ময়দান আপডেট: মরসুম আসে,মরসুম যায়! কিন্তু বাংলার ক্রিকেট দলের ঝুলিতে ট্রফির খরা যেন কাটতেই চাই না। সেই কবে ১৯৮৯-৯০ সালে শেষবার রঞ্জি ট্রফি জিতেছিল বাংলার দল। আর সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-২০ ট্রফিতে একবারই বাংলা চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ২০১০-১১ সালে। পাশাপাশি বিজয়হাজারে ওয়ানডে ট্রফিতেও বাংলা এখনও পর্যন্ত ট্রফি জিতেছে মাত্র একবার। সেটা ২০১১-১২ সালে বাংলা চ্যাম্পিয়ন হয় মুম্বইকে হারিয়ে। আর এই বছরও ফের হতাশাজনক ফলাফল বাংলার। সৈয়দ মুস্তাক আলি টি-২০ ট্রফির পর, বিজয়হাজারে ওয়ানডে ট্রফিতেও গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হল বাংলার দলকে। শুরুটা ভালো হলেও, শেষ দুই ম্যাচে হায়দরাবাদ ও উত্তর প্রদেশের কাছে বড় ব্যবধানে হার বাংলার। এই বছর বাংলার দল ছিল অন্যান্য বছরের অপেক্ষা অনেকটাই শক্তিশালী। বোলিং লাইনে কে নেই! ভারতীয় দলের দুই তারকা পেসার মহম্মদ শামি ও আকাশদীপের পাশাপাশি ছিলেন তারকা পেসার মুকেশ কুমার ও শাহবাজ আহমেদের মতো অভিজ্ঞ স্পিনার। পাশাপাশি ব্যাটিং বিভাগে অভিমন্যু ঈশ্বরণ, অনুষ্টুপ থেকে সুদীপ ঘরামি। চোটের জন্য শেষ দুই ম্যাচ ছাড়া খেলেছেন অভিজ্ঞ ব্যাটিং অলরাউন্ডার অভিষেক পোড়েলও। কিন্তু তারপরেও সহজ প্রতিপক্ষ হায়দরাবাদের কাছে হারতেই নকআউটের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় বাংলার। আর শেষ ম্যাচে শক্তিশালী উত্তর প্রদেশের কাছেও বড় ব্যবধানে পরাজয়। তার জেরে সমালোচনার মুখে লক্ষ্মীরতন শুক্লার নেতৃত্বাধীন বাংলার দল।

বাংলার ব্যর্থতার কারণ প্রসঙ্গে বাংলার অভিজ্ঞ কোচ তথা প্রাক্তন ক্রিকেটার সৌরাশিস লাহিড়ি জানান, এই বছর বাংলার দল লাল বলের ক্রিকেটে সাফল্য দেখালেও, সাদা বলের ক্রিকেটে যথেষ্ট ভালো দল থাকার পরেও আশানুরূপ সাফল্য আসল না। মহম্মদ শামি থেকে আকাশ, মুকেশ, শাহবাজ সকলেই ছিলেন। তবে শেষ দিকে অভিষেক পোড়েলের চোটটা দলকে সমস্যায় ফেলল। মুস্তাক আলি থেকে বিজয়হাজারেতে দল ভালো শুরু করলেও, সাফল্য ধরে রাখতে পারেনি। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যাচের চাপ ধরে রাখতে পারছে না দল। তবে সৌরাশিস লাহিড়ি আশাবাদী লাল বলের ক্রিকেটে রঞ্জি ট্রফিতে এই বছর বাংলার দল ভালো সাফল্য পাবে। বর্তমানে গ্রুপ টেবিলে শীর্ষে রয়েছে বাংলার দল। আগামী ২২ তারিখ থেকে ইডেনে ঘরের মাঠে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে খেলতে নামবে বাংলার দল। ফলে বাংলার দল ইডেনে ভালো ফলাফল করবে আশাবাদী সৌরাশিস। ট্রফি জয় অনেক দূরের বিষয়। তবে বাংলার দল কোয়ার্টার, সেমিফাইনাল, ফাইনাল খেলতেই পারে এইবার। কিন্তু এই সাফল্য ধরে রাখতে পারলে এইবার বাংলার দল রঞ্জি ট্রফি চ্যাম্পিয়নও হতে পারে আশাবাদী সৌরাশিস লাহিড়ি।

অন্যদিকে বাংলার ব্যর্থতার কারণ প্রসঙ্গে দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অনুষ্টুপ মজুমদার জানান, বোলিং-ব্যাটিং-ফিল্ডিং তিনটে বিভাগেই দলের পার্ফমেন্স খারাপ হয়েছে। তিনটে বিভাগেই যদি দলের সাফল্য না আসে তাহলে কী ভাবে দল জিতবে! শুধুমাত্র বোলিং বিভাগ নয়, ব্যাটিং বিভাগেও ভালো করতে পারিনি আমরা। এটা টিম গেম। সবাই ভালো খেলতে না পারলে জেতা যায় না। তবে অভিষেক পোড়েলের চোটটা সমস্যায় ফেলে দেয় দলকে। তবে রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার দল এবার নকআউটে যাবে এবং ভালো ফলাফল করবে আশাবাদী বাংলার অভিজ্ঞ ব্যাটার রুকু।

বাংলার হায়দরাবাদ ম্যাচটাই টার্নিং পয়েন্ট হয়ে গেল। ওই ম্যাচটা অবশ্যই জেতা উচিত ছিল। মত প্রাক্তন ক্রিকেটার সম্বরণ ব্যানার্জীর। তিনি বলেন হায়দরাবাদ ম্যাচটা জিততে পারলেই তাহলে কোয়ালিফাই করত। যদিও ওই ম্যাচটা রাজকোটে পাটা উইকেটে খেলা হয়েছে। কিন্তু উঠতে পারল না সবটাই দুর্ভাগ্য। পাশাপাশি অভিষেক পোড়েলেন চোটটা যে দলকে বিপাকে ফেলেছে তা স্বীকার করে নেন সম্বরণ ব্যানার্জী। অন্যদিকে রঞ্জি ট্রফিতে বাংলার দল নিয়ে বেশ আশাবাদী সম্বরণ ব্যানার্জী। তিনি বলেন, রঞ্জি ট্রফি সম্পূর্ণ ডিফারেন্ট ফর্ম্যাটে খেলা, বাংলা ভালো জায়গায় আছে। সুতরাং এবার ট্রফি ঘরে আসতেই পারে।
