ময়দান আপডেট: কল্যাণীতে রঞ্জির সেমিফাইনালের তৃতীয় দিনে একদিনে পড়ল ১৭ টা উইকেট। আর সমস্ত উইকেট পেস বোলারদের দখলে। এর থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে কল্যাণীর পিচে ফাস্ট বোলাররা যতটা সুবিধা পাচ্ছেন, ঠিক ততটাই সমস্যায় পড়ছেন ব্যাটাররা। বাংলা বনাম জম্মু-কাশ্মীর ম্যাচের তৃতীয় দিনের খেলায় ছিল জমজমাট থ্রিলার। তার কারণ মঙ্গলবার তৃতীয় দিনে ম্যাচের ভাগ্য একবার বাংলার দিকে ঝুঁকেছে তো, একবার জম্মুর দিকে টান নিয়েছে। ফলে নাটকের মতোই ঘন-ঘন দৃশ্যের বদল হতে দেখলেন দর্শকরা। মঙ্গলবার দিনের শুরুতে যখন জম্মু-কাশ্মীর ব্যাট করতে নামে তখন তাদের স্কোর ছিল ৫ উইকেটে ১৯৮ রান। আর দিনের শুরুতেই প্রতিপক্ষ দলের পর-পর তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে প্রথম ইনিংসে বাংলাকে বড় রানের লিড পাওয়ার সুযোগ করে দেন মহম্মদ শামি। ২৩১ রানে ৮ উইকেট পড়ে যায় জম্মু-কাশ্মীরের। অথচ সেখান থেকে দলকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে অনবদ্য ব্যাটিং উপহার দেন আকিব নবি ও যুধবীর সিং। তাদের পার্টনারশিপ রীতিমতো বাংলা শিবিরে আতঙ্ক তৈরি করে। ২৩১ রানে ৮ উইকেট থেকে তাঁদের পার্টনারশিপ গিয়ে শেষ হয় ২৯৫ রানে ৯ উইকেটে। যুধবীর সিংকে ৪২ বলে ৩৩ রানে বোল্ড করে দেন মহম্মদ শামি। তবে এরপর আর বেশি সময় স্থায়ী হয়নি জম্মুর ইনিংস। ৩০২ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। দুর্দান্ত লড়াই করা আকিব নবিকেও ৫৪ বলে ৪২ রানে বোল্ড করে দেন শামি। বাংলার হয়ে ৮ উইকেট তুলে নেন শামি ও ২ উইকেট মুকেশ কুমার।

ফলে ২৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলা। ফলে অনেকটাই এগিয়ে থেকে নামলেও, বাংলার ব্যাটিংলাইনকে কার্যত তাসের ঘরের মতো ধরাশায়ী করে দিলেন আকিব নবি, সুনীল কুমাররা। ঝড়ের গতিতে দ্রুত আউট হয়ে প্যাভিলিয়ানে ফিরে যান একের পর এক তারকা ব্যাটাররা। ০ রানে ফিরলেন বাংলার তিন ব্যাটার সুদীপ ঘরামি, সুদীপ চ্যাটার্জী ও আকাশদীপ। অভিমন্যু ফিরে যান ৫ রানে। অনুষ্টুপ ১২, সুমন্ত ৮ রানে আউট হয়ে যান। বাংলার দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২৪ রান করেন শাহবাজ আহমেদ। মাত্র ২৫ ওভার ১ বলেই ৯৯ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলা। ফলে কার্যত লজ্জার নজির গড়ল বঙ্গ শিবির। জম্মু-কাশ্মীরের হয়ে ৪ টি করে উইকেট নেন আকিব নবি ও সুনীল কুমার। ফলে সম্পূর্ন ম্যাচের রাশ চলে যায় জম্মু-কাশ্মীরের দিকে।

জয়ের জন্য মাত্র ১২৬ রানের টার্গেট নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে জম্মু-কাশ্মীর। কিন্তু ফের তাদের ইনিংসের শুরুতেই পর-পর দুই ওপেনারকে ১ ও ৬ রানে আউট করে দেন আকাশদীপ। ফলে আবারও কিছুটা জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন বাংলার সমর্থকরা। তবে দিনের শেষে আবারও একটা ভালো পার্টনারশিপ গড়ে তোলেন শুভম পুন্ডির ও ভানসাজ শর্মা। দিনের শেষে জম্মু-কাশ্মীরের স্কোর ৪৩ রানে ২ উইকেট। ফলে আর মাত্র জয় থেকে ৮৩ রান দূরে পরশ দোগরার দল। সুতরাং বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে বুধবার খেলার চতুর্থ দিনের প্রথম কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ম্যাচ জিতে প্রথমবার রঞ্জির ফাইনালে জায়গা করে নিতে পারে জম্মু-কাশ্মীর। অপরদিকে বাংলার সামনে কার্যত অগ্নিপরীক্ষা। প্রতিপক্ষ দলকে বুধবার ৮৩ রানের মধ্যে ৮ উইকেট ফেলতে হবে, যা বেশ অসম্ভব তা বলা যেতেই পারে।
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে শ্রীলঙ্কা, জয়ী আফগানিস্তান ও ইংল্যান্ড
