সোনালি চ্যাটার্জী, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন ডেভেলপমেন্ট লিগের ডার্বিতে হারের পর এবার ইউনাইটেড স্পোর্টসের বিরুদ্ধেও আটকে গেল মোহনবাগান সুপার জায়ান্টাস। যদিও ইতিমধ্যেই জোনাল পর্যায়ের লড়াইয়ে গ্রুপের তৃতীয় দল হিসাবে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে মোহনবাগান। ফলে কিছুটা হালকা ভাবেই এদিন বারাকপুর স্টেডিয়ামে দল সাজায় সবুজ-মেরুন বাহিনী। দলের একাধিক অভিজ্ঞ ফুটবলারদের বিশ্রাম দেওয়া হয়। পরিবর্তে প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়া হয় রিজার্ভ বেঞ্চের ফুটবলারদের। আর সেই পরিকল্পনা সফল হল না মোহনবাগানের। যে ইউনাইটেড স্পোর্টসকে আগের রাউন্ডে ৮-০ গোলে হারিয়েছিল মোহনবাগান, এবার তাদের কাছেই ২-২ গোলে ড্র করে মাঠ ছাড়ল সবুজ-মেরুন বাহিনী।

মোহনবাগানের দলে এদিন উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে বদল করা হয় গোলরক্ষক পজিশনে। অধিনায়ক অভিজ্ঞ প্রিয়াংশকে বিশ্রাম দিয়ে তার জায়গায় প্রথম একাদশে গোলরক্ষক হিসেবে এদিন ছিলেন তরুণ ফুটবলার অনিকেত ঘোষ। যিনি সবুজ মেরুন জার্সিতে প্রথমবার অভিষেক করলেন। এছাড়াও প্রথম একাদশে অনুর্ধ ১৮ এর বেশকিছু খেলোয়াড়কে দেখা গিয়েছিল। এমনকি পাশাং দরজি তামাংকেও রাখা হয় রিজার্ভ বেঞ্চে।
এদিন খেলার ২১ মিনিটের মাথায় ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেয় রোনাল্ড মুর্মু। মোহনবাগানের রক্ষণ বিভাগের ভুলেই এই গোল তাদের হজম করতে হয়। গোল শোধ করার জন্য সুযোগ তৈরি করে নেওয়ার চেয়ে বেশি সৌভাগ্যবশত সুযোগ চলে আসছিল মোহনবাগানের সামনে। ২৭ মিনিটের মাথায় একটি ফ্রি কিক পায় মোহনবাগান, তবে সেটি লক্ষ্যে রাখতে ব্যর্থ হয় গুনরাজ। তবে ৩২ মিনিটের মাথায় আদিত্য ইউনাইটেডের বক্সে একটা ওয়ান টু পাশ খেলে বল বাড়িয়ে দিলে ভারাত সেই সুযোগ হাতছাড়া করেন না। দলকে সমতায় এনে দেন তিনি। এর পরবর্তীতে প্রথমার্ধের একদম শেষ পর্যায়ে লিওয়ান কাস্তানার ফ্রি কিক থেকে বিভান জ্যোতি গোল করে মোহনবাগানকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধ শেষ হয় ২-১ গোলে।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে মাঠে নামেন সৌমজিৎ তরফদার। যিনি কিছুদিন আগেই বাবাকে হারিয়েছেন।তবুও ক্লাবকে বলেছেন তিনি লিগের বাকি ম্যাচগুলি খেলবেন। সৌমজিৎ ম্যাচের পর বলেন, বাবার স্বপ্ন পূরণের জন্যই তিনি মাঠে নেমেছেন। বাবার স্বপ্ন ছিল ছেলে ভালো ফুটবলার হবে। তাঁর স্বপ্ন ভারতীয় দলের জার্সিতে খেলা। উল্লেখ্য এদিন সৌম্যজিৎ কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বেশকিছু সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করলেও, মোহনবাগানের মাঝমাঠ তা রুখে দেয়। যখন মোহনবাগানের ২-১ গোলে জয় প্রায় নিশ্চিত তখনই খেলার একদম শেষ মুহূর্তে ৯০ মিনিটের মাথায় ইউনাইটেডের রাহুল রাই গোল করে মোহনবাগানের থেকে কার্যত ৩ পয়েন্ট ছিনিয়ে নেন। খেলা শেষ হয় ২-২ গোলে।
পরবর্তী রাউন্ডে মোহনবাগান কোয়ালিফাই করলেও যে ফুটবল তারা খেলছেন তা দিয়ে যে দর্শকদের মন ভরাতে ব্যর্থ হচ্ছেন, সেটিও পরিস্কার। সুতরাং পরবর্তী রাউন্ডে মোহনবাগান নিজেদের কতটা শক্তিশালী করে মাঠে নামে সেটাই দেখার।
