সৌরভ রায়, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: বাংলার ক্রিকেট থেকে উঠে এসে দেশের নাম উজ্জ্বল করে, বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে সুনামের সঙ্গে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ করিয়ে খ্যাতি অর্জন করেছেন। জনপ্রিয় ক্রিকেট কোচ সিদ্ধার্থ ব্যানার্জীর মুখোমুখি হয়েছিল ময়দান আপডেট। তিনি কয়েক দিনের ছুটিতে কলকাতায় বাড়িতে ফিরেছেন। তারই মধ্যে পৌঁছে গিয়েছেন অশোকনগর, হাবড়া থেকে যাদবপুর, আসানসোলের ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে ছোট-ছোট ক্রিকেটারদের ক্রিকেটের বিশেষ প্রশিক্ষণ দিতে। আর এরই মধ্যে তিনি ঘুরে গেলেন কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় খেলার সরঞ্জামের শোরুম বলে পরিচিত রবীন্দ্র সরোবরের EXCEL SPORTS-এ। অস্ট্রেলিয়াতেও তিনি EXCEL SPORTS এর ব্যাট-বল থেকে খেলার সরঞ্জাম নিয়মিত ব্যবহার করেন। ফলে এই কোম্পানির খেলার সরঞ্জামের উপর বিশেষ ভরসা রয়েছে সিদ্ধার্থ ব্যানার্জীর।

এদিন ভারতীয় ক্রিকেট থেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করলেন কোচ সিদ্ধার্থ ব্যানার্জী। তিনি বলেন, ২০ বছর আগেও অস্ট্রেলিয়া যতটা দাপটের সঙ্গে ক্রিকেট খেলত, বর্তমানেও ততটাই দাপটের সঙ্গে ক্রিকেট খেলছে। কিন্তু ভারত সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে না। তার কারণ দুই দেশের ক্রিকেটারদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা অনেক তথাৎ। এছাড়া ছোটথেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা যেরকম মাঠে খেলে তা আমাদের প্রায় ইডেন গার্ডেন্সের মতো, অথচ ভারতে আমাদের দেশে ক্রিকেটাররা খেলে ছোটবেলায় পাড়ায় অত্যন্ত সাধারণমানের মাঠে। ফলে ফিল্ডিং কিংবা বোলিং এর প্রাথমিক প্রশিক্ষণ ভারতের ছেলেদের ছোট থেকে সঠিক হয় না। পাশাপাশি তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারদের মধ্যে ভারতীয়দের মতো এতো ইগো কাজ করা না। ওরা শুধুমাত্র নিজেদের খেলায় ফোকাস করে। কে সিনিয়র, কে জুনিয়র বা অভিজ্ঞ-অনভিজ্ঞ নিয়ে মাথা ব্যাথা করে না। অনেক তারকা অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা জুনিয়রদের অধীনে খেলতে হলেও নিজের সেরাটা দেয়। যেটা ভারতের ক্রিকেটারদের মধ্যে সেই মানসিকতা থাকে না। ফলে দেশ বা দল সাফল্য পায়। দলগত সাফল্যে ক্রিকেট খেলেন অস্ট্রেলিয়ানরা।
পাশাপাশি সিদ্ধার্থ ব্যানার্জী জানান, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা সারা বছর প্রচুর ম্যাচ খেলে। ছোটথেকে অনেক ম্যাচ খেলার ফলে টেনশেন ফ্রি মাইন্ডে ক্রিকেট খেলতে পারে। ফলে যে কোনও পরিস্থিতিতে চাপে না পড়ে, নিজের সেরা খেলাটা চালিয়ে যেতে পারে। অথচ ভারতীয়রা ছোট থেকে বিভিন্ন রকম টেনশেন নিয়ে বড় হয়, ম্যাচ কম খেলার সুযোগ পায়। ফলে বড় ম্যাচে চাপ সামলাতে পারে না। যে কারণে ভারতে 2023 সালে বিশ্বকাপের ফাইনালে আমেদাবাদে ভারতীয় সমর্থকদের ভরা গ্যালারিতেও দাপটের সঙ্গে খেলে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যেতে পারে অস্ট্রেলিয়া। ওরা সমর্থকদের চাপ সামলাতে কোনও দিনই সমস্যায় পড়ে না।
