প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : ডুরান্ড কাপের সেমিফাইনালে খাতায়-কলমে ফেভারিট ছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে দিল্লির বিরুদ্ধে তাদের জয় মোটেও সহজে আসেনি। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন এডমুন্ড, জেসিন ও রশিদরা। খেলার ১৬ মিনিটের মাথায় রশিদের একটি দুরন্ত ফ্রি-কিক পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
বলটি জালে জড়ালে তা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা গোল হতে পারত। এর ঠিক তিন মিনিট পর জেসিনের আরও একটি শট ক্রসবারে ধাক্কা খায়। প্রথমার্ধেই এমন নিশ্চিত সুযোগ নষ্ট হওয়ায় লাল-হলুদ শিবিরে হতাশা তৈরি হয়। ম্যাচের ৩৩ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল রক্ষণের ভুলে বড় সুযোগ পেয়ে যায় দিল্লি। বক্সের মধ্যে রদ্রিগুইনহোকে ফাউল করেন সন্দীপ মান্ডি এবং রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। কিন্তু রদ্রিগুইনহোর নেওয়া অত্যন্ত দুর্বল শট সহজেই আটকে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক প্রভসুখন গিল।
এই গোলটি হজম করলে ইস্টবেঙ্গলের বিদায় প্রায় নিশ্চিত ছিল। দ্বিতীয়ার্ধে গোল তুলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন কোচ আন্তোনিয়ো লোপেজ হাবাস। আক্রমণের ধার বাড়াতে তিনি মাঠে নামান ডেভিড, লালচুংনুঙ্গা এবং ইকনমিডিসকে। খেলার ৭৪ মিনিটে ফের দুর্ভাগ্য ইস্টবেঙ্গলের সঙ্গী হয়। রশিদের আরও একটি জোরালো শট পোস্টে লেগে মাঠের বাইরে চলে যায়। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনও গোল না হওয়ায় ডুরান্ডের নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচ সরাসরি টাইব্রেকারে গড়ায়। সেখানে প্রথম শট নিতে এসে মারাত্মক ভুল করেন দিল্লির কলম্বিয়ান মিডফিল্ডার জুয়ান পেনা। তাঁর সঙ্গে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই করে তাঁর শট ডানদিকে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন প্রভসুখন। উল্টোদিকে, ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলাররা নিজেদের স্নায়ু ধরে রেখে বাজিমাত করেন। দিল্লীর গোলরক্ষক নোরা ফার্নান্দেজ সঠিক দিকে ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও সেভ করতে পারেননি। এবং আনোয়ার আলি, রোহিত দানু, লালচুংনুঙ্গা এবং ইকনমিডিসের পর শেষ শট নিতে আসেন রশিদ।
মূল ম্যাচে দুইবার পোস্টে বল মারলেও, টাইব্রেকারে তাঁর নিখুঁত শট জালে জড়িয়ে যায়। এই জয়ের ফলে দিল্লিকে হারিয়ে ডুরান্ডের ফাইনালে পৌঁছে স্বস্তির শ্বাস ফেলেন কোচ হাবাস। সেখানে মোহনবাগান ও নর্থইস্ট ইউনাইটেডের মধ্যে জয়ী দলের বিরুদ্ধে খেতাবি লড়াইয়ে নামার অপেক্ষায় লাল হলুদ ব্রিগেড।
