ময়দান আপডেট: বঙ্গ ফুটবল মহলে এখন কান পাতলেই ভাইরাসের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে একটাই শব্দ, লিগ ফিক্সিং! আর গত কয়েকদিন ধরে বঙ্গ ফুটবল সংস্থার অন্দরেই গৃহযুদ্ধের আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে বেটিং ইস্যুকে সামনে রেখে। আর মঙ্গলবার প্রেস ক্লাবে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের বিরুদ্ধে সরব হয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করে সুর চড়িয়েছিলেন আইএফএর সহ-সভাপতি সৌরভ পাল। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন আইএফএর আর এক সহ-সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসও। আর বুধবার নিজের প্রতিবাদ আরও জোরদার করতে আইএফএর সহ-সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন সৌরভ পাল। অন্যদিকে আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্ত বলেন, লিগে ফিক্সিং হলে সেটা ওনি আইএফএর অন্দরেই বলতে পারতেন, মিডিয়ার কাছে বলার অর্থ আইএফএ ও শ্রাচীর বদনাম করার প্রচেষ্টা।
আর এদিন আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্তের পাশে দাঁড়িয়ে ইউনাইটেড স্পোর্টসের কর্ণধার নবাব ভট্টাচার্য ময়দান আপডেটকে বলেন, এসব করার অর্থ আইএফএর ভিতরে থেকেই বাংলার ফুটবলের ক্ষতি করা। যাতে আগামী দিনে আর কেউ বাংলার ফুটবলের উন্নতিতে টাকা দিতে না চায় সেই রাস্তা করে দেওয়া হচ্ছে। বেঙ্গল সুপার লিগ একটা দুর্দান্ত উদ্যোগ। শ্রাচী টাকা দিচ্ছে, কিন্তু এই ধরনের কথা বললে বাংলার ফুটবলের উন্নতি বন্ধ হয়ে যাবে। বিশ্বে সব লিগেই কম-বেশি বেটিং হয়। কিন্তু তার জন্য রাস্তায় দাঁড়িয়ে চিৎকার করলে ফুটবলের ক্ষতি। তার কাছে প্রমাণ থাকলে সে পুলিশকে দিক। অন্যায় হয়ে থাকলে নিশ্চয় বিচার হবে। সবক্ষেত্রে বেটিং-বেটিং করে চিৎকার করলে বাংলার ফুটবলকে কালিমালিপ্ত করা ছাড়া আর কিছুই নয়। একটা তদন্ত যখন চলছে তার চার্জশিটটা পড়ে শোনালে সব হয় না। পুলিশ তদন্ত করছে ফলে সেই তদন্তের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু এসব করে নিজের মুখ ক্যামেরায় দেখানো ছাড়া কিছুই হবে না।

অন্যদিকে লিগে ফিক্সিং ইস্যুকে সামনে রেখে তীব্র ভাষায় অপরাধিদের শাস্তি দাবি করে সৌরভ পালের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রাক্তন মোহনবাগান তারকা ফুটবলার প্রবীর দাশ। তিনি বলেন, বেঙ্গল সুপার লিগে প্রত্যেক ম্যাচে নিয়ম করে খেলা শেষ হয়ে যাওয়ার পর পেনাল্টি করানো হচ্ছে! যেটা পৃথিবীর কোনও লিগে হয় বলে জানা নেই। এটা মনোরঞ্জনের জন্য হচ্ছে নাকি এর পিছনে বিরাট বড় খেলা চলছে ? এই অদ্ভুদ নিয়ম কেন করা হচ্ছে জানা নেই। যা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। বেঙ্গল সুপার লিগে প্রতিভা উঠে আসার জায়গায় এসব করে ফুটবলের ক্ষতি করা হচ্ছে। বহু বাঙালি ছেলের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তাঁদের অবিলম্বে শাস্তি দিতে হবে। বেঙ্গল সুপার লিগের অফিসিয়ালরা মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন ! প্রত্যেক ম্যাচে পেনাল্টি করে বেটিং চক্রের মাধ্যমে নিজেদের অর্থ উপার্জন করছে। আর জেলার প্রতিভা যদি তুলে আনতে হতো তাহলে বিদেশী খেলানো হতো না। আর বাংলার ফুটবলের এই নোংরামি বন্ধ করতে কেন আইএফএ সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে না? বাংলার ফুটবলের উন্নতির নামে এই পেনাল্টি করানোর সিদ্ধান্তের তীব্র ধিক্কার জানান প্রবীর দাশ।
ইস্টবেঙ্গলের অনুশীলনে গড়হাজির মিগুয়েল,যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে যুবভারতী সংস্কারের কাজ
