ময়দান আপডেট: রঞ্জি ট্রফিতে কোয়ার্টার ফাইনালে বড় ব্যবধানে ঘরের মাঠে অন্ধ্রপ্রদেশকে হারিয়ে এবার রঞ্জি জয়ের স্বপ্ন দেখছে টিম বেঙ্গল। আর মাত্র সামনে দুটো লড়াই বাকি। সেই ১৯৮৯-৯০ সালে শেষবার ট্রফি ট্রফি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলার দল। দেখতে-দেখতে কেটে গেছে ৩৬ বছর। এরমধ্যে বেশ কয়েকবার বাংলা রঞ্জির কোয়ার্টার ফাইনাল, সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ খেলেছে। কিন্তু বার-বারই মূল পর্বে ট্রফি জয়ের দোরগোড়ায় গিয়েও নিরাস হতে চলেছে বাংলার দলকে। এই তিন দশকের বেশি সময়ে বহু কোচ,অধিনায়ক থেকে ক্রিকেটার এসেছে-চলে গেছেন কিন্তু লাল বলের ক্রিকেটে ভারতসেরা হওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেছে বাংলার। তবে আবারও একটা ট্রফি জয়ের হাতছানি। আর এবার বাংলার সামনে সুবর্ণ সুযোগ, কারণ ঘরেই মাঠেই বাংলা সেমিফাইনাল ম্যাচ তো খেলছেই। পাশাপাশি হিসেব বলছে বাংলা ফাইনালে উঠলে ফাইনালও সম্ভবত খেলবে ঘরের মাঠে। ফলে নিজেদের মনের মতো উইকেটে লড়াই করতে পারবে, যা বাড়তি সাহস যোগাবে বাংলার ছেলেদের। ফলে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী লক্ষ্মীর দল।

উল্লেখ্য এর আগে বাংলা শেষবার রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল খেলেছে ২০২২-২৩ সালে সৌরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে। ইডেনে ঘরের মাঠে ফাইনাল খেললেও, বাংলার দলকে হারিয়ে ট্রফি নিজেদের রাজ্যে নিয়ে গিয়েছিলেন জয়দেব উনাদকাটরা। আর গত মরসুমে রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ফাইনালে কেরালাকে হারিয়ে বিদর্ভ। আর এইবার বাংলার সামনে রঞ্জির সেমিফাইনালে প্রথমবার শেষ চারে ওঠা জম্মু-কাশ্মীর। এই বছর বেশ ভয়ঙ্কর দেখাচ্ছে জম্মুর দলকে। ফলে রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে কল্যাণীতে শুরু হতে চলা সেমিতে বাংলাকে কিছুটা এগিয়ে রাখা গেলেও, প্রতিপক্ষ জম্মু-কাশ্মীর বেশ বেগ দিতে পারে অভিমন্যু ঈশ্বরণদের। মধ্যপ্রদেশের বিরুদ্ধে কোয়ার্টার ফাইনালে ৫৬ রানে জয় লাভ করেছে জম্মু। অনবদ্য পেস বোলিংয়ের দাপট দেখিয়েছেন আকিব নবি। প্রথম ইনিংসে ৭ উইকেট এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন তিনি। মোট ১২ উইকেট। ফলে সেমিতে বাংলাকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি জম্মু-কাশ্মীর।

অন্যদিকে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে রবিবার থেকে লখনউতে মুখোমুখি হতে চলেছে উত্তরাখন্ড ও কর্ণাটক। কর্ণাটক শেষবার রঞ্জি চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ২০১৪-১৫ মরসুমে। তবে সেই সময় পর-পর দুই বছর ট্রফি নিজেদের দখলে রেখেছিল কর্ণাটক। ২০১৩-১৪ ও ২০১৪-১৫ দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়। তার পর থেকে ফাইনালে ওঠেনি কোনও দিন। ফলে এইবার কেএল রাহুলের দাপুটে সেঞ্চুরির সৌজন্যে মুম্বইকে তাদের ঘরের মাঠে ৪ উইকেটে হারিয়ে শেষ চারে পৌঁছেছে কর্নাটক। ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছেন রাহুলরাও। তাদের প্রতিপক্ষ দল উত্তরাখন্ড কোয়ার্টার ফাইনালে ইনিংস সহ ৬ রানে ঝাড়খন্ডকে হারিয়ে সেমিতে উঠে এসেছে। আজ পর্যন্ত কোনও দিন রঞ্জি ট্রফির ফাইনাল খেলেনি উত্তরাখন্ড। ফলে প্রথমবার ফাইনালে খেলতে চায় তারা। আর সেটা করতে গেলে শক্তিশালী কর্ণাটকের বিরুদ্ধে জিততে হবে উত্তরাখন্ডকে।

তবে এবার রঞ্জির কোয়ার্টার ফাইনালে ৫৯৬ বলে ২৯৯ রানের স্বর্ণাজ্জ্বল এক রূপকথার মতো ইনিংস দলকে উপহার দিয়েছেন সুদীপ ঘরামি। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ৩১ টা চার ও ৬ টা ছয় দিয়ে। যা বাংলাকে জিততে বড় ভূমিকা নিয়েছে। ফলে বাংলার শামি-আকাশ-মুকেশ-শাহবাজদের শক্তিশালী বোলিং আক্রমণের পাশাপাশি ঘরামির অনবদ্য ব্যাটিং সেমিতে নামার আগে বঙ্গ শিবিরের মনোবল বৃদ্ধি করেছে হাজারোগুন।
আগামিকাল প্রতিপক্ষ নামিবিয়া, তবে এখন থেকেই পাক ম্যাচের রণনীতি সাজাতে ব্যস্ত গম্ভীর
