গোল হজম, হার দিয়ে অভিযান শুরু সবুজ-মেরুনের

অন্তিম লগ্নে গোল হজম, হার দিয়ে অভিযান শুরু সবুজ-মেরুনের

সুযোগ নষ্টের খেসারত দিয়ে নর্থইস্টের কাছে ১-০ গোলে হেরে আইএসএল অভিযান শুরু সবুজ-মেরুনের।

প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি 

ময়দার আপডেট : গত মরশুমে গোল পার্থক্যের কারণে তাদের দ্বিতীয় স্থানেই শেষ করতে হয়েছিল। তবে সেই সব ভুলে তারা নতুনভাবে আবার যাত্রা শুরু করেছে। আজ গুয়াহাটির ইন্দিরা গান্ধী অ্যাথলেটিক স্টেডিয়ামে স্বাগতিক নর্থইস্টের মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান। সবুজ মেরুন বাহিনীর আইএসএল অভিযান এক চরম হতাশাজনক পরাজয় দিয়ে শুরু হলো। ম্যাচের একেবারে প্রথম মিনিটেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ফুটবল শুরু করে সবুজ মেরুন ব্রিগেড। তবে এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু খেলোয়াড় ছিলেন না মোহনবাগান শিবিরে। দুই বছর নির্বাচনের কারণে দীপক টাঙ্গরি, উল্টোদিকে চোটের কারণে জেমি ম্যাকলারেন ও আশীষ রাই ছিলেন না দলে। ১ মিনিটের মাথায় মেহেতাবের একটি দারুণ তিরবেগে বাড়ানো পাস নর্থইস্টের ডিফেন্স ভেদ করে বক্সে চলে আসে, তবে বক্সে ড্রাজিক পৌঁছানোর আগেই নর্থইস্টের ডিফেন্ডাররা তা দ্রুত ক্লিয়ার করে দেন। পাল্টা আক্রমণে উঠে ৩ মিনিটের মাথায় বামদিক থেকে নর্থইস্টের আলাদিন একটি বিপজ্জনক বল বাড়িয়েছিলেন। তবে সতীর্থের কাছে বল পৌঁছানোর আগেই মোহনবাগান ডিফেন্ডার অ্যালবার্তো সঠিক সময়ে তা আটকে দেন। ৭ মিনিটে অভিষেকের বাড়ানো চমৎকার পাস রিসিভ করে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের মধ্যে ঢোকেন ড্রাজিক, তিনি জোরালো শট নিলেও বল প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে প্রতিহত হয়ে যায়। ৮ মিনিটে ছাংতের একটি ভাসানো কর্নার থেকে নর্থইস্টের বক্সে একদম অরক্ষিত অবস্থায় বল পেয়ে যান এরভিন, তিনি গোলমুখে শট নিলেও দুর্ভাগ্যবশত বলটি ক্রসবারে লেগে মাঠের বাইরে বেরিয়ে যায়। মূলত এরভিনের এই সুযোগটাই ছিল ম্যাচের সবথেকে বড়ো সুযোগ। এক মিনিটের মধ্যেই আলাদিনের একটি বিপজ্জনক ক্রস অ্যালবার্তো হেড করে প্রতিহত করেন। কিন্তু প্রতিহত হওয়ার পর বলটি পুনরায় আলাদিনের কাছেই ফিরে যায়। তিনি আবারও বক্সে দ্বিতীয়বার ক্রস করলে এবার রাহুল ভেকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বলটি ক্লিয়ার করে দলকে বিপদ মুক্ত করেন। ৩৬ মিনিটে আলাদিন নর্থইস্টের পক্ষে একটি দারুণ বল পেলেও অফসাইডের কারণে লাইনসম্যানের পতাকা উঠে যায়। ৪২ মিনিটে অ্যালবার্তো ইন্টারসেপ্ট করে মাঝমাঠ থেকে একটু এগিয়ে গিয়ে দুরন্ত এক দূরপাল্লার শট নেন। তবে শটটি গোলপোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়, যা গোল হলে নিঃসন্দেহে দর্শনীয় একটি মুহূর্ত তৈরি হতো। ঠিক তার পরের মিনিটে অর্থাৎ ৪৩ মিনিটে ড্রাজিকের বাড়িয়ে দেওয়া