ময়দান আপডেট : আইএসএল কবে শুরু হবে ? কি ভাবে আয়োজিত হবে ? কারা উদ্যোক্তা হয়ে আয়োজন করবে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ ? এই প্রশ্নগুলোই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে গোটা দেশের ফুটবল প্রেমীদের মনের মধ্যে! কারণ দেখতে-দেখতে ২০২৬ সাল আসতে চলেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত দেশের এক নম্বর লিগের সূচনা তো দূরের কথা, তাঁর প্রস্তুতি, পরিকল্পনা কোনও কিছুই তৈরি হয়নি। যেখানে অন্য বছর এতদিনে আইএসএলের প্রথম লেগের খেলা শেষ হওয়ায় মুখে চলে যায়। অথচ এই মরসুমে কবে, কি হবে কেউ স্পষ্ট ভাবে বুঝতে পারছেন না। অথচ দলগুলো নিজেদের মতো করে অনেকেই অনুশীলন সারছে। শুক্রবার ডায়মন্ড হারবারের বিরুদ্ধে যুবভারতী অনুশীলন মাঠে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে সার্জিও লোবেরার দল। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের সিনিয়র দলের এখনও সুপার কাপের পর পুরোদমে অনুশীলন শুরু হয়নি। লাল-হলুদের তন্ময়, সায়নদের মতো কিছু বাঙালি ফুটবলার বর্তমানে সঞ্জয় সেনের নেতৃত্বে সন্তোষ ট্রফির অনুশীলন সারছে। পাশাপাশি আইএসএলের অভাবে বাংলার ফুটবল প্রেমীদের মন খারাপ থাকায়, দুধের স্বাদ ঘোলে পূরণ করাতে শ্রাচী গ্রুপের পক্ষ থেকে চালানো হচ্ছে বেঙ্গল সুপার লিগের। যদিও এই লিগের পরিকাঠামো থেকে শুরু করে রেফারিং এর মান নিয়ে একাধিক সমালোচনাও শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল আইএসএল কবে ফিরবে ?

প্রতিদিনই মনে হচ্ছে হয়তো সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে ক্লাব জোটের আলোচনার ভিত্তিতে ইতিবাচক রাস্তা দেখা যাবে! এর আগে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠক করেছে ফেডারেশন ও আইএসএলে অংশ গ্রহণকারী সম্মিলিত ক্লাব জোট। কেন্দ্র কোনও রাস্তা দেখাতে না পারায় ইস্টবেঙ্গল বাদে ১৩ টি ক্লাব একজোট হয়ে নিজেদের উদ্যোগেই আইএসএল আয়োজন করতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রককে। আর সেই প্রস্তাবে সম্মতি জানায় ক্রীড়া মন্ত্রক। তবে এরপর ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে আবারও চিঠি দিয়ে বলা হয়েছিল শুধুমাত্র এই বছর আইএসএল করে দেওয়াটাই শেষ কথা না, আইএসএল নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দরকার। তাই এই বিষয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করুক ফেডারেশন ও ক্রীড়া মন্ত্রক। ফলে ২০ তারিখ ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারণ সভার আগে, বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রক ক্লাব ও ফেডারেশনের সঙ্গে বৈঠক সারে। এই বৈঠকে আইএসএল কি ভাবে দীর্ঘ মেয়াদী ও স্বল্প মেয়াদী করা যায় দুটোরই প্রস্তাব চাইল ক্রীড়া মন্ত্রক। আর সেই বিষয়ে বিভিন্ন ক্লাবগুলোর পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। ফলে আইএসএল নিয়ে কিছুটা ইতিবাচক ইঙ্গিত উঠে এল এই বৈঠকে তা বলাই যায়।
বাংলায় মেসি দর্শনে ব্রাত্য তরুণ ফুটবলাররা ! অথচ লিও-এর পাশে রাজু দা!
কিন্তু ক্লাবগুলোর দেওয়া প্রস্তাব বিবেচনা করে পরবর্তী রূপরেখা কি তৈরি করে ক্রীড়ামন্ত্রক ও ফেডারেশন এখন সেটাই দেখার। কারণ দীর্ঘমেয়াদি আইএসএল প্রতিবছর চালাতে গেলে স্টেডিয়াম খরচ, সম্প্রচার সংস্থা, সমস্ত দলের যাবতীয় খরচ মিলিয়ে যে বিরাট অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন তাতে এফএসডিএলের বিকল্প স্পন্সর সংস্থা ব্যবস্থা অতি দ্রুত করতে হবে। না হলে শুধুমাত্র একবছরের জন্য স্বল্পমেয়াদি আইএলএল করে বিশেষ লাভ কিছু হবে না। কারণ ভারতীয় ফুটবল এগিয়ে নিয়ে যেতে গেলে আইএসএলের জন্য বিনিয়োগ সংস্থার প্রয়োজন অত্যাবশ্যক।
