ময়দান আপডেট: একজন নয়া ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি, অন্যজন দ্বিতীয়বারের জন্য নয়া বঙ্গ ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি। বিসিসিআই সভাপতি মিঠুন মনহাসের রাজ্যের দল জম্মু-কাশ্মীর বনাম সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের দল মুখোমুখি হয়েছিল, বাংলার ঘরের মাঠে কল্যাণীতে রঞ্জির সেমিফাইনালে। এর আগে অতীতে বহুবার রঞ্জির সেমিফাইনাল, ফাইনাল খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে বাংলার দলের। অথচ রঞ্জি ট্রফিতে এই প্রথমবার সেমিফাইনালে খেলতে নেমেছিল বোর্ড সভাপতি মিঠুন মনহাসের দল জম্মু-কাশ্মীর। ফলে অভিজ্ঞতা থেকে শক্তির বিচারে বাংলার থেকে অনেক পিছিয়ে থেকেই এদিন বাংলার ঘরের মাঠে সেমিফাইনালে খেলতে নেমেছিল জম্মু-কাশ্মীরের তরুণ ক্রিকেটাররা। যেখানে বাংলার দলে রয়েছেন ভারতীয় দল থেকে আইপিএলে খেলা চার তারকা ক্রিকেটার- মহম্মদ শামি, মুকেশ কুমার, আকাশদীপ ও শাহবাজ আহমেদ। পাশাপাশি ভারতীয় দলের সঙ্গে না খেললেও, টিমের সঙ্গে অনুশীলন থেকে ড্রেসিংরুম শেয়ার করা অভিজ্ঞ বাংলার অধিনায়ক অভিমন্যু ঈশ্বরণও রয়েছেন। রয়েছেন সুদীপ চ্যাটার্জী, অনুষ্টুপ মজুমদারের মতো পোড়খাওয়া দীর্ঘদিন বাংলার ক্রিকেটের দুই তারকা ক্রিকেটার। অথচ তারপরেও অপেক্ষাকৃত সহজ প্রতিপক্ষ জম্মু-কাশ্মীরের কাছে ৬ উইকেটে হেরে, এবারের মতো রঞ্জি ট্রফি জয়ের স্বপ্ন শেষ করল বাংলার ছেলেরা। অপরদিকে ইতিহাস গড়ে প্রথমবার রঞ্জির ফাইনালে জম্মু-কাশ্মীর।

প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে বাংলা তুলেছিল ৩২৮ রান। বাংলার হয়ে ১৪৬ রানের একটা অনবদ্য ইনিংস খেলেন সুদীপ কুমার ঘরামি। অন্যদিকে জম্মু-কাশ্মীরের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং উপহার দেন আকিব নবি ও সুনীল কুমার। নবি নেন ৫ উইকেট, সুনীল কুমার ৩ উইকেট।

আর জবাবে ব্যাট করতে নেমে জম্মু-কাশ্মীর তোলে ৩০২ রান। তাদের ইনিংসে অধিনায়ক পরশ ডোগরা করেন ৫৮ রান এবং আব্দুল সামাদ ৮২ রান। পাশাপাশি ইনিংসে শেষের দিকে দুর্দান্ত পার্টনারশিপ গড়ে তুলে জম্মু-কাশ্মীরকে লড়াইয়ে ফেরান আকিব নবি এবং যুধবীর সিং। নবি করেন ৪২ রান। বাংলার থেকে ২৬ রানে পিছিয়ে ছিল জম্মু।

এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলা ব্যাট করতে নেমে লজ্জার ব্যাটিং প্রদর্শন টিম বেঙ্গলের। মাত্র ৯৯ রানে ঘরের মাঠে ২৫ ওভার ১ বলেই, অলআউট হয়ে যায় তারা। বাংলার ইনিংসে বল হাতে ধস নামিয়ে দেন আবিব নবি ও সুনীল কুুমার। দুইজনেই নেন ৪ উইকেট করে। ফলে মাত্র ১২৬ রানের জয়ের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল জম্মু-কাশ্মীরের।

সেই রানটা করতে খুব একটা সমস্যায় পড়তে হয় নি বাংলার দলকে। রঞ্জির চতুর্থ দিনের লাঞ্চ বিরতির আগে অতি-সহজে ৪ উইকেট হারিয়ে প্রয়োজনীয় রান তুলে নিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেল জম্মু-কাশ্মীর। আর দুই ইনিংস মিলিয়ে মহম্মদ শামি ৯ উইকেট নিলেও, লড়াই ব্যর্থ হয়ে গেল বাংলার। অন্যদিকে ব্যাট হাতে ৪২ রানের চোখ ধাঁধানো ইনিংস এবং ৯ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা হয়ে নিজেকে প্রমাণ করে দিলেন আকিব নবি দার।
বিশ্বকাপ থেকে বিদায় অস্ট্রেলিয়ার, শেষ আটে জিম্বাবোয়ে সহ কোন কোন দল? জেনে নিন