বল ডিফেন্ডারের মাথার উপর দিয়ে এসে পৌঁছায় বক্সে থাকা এরভিনের কাছে। সেখানে দুজন ডিফেন্ডার উপস্থিত থাকলেও একজনকে চমৎকারভাবে কাটিয়ে নিজের শট নেওয়ার পুরো জায়গা করে নেন তিনি। কিন্তু তিনি নিজে সরাসরি শট না নিয়ে পাশে থাকা ছাংতেকে পাস বাড়াতে যান। ফলে গোল করার এক নিশ্চিত এবং সোনালী সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই ৪৬ মিনিটে নর্থইস্ট ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে বল চলে আসে মেহতাবের কাছে, কিন্তু তাঁর নেওয়া শটটি পোস্টের ধার ঘেঁষে বাইরে চলে যায়। ৫৩ মিনিটে সাহাল চমৎকার একটি বল বাড়িয়েছিলেন এরভিনের উদ্দেশ্যে, এবার এরভিন সঠিক শট নিলেও নর্থইস্ট গোলরক্ষক গুরমিত তা দুর্দান্তভাবে আটকে দেন। ৬৮ মিনিটে নর্থইস্টের ১০ নম্বর ফুটবলার মোহনবাগানের ডিফেন্স চেরা একটি চমৎকার বল বাড়িয়েছিলেন পার্থিব গগৈকে। তবে পার্থিব শট নেওয়ার আগেই মোহনবাগান গোলরক্ষক বিশাল সতর্কতা দেখিয়ে এগিয়ে এসে বলটি নিজের গ্লাভসে বন্দি করেন। ৮৩ মিনিটে আবার পার্থিবের বাড়ানো পাস থেকে নিকোলা বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শট নেন। কিন্তু বলটি একটুর জন্য লক্ষ্যের বাইরে চলে যায়। ৮৭ মিনিটে মিগুয়েল একটি চমৎকার বল বাড়িয়েছিলেন সুহেলের উদ্দেশ্যে। তবে অফসাইডের ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন সুহেল, তিনি যদি সামান্য একটু দেরিতে তাঁর রান শুরু করতেন তবে সহজেই অফসাইড এড়ানো সম্ভব হতো। ৮৮ মিনিটে লিস্টনের ভাসানো একটি চমৎকার ক্রস থেকে সুহেল বলে পা ছুঁইয়েছিলেন, কিন্তু তাঁর শটে পর্যাপ্ত জোর না থাকায় বলটি ক্রসবারে লেগে বাইরে বেরিয়ে যায়। যদি তিনি বলটিতে আরও কিছুটা জোর দিতে পারতেন, তবে নিশ্চিত গোল হতে পারত কারণ ডিফেন্ডাররা তাঁর থেকে কিছুটা দূরেই অবস্থান করছিলেন। অবশেষে ইনজুরি টাইমে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় ও চূড়ান্ত ভাগ্যনির্ধারক মুহূর্তটি আসে। ৯০+১ মিনিটে নর্থইস্টের মোয়ানো বক্সের মধ্যে থেকে একটি জোরালো শট নেন, বিশাল কাইথ চমৎকার সেভ করলেও বলটি তাঁর হাতে লেগে পোস্টে ধাক্কা খেয়ে গোললাইনের সামনে ভেসে আসে। ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা নর্থইস্টের জিতেন দ্রুত শট নিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। এই দুর্দান্ত গোলে নর্থইস্ট ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। এরপর মোহনবাগান সমতায় ফিরতে শেষ আপ্রাণ চেষ্টা করলেও আর গোলশোধ করা সম্ভব হয়নি। একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করার খেসারত দিয়ে এবং শেষ মুহূর্তের এই গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হয় মোহনবাগান। ফলে পরাজয়ের তিতকুটে অভিজ্ঞতা নিয়েই নিজেদের প্রথম ম্যাচ হেরে আইএসএল মরশুম শুরু করলো মোহনবাগান। 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular