ময়দান আপডেট: বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করার পর,শনিবার সকালে হাইতিকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয়ে প্রত্যাবর্তন ব্রাজিলের। প্রথম ম্যাচে দলের খেলায় হতাশ হয়েছিলেন ব্রাজিল সমর্থকরা। তবে এদিন দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে চেনা ছন্দে ফিরল সাম্বা বাহিনী। ব্রাজিলের হয়ে জোড়া গোল উপহার দিলেন ম্যাথুজ কুনহা। একটি গোল করেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। আর এদিন ভিনিসিয়াস নিজে করলেন একটি গোল, তবে অ্যাসিস্টে গোল করালেন কুনহাকে দিয়ে দুটি। ফলে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন ভিনিসিয়াস জুনিয়র। নেইমার জুনিয়র এদিন না খেললেও, ব্রাজিলকে নিজের দায়িত্বে স্ব-মহিমায় কামব্যাক করালেন ভিনিসিয়াস। এদিন বল পজিশন থেকে আক্রমণ সব বিভাগেই অনেক এগিয়ে ছিল ব্রাজিল। মাঝে মধ্যে দুই একটা আক্রমণের প্রচেষ্টা ছাড়া হাইতির ফুটবলে তেমন কোনও চমক ছিল না। ম্যাচের ২৩ মিনিটে ভিনিসিয়াস জুনিয়রের শট হাইতির গোলরক্ষক জনি প্লাসিড প্রতিহত করলে বক্সের সামনে বল পান ডিফেন্ডার হানেস ডেলক্রোইক্স। তিনিই প্রায় আত্মঘাতী গোল করে ফেলছিলেন! তাঁর পায়ে লেগে গোলমুখী বল ম্যাথেউস কুনহার পায়ের ছোঁয়ায় সামান্য দিক পরিবর্তন করে গোলে ঢুকে যায়। ফলে ১ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। বিশ্বকাপে প্রথম গোল করলেন কুনহা। এরপর ৩৬ মিনিটে ব্রাজিলের দ্বিতীয় গোলও কুনহার। এ ক্ষেত্রেও কৃতিত্ব ভিনিসিয়াসের। মাঝ মাঠে প্রতিপক্ষ ফুটবলারের পা থেকে বল কেড়ে কিছুটা দৌড়ে ডিফেন্স চেরা পাস দেন কুনহাকে। হাইতির এক ডিফেন্ডারকে রুখে দিয়ে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন কুনহা। ২ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল।

প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময় গোল করে ব্রাজিলকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন ভিনিসিয়াস। তবে খেলার দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা আক্রমণের গতি স্লথ করে সাম্বা বাহিনী। খুব বেশি আক্রমণ দেখা যায় নি। ফলে ম্যাচ শেষ হয় ৩-০ গোলে। তবে এদিন ব্রাজিলের বেশ কয়েকটা গোলের প্রচেষ্টা অফসাইডের জন্য বাতিল ঘোষণা করা হয়। নাহলে হয়তো আরও বড় ব্যবধানে জিততে পারল ইয়েলো আর্মিরা।

অন্যদিকে বিশ্বকাপে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ড্র করার পর স্কটল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারাল মরক্কো। কিন্তু গ্রুপে গোল পার্থক্যে এগিয়ে শীর্ষেই ব্রাজিল। অন্য ম্যাচে এদিন অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল বিশ্বকাপের আয়োজক আমেরিকা। পর পর দুই ম্যাচ জিতে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়া কার্যত করে ফেলল USA।

আজ মধ্যরাতে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপিয়ান জায়ান্ট জার্মানি এবং আফ্রিকান পরাশক্তি আইভরি কোস্ট। দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত জয় নিয়ে মাঠে নামছে। জার্মানির গোলবন্যা আর আইভরি কোস্টের জমাট পারফরম্যান্স—সব মিলিয়ে ম্যাচটি গ্রুপ সেরা হওয়ার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে। প্রথম ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে দুরন্ত ফর্মে আছে ডাই ম্যানশাফটরা। তাদের আক্রমণভাগের বিধ্বংসী রূপ যেকোনো ডিফেন্সের জন্যই ত্রাস। এই ম্যাচেও তারা সেই চেনা গেগেনপ্রেসিং এবং আক্রমণাত্মক ফুটবল বজায় রাখতে চাইবে। গত ম্যাচে শক্তিশালী ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে তুঙ্গে রয়েছে ‘দি এলিফ্যান্টস’রা। প্রথম ম্যাচে তারা দেখিয়েছে কীভাবে চাপের মুখে লিড ধরে রেখে ম্যাচ বের করতে হয়। জার্মানির গোলমেশিনকে থামানোই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য।

কুরাসাও ম্যাচে গোলবন্যা ছোটানো ফরোয়ার্ড কাই হাভের্টজ এবং আক্রমণভাগের অন্যতম ভরসা জামাল মুসিয়ালা থাকবেন স্পটলাইটে। অপরদিকে, আক্রমণভাগে গতি ও ড্রিবলিং দিয়ে জার্মানির ডিফেন্স ভাঙার মূল অস্ত্র থাকবেন উইঙ্গার নিকোলাস পেপে বা সেবাস্তিয়ান হেলার। এছাড়া মাঝমাঠে জার্মানির আক্রমণ রুখে দেওয়ার এক্স-ফ্যাক্টর হবেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্ক কেসি। জার্মানি চাইবে ম্যাচের শুরু থেকেই হাইপ্রেস করে কুরাসাও ম্যাচের মতো আর্লি গোল তুলে নিতে। অন্যদিকে, ইকুয়েডরকে আটকে দেওয়া আইভরি কোস্টের জমাট ডিফেন্সের সামনে এবার কঠিন পরীক্ষা। তারা মূলত মাঝমাঠ ব্লক করে কাউন্টার-অ্যাটাকে ওঠার চেষ্টা করবে। অপরদিকে, আফ্রিকান দলটির শারীরিক শক্তি এবং গতি জার্মানির ট্যাকটিকাল ফুটবলের জন্য বড়ো চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবে জার্মানি যদি তাদের পাসিংয়ের গতি ধরে রাখতে পারে, তবে আইভরি কোস্টের পক্ষে ম্যাচ ধরে রাখা কঠিন হবে।
৭-১ গোলে কুরাসাওকে হারিয়ে সফর শুরু জার্মানদের, ২-২ ড্র জাপান-নেদারল্যান্ড ম্যাচ
