ময়দান আপডেট: চলে গেলেন প্রাক্তন লাল-হলুদ অধিনায়ক ইলিয়াস পাশা। বৃহস্পতিবার শোকের ছাড়া নেমে আসে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব সহ গোটা ময়দানে। ১৯৯০ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ইলিয়াস পাশা ছিলেন ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের অন্যতম নির্ভরযোগ্য নাম। অধিনায়ক ছিলেন ১৯৯৩ সালে । পাশার অধিনায়কত্বে ইস্টবেঙ্গল কাপ উইনার্স কাপে ইরাকের শক্তিশালী দল আল জাওরার বিরুদ্ধে ৬-২ গোলে জয় পেয়েছিল। এছাড়াও সেই বছরেই নেপালের কাঠমান্ডু থেকে জিতে এসেছিলেন ওয়াই ওয়াই কাপ। ইস্টবেঙ্গলে থাকাকালীন ইলিয়াস পাশা ৫ বার কলকাতা লিগ, ৪ বার ডুরান্ড কাপ, ৫ বার শিল্ড, ২ বার রোভার্স কাপ, ৪ বার এয়ারলাইন্স গোল্ড কাপ এবং একবার করে ফেডারেশন কাপ, বরদলুই ট্রফি, সুপার কাপ, ম্যাকডোয়েল কাপ, এস.এস.এস. ট্রফি এবং এ.টি.পি.এ. শিল্ড জয়ী দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন।

ভারতীয় ফুটবলে ব্যাঙ্গালোর আমেদ খান, অরুময় নৈগম, উলগানাথন, বাবু মানি, কার্লটন চ্যাপম্যানের মতো বহু ভালো ভালো ফুটবলার উপহার দিয়েছে। এঁদের মতোই আরও এক ফুটবলার রাইট ব্যাক ইলিয়াস পাশা। ১৯৯০ সালে মহামেডান থেকে ইলিয়াস পাশা যোগ দিলেন ইস্টবেঙ্গলে, গায়ে উঠলো ১৭ নম্বর জার্সি। দ্রুত জায়গা করে নিলেন প্রথম একাদশে। ডানদিক দিয়ে পাশার ওভারল্যাপ অনেকটাই ইস্টবেঙ্গলের রাইট উইঙ্গারের কাজ করতো। ২০১২ সালে ক্লাবের প্রতিষ্ঠা দিবসের সময় ব্যাঙ্গালোর থেকে আহমেদ খান ও ইলিয়াস পাশাকে নিয়ে এসে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব তাদের সংবর্ধিত করে। ২০১৯ সালেও ক্লাবের শতবর্ষের মঞ্চে সকল অধিনায়কের সাথে পাশাকেও সম্মানিত করা হয়। সেই বছরই ১৩ই আগস্ট প্রাক্তনদের প্রদর্শনী ম্যাচে পাশা খেলেও ছিলেন।

কোটি কোটি লাল হলুদ সমর্থকের হৃদয়ে ইলিয়াস পাশা আজও ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতার আরেক নাম। যার নামটা চিরকালীন হয়ে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবেই থেকে যাবে। আজ ইলিয়াস পাশার প্রয়াণে ক্লাবের পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় । ক্লাবের অনুর্দ্ধ ১৬ টিম ক্লাব মাঠে প্র্যাক্টিসের আগে ইলিয়াস পাশার স্মরণে নিরাবতা পালন করে।
