ময়দান আপডেট: অবশেষে আইএসএলের ফুটবলাররা ফিফায় আবেদন করায় রাতারাতি আইএসএল ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই দিন ঘোষণা করা হবে। সম্ভবত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে পারে আইএসএল। তবে ফেডারেশনের এই বিলম্বিত বোধোদয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে হতবাক প্রাক্তন ফুটবলাররা। আর ফেডারেশন বলেছে রেফারিং থেকে সম্প্রচার, লিগ সংক্রান্ত সব খরচ বহন করবে এআইএফএফ। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল তিন মাসের এই লিগ আয়োজন করতে গিয়ে আগামী দিনে আইলিগ থেকে বয়সভিত্তিক ডেভলপমেন্ট লিগ করার খরচ কোথা থেকে যোগার করবে ফেডারেশন ? তার কোনও পরিকল্পনা ঘোষণা করেনি ফেডারেশন!

প্রাক্তন ফুটবলার সুমিত মুখার্জী ময়দান আপডেটকে জানান, ডিসেম্বরে যখন এফএসডিএলের সঙ্গে চুক্তি শেষ হচ্ছে,এটা এআইএফএফ এর অনেক আগেই বোঝা উচিত ছিল। অপেশাদারী মানসিকতার পরিচয়। কিন্তু মন্দের ভালো ফেডারেশন নিজের উদ্যোগে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে প্লেয়ারদের যখন সমস্যা হচ্ছিল, প্লেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের উচিত ছিল এই সমস্যাটা নিয়ে এএফসি ও ফিফায় জানানো। এই বছর লিগ হলেও, আগামী দিনের জন্য এখন থেকে পরিকল্পনা করা উচিত ফেডারেশনের। আর ফেডারেশনের অবশ্যই উচিত ছিল শুধুমাত্র আইএসএল শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া নয়, কি ভাবে আইলিগ আয়োজন হবে? কি ভাবে মেয়েদের টুর্নামেন্ট হবে? কি ভাবে সন্তোষ ট্রফি আয়োজন হবে? কি ভাবে ডেভেলপমেন্ট লিগের খরচ আসবে? সেই রোডম্যাপ প্রেসকে জানান।

আইএসএল প্রসঙ্গে প্রাক্তন ফুটবলার রহিম নবি বলেন, ফুটবল নিয়ে কার্যত ছেলেখেলা করছে ফেডারেশন। কবে থেকেই তো শুনছি খেলা শুরু হবে! কিন্তু হচ্ছে কোথায় ? ফুটবলটা কি তুলে দিতে চাইছে? ফিফায় আবেদন করে কি হবে! এখানকার যারা খেলা চালাচ্ছে তাদের বুঝতে হবে। এআইএফএফ করছেটা কি বুঝতে পারছি না। দেশের ফুটবলের মান ক্রমশ পিছিয়ে যাচ্ছে। এত প্লেয়ার এত পরিবার কি ভাবে চলবে আগামী দিনে ! তবে এখানে খেলা নিয়ে অতিরিক্ত রাজনীতি হচ্ছে, যেটা খেলার ক্ষতি করছে।
সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের ভূমিকা নিয়ে যথেষ্ট হতাশ প্রাক্তন ফুটবলার মেহেতাব হুসেন। তিনি বলেন, আমরা নিচু তলার ফুটবল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কথা বলছি, কিন্তু যদি আইলিগের উন্নতি না হয়, তাহলে আইএসএলে প্লেয়ার কি ভাবে আসবে ?দেশের সেরা লিগ ভালো ভাবে করতে গেলে আইলিগ সহ অন্যান্য ডেভলপমেন্ট লিগগুলোর মানও উন্নত করতে হবে। না হলে প্রতিভা কি ভাবে উঠে আসবে? কারণ আইএসএলে বর্তমানে যারা খেলছে তাঁদের অধিকাংশ ফুটবলারদের ৭ বছর ১০ বছর খেলা হয়ে গেছে, ক্যারিয়ার শেষের দিকে। কিন্তু যারা আইলিগ খেলছে তারা সবে উঠে আসছে। ফলে তাঁরাই আগামী দিনে দেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ। তাই শুধুমাত্র ক্লাব ও ফুটবলারদের চাপে পড়ে আইএসএল শুরু করে দিলাম, অন্য লিগগুলোর কথা ভাবলাম না! তাহলে দেশের ফুটবলের ক্ষতি হবে। আগামী ৫ বছরের পরিকল্পনা করতে হবে কি ভাবে ফুটবল চলবে। এখন যা পরিস্থিতি তাতে এবার আইলিগ থেকে সেকেন্ড ডিভিশনের ক্লাবগুলোও এবার ফিফায় আবেদন করবে লিগ শুরু করার। কারণ মনে হচ্ছে ফেডারেশন আইএসএল করতে গিয়ে অন্য লিগগুলোর সঙ্গে অবিচার করছে। সমস্ত লিগকেই সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
আইএসএল ফেরার প্রসঙ্গে মুখ খুলেছেন বাংলার জনপ্রিয় কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ১৪০ কোটির দেশে, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয় যে একটা প্রাইম লিগ বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। তবে অবশেষে শুরু হচ্ছে ভালো লাগছে। কিন্তু দেশের ফুটবল প্রশাসকদের আরও সজাগ দৃষ্টি রাখা উচিত। তবে যে ভাবেই হোক এবছরের লিগটা শুরু করা হোক এবং সফল ভাবে লিগটা শেষ করা হোক। ভারতীয় ফুটবলের এই কলঙ্কিত অধ্যায়টা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা দরকার। আর যারা দেশের ফুটবল প্রশাসক সেটা তাদের দায়িত্ব নিতে হবে কি ভাবে আইএসএল করা যায়, কি ভাবে আইলিগ সহ অন্যান্য টুর্নামেন্ট করা যায়। না হলে অনেক ফুটবলার দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে খেলতে। যেতা ভারতীয় ফুটবলের চরম লজ্জাজনক বিষয়।
মুস্তাফিজুরকে বহিস্কার! হতাশ প্রাক্তন বাংলাদেশ অধিনায়ক মহম্মদ আশরাফুল, EXCLUSIVE খবর
