ময়দান আপডেট: কার্যত একেই বলে তীরে এসে তরী ডোবা। ভাগ্য এদিনও সহায় হল না ইস্টবেঙ্গলের। গোয়ার ঘরের মাঠে সমর্থকদের উপস্থিতিতে ফাতোরদায় ট্রফি জয়ের কাজটা যে লাল-হলুদ বাহিনীর জন্য মোটেও সহজ হবে না, সেটা আগেই আন্দাজ করা গিয়েছিল। তার মধ্যে দলের হেড কোচ অস্কার ব্রুঁজোর বেঞ্চে না থাকা, দলের উপর সমস্যা তৈরি করে। যদিও এদিন এফসি গোয়ার চোখে-চোখ রেখে গোটা ম্যাচের ১২০ মিনিট সময় জুড়ে লড়াই চালিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। যদিও গোলের খাতা খুলতে পারে নি ম্যাচের মূল ৯০ মিনিট থেকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। যার ফলে ম্যাচের ভাগ্য গড়ায় পেনাল্টিতে। আর সেখানেই বাজিমাৎ এফসি গোয়ার। ৫-৬ গোলে জিতে সুপার কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল গোয়া। আর এই জয়ের পরেই কার্যত অস্কার ব্রুঁজোর দিকে প্রশ্ন তুললেন ইস্টবেঙ্গল থেকে ছেড়ে আসা ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি গোলকিপার সন্দীপ নন্দী। তিনি বলেন, এবার কাকে দোষ দেবেন অস্কার ? জবাব তো দিতেই হবে!

এদিন পেনাল্টির শুরুতে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করেন কেভিন সিব্বিলে। অন্যদিকে এফসি গোয়ার হয়ে পেনাল্টিতে গোল মিস করে বসেন বোরহা হেরেরা। ফলে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন লাল-হলুদ সমর্থকরা। ১-০ এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। এরপর দ্বিতীয় শটে গোল করেন ইস্টবেঙ্গলের হয়ে সাউল। গোয়ার হয়ে গোল করেন সিবেরিও। ফলাফল হয় ২-১। এরপর ইস্টবেঙ্গলের হয়ে তৃতীয় শটে গোল করেন মিগুয়েল। ফলাফল হয় ৩-১। এরপর গোয়া তাদের তৃতীয় শটেও গোল করে ব্যবধান দাঁড়ায় ৩-২। কিন্তুু এরপরই গোল করতে গিয়ে গোল মিস করে বসলেন ইস্টবেঙ্গলের হয়ে মহম্মদ রশিদ। আর সেই সুযোগই কাজে লাগাল এফসি গোয়া। প্রথম পাঁচটি শটের পর ফলাফল দাঁড়ায় ৪-৪। ফলে এবার খেলা গড়ায় সাডেন ডেথে। সেখানে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন হামিদ আহদাদ। ফলাফল দাঁড়ায় ৫-৪। কিন্তু সমতা ফেরান উদান্তা সিং। তবে এরপর আবারও গোল মিস ইস্টবেঙ্গলের। সপ্তম শটে পিভি বিষ্ণুও বল বারের উপর দিয়ে উড়িয়ে দেন। যার ফলে কার্যত লাল-হলুদের বিদায়ের আশঙ্কা তৈরি হয়। এরপর এফসি গোয়ার হয়ে সাহিল তাভোরা গোল করতেই গোয়ার সুপার কাপ জয় নিশ্চিত করে ফেলে এফসি গোয়া। খেলার ফলাফল দাঁড়ায় ৫-৬।

পর-পর দুই বছর সুপার কাপ জয়ের ধারা বজায় রাখল গোয়া। অন্যদিকে ভালো লড়াই করেও শেষরক্ষা হল না। দুই বছর আগে কলিঙ্গ সুপার কাপ জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে এবারও গোয়া থেকে নিরাস হয়েই শহরে ফিরতে হবে লাল-হলুদ বাহিনীকে। যদিও এদিন খেলায় ভূয়সী প্রশংসা করতে হবে ইস্টবেঙ্গল দলের গোলরক্ষক প্রভসুখন গিলের। গোটা ম্যাচ জুড়ে এফসি গোয়ার একের পর এক আক্রমণ রুখে দেন গিল। না হলে হয়তো খেলার মূল পর্বেই জয় নিশ্চিত করে নিতে পারত মানালো মার্কোয়েজের ছেলেরা। তবে এদিন একাধিক গোলের সুযোগ নষ্ট করেন লাল-হলুদ বাহিনীর ফুটবলাররা। ২০ মিনিট বিপিন সিংয়ের দুর্দান্ত ক্রস জালে জড়াতে ব্যর্থ হন নাওরেম মহেশ। ৩৮ মিনিটে সুযোগ পায় গোয়া। ৪২ মিনিট বিপিন সিংয়ের পাস সোজা চলে আসে নাওরেমের কাছে। তাঁর নেওয়া শট বাঁচান গোয়ান গোলরক্ষক হৃতিক তিওয়ারি। বিরতির ঠিক আগে আবারও একটা সুযোগ চলে আসে নাওরেমের কাছে। সাঙ্গয়ানের ট্যাকেলে বিপদ এড়ায় গোয়া। আধিপত্য নিয়েও গোল করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে এফসি গোয়া অনেক বেশি আক্রমণাত্বক খেলে। কিন্তু সেখানেই একাধিক সুযোগ তৈরি করেও গোলের খাতা খুলতে ব্যর্থ হয় ইস্টবেঙ্গল। যার ফলে সুপার কাপ জেতার সুবাদে আরও এক বার এশীয় মঞ্চে খেলার সুযোগ পেল গোয়া। ইস্টবেঙ্গলের কাছে দু’বছরের ব্যবধানে দু’বার সুপার কাপ জেতার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।

