প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : বারাসতে কলকাতা লিগ জয়ের রেশ এখনও মোহনবাগান সমর্থকদের মন থেকে মোছেনি। জয়ের সেই মেজাজ টাটকা থাকতেই নিজেদের ছন্দে আইএফএ শিল্ডের সূচনা করলো গতবারের চ্যাম্পিয়নরা।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচেই প্রতিপক্ষ শ্রীনিধি ডেকানকে ৬-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে আইএফএ শিল্ড অভিযান শুরু করলো মোহনবাগান। ম্যাচের আগেই ক্লাব প্রাঙ্গণে ছিল চরম উন্মাদনা। কলকাতা লিগ জয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ক্লাব লনে আনুষ্ঠানিকভাবে পতাকা উত্তোলন করেন ক্লাব কর্তারা। রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ ফুটবলারদের হাতে ট্রফি তুলে দেন।
এই উৎসবমুখর পরিবেশের পর মাঠে নেমে ফুটবলাররা যে পারফরম্যান্স দেখালেন, তা সমর্থকদের আনন্দ দ্বিগুণ করে দিলো। যদিও নামার আগে কোচ পানোসের সামনে বেশ কিছু জটিল চ্যালেঞ্জ ছিল। জাতীয় দলের শিবিরের জন্য দল ছিলেন না সাহাল আবদুল সামাদ, আপুইয়া, মনবীর সিং, মেহতাব সিং ও অনিরুদ্ধ থাপার মতো ফুটবলাররা। অপরদিকে চোটের কারণে দলের বাইরে বিদেশি ডিফেন্ডার সমীর জেলকোভিচ। তবে সমস্ত সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তিনি মাঠে নামান জেমি ম্যাকলারেন, দেজন দ্রাজিচ, আলবার্তো রডরিগেজ ও মিগুয়েল ফিগুয়েরাকে। সঙ্গে ছিলেন ছাংতে, লিস্টন কোলাসো এবং তরুণ অভিষেক সূর্যবংশী। বৃষ্টিতে ভিজতে থাকা পিচে শুরু থেকেই আক্রমণের পথ বেছে নেয় মোহনবাগান।
ম্যাচের ৫ মিনিটে অভিষেক সূর্যবংশীর বাড়ানো পাসে শুভাশিস বসুর নেওয়া হেড শ্রীনিধির কিপার কমলজিৎ সিং প্রতিহত করেন। তবে বেশিক্ষণ প্রতিপক্ষকে রেহাই দেওয়া যায়নি। ৮ মিনিটের মাথায় শ্রীনিধির ডিফেন্ডার প্রীতম কোটালের এক ভুলে বল পেয়ে যান দ্রাজিচ। তিনি বাড়িয়ে দেন অভিষেকের দিকে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া দূরপাল্লার শটে দলকে প্রথম সাফল্য এনে দেন অভিষেক।শ্রীনিধি ডেকান ২৯ মিনিটের মাথায় সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল। কিন্তু জেরির নেওয়া দুর্বল শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বাইরে চলে যায়। ম্যাচের ৪৪ মিনিটে আবার ব্যবধান বাড়ায় সবুজ মেরুন। শুভাশিসের বাড়ানো থ্রু পাস ধরে মিগুয়েল দারুণ দক্ষতা দেখান, তাঁর নিখুঁত বাড়িয়ে দেওয়া বল জালে জড়াতে কোন ভুল করেননি ছাংতে। ২-০ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায় মোহনবাগান।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামতেই আরও বিধ্বংসী মেজাজে ধরা দেয় সবুজ-মেরুন। ৫২ মিনিটে জেমি ম্যাকলারেনের নিখুঁত সেন্টার থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নেন ছাংতে। দুই বিপক্ষ ডিফেন্ডারকে অনায়াসে কাটিয়ে কিপার কমলজিৎকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় গোলটি সম্পন্ন করেন তিনি। ঠিক এর পাঁচ মিনিট পরেই লিস্টন ও মিগুয়েলের জুটিতে গড়ে ওঠা আক্রমণে পা ছুঁইয়ে চলতি ম্যাচে নিজের হ্যাটট্রিক সম্পূর্ণ করেন বর্তমানে ভারতের সেরা ফুটবলার ছাঙতে। ৪-০ গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর একাদশে একের পর এক পরিবর্তন আনেন গ্রিক কোচ। জেমি ম্যাকলারেনের জায়গায় স্কটিশ ফরোয়ার্ড লি এরউইন মাঠে নামেন। পরে মিগুয়েল ও দ্রাজিচকে তুলে নিয়ে নামানো হয় কিয়ান নাসিরি এবং সুহেল ভাটকে।
এই পরিবর্তনের পরেও মোহনবাগানের আক্রমণের ঝাঁজ বিন্দুমাত্র কমেনি। ৮১ মিনিটের মাথায় ছাংতের পাস ধরে কিয়ান মাইনাস বাড়ালে প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে বল আসে সন্দীপ মালিকের কাছে। গোলকিপারের বামদিক থেকে পোস্টে বল ঠেলে দিয়ে স্কোরলাইন ৫-০ করেন তিনি। ঠিক তার মিনিটখানেক পর আবার ছাংতের পাসে মাথা ছুঁইয়ে দুর্দান্ত এক হেডে গোল করে যান লি এরউইন। মোহনবাগানের জার্সিতে নিজের অভিষেক ম্যাচেই গোল পেয়ে গেলেন এই স্কটিশ ফরোয়ার্ড। এই দাপুটে জয়ে মোহনবাগানের সবথেকে বড় প্রাপ্তি ছাংতের হ্যাটট্রিক, মিডফিল্ডে মিগুয়েলের সুচিন্তিত খেলা এবং এরউইনের গোল। আগামী ম্যাচে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে নামার আগে এই বড় জয় পানোসের দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল।
