প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের কাছে ৪-০ গোলে পরাস্ত হল ভারত। তবে জিতল ব্রাজিল, মন জয় করল ভারত! খেলার প্রথম থেকেই ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিয়াস জুনিয়র নিজের আক্রমণাত্মক ফুটবল শৈলী প্রদর্শন করেন, যদিও প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যেই তাঁর একটি নিশ্চিত শট দারুণভাবে সেভ করেন ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু। এর পাশাপাশি ভারতীয় ডিফেন্ডার অভিমিতেই অসাধারণ দক্ষতায় একের পর এক আক্রমণ সামলে দলকে রক্ষা করেন।
শুরুর দিকে ভারত নিজেদের রক্ষণভাগ আঁটসাঁট রেখে বেশ কয়েকবার পাল্টা আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছিল, যার ধারাবাহিকতায় ৭ মিনিটের মাথায় থাপার নেওয়া একটি কর্নার থেকে সুযোগ তৈরি হলেও গোল করতে ব্যর্থ হন আপুইয়া। তবে ম্যাচের ২৮ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত প্রথম গোল, যেখানে ডান দিক থেকে দারুণ ড্রিবলিং করে বক্সের একদম কোণ থেকে দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শট নেন ব্রাজিলের তরুণ ফুটবলার এস্তেভাও উইলিয়ান, তবে আশিক কুরুনিয়ান শটটি আটকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে গুরপ্রীতের হাতে লেগে বল সোজা জালে জড়িয়ে যায়। প্রথম গোল হজম করার পর ভারতীয় দল ডিফেন্সে ‘লো ব্লক’ কৌশল নিয়ে খেলা শুরু করলেও ৩৬ মিনিটে এস্তেভাওয়ের ক্রস থেকে পেদ্রোর নেওয়া হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে এবং আনোয়ার আলি সেই বল বিপদমুক্ত করেন। এরপর ৪২ মিনিটে আর কোনো ভুল না করে পেদ্রো তাঁর জোরালো শটে দলকে ২-০ গোলে এগিয়ে দেন, যেখানে গুরপ্রীত গোলপোস্ট ছেড়ে কিছুটা এগিয়ে থাকার ফলে শটটি আটকানো সম্ভব হয়নি। ঠিক এক মিনিট পর ৪৩ মিনিটে ভিনির নেওয়া একটি শট গুরপ্রীত এগিয়ে এসে সেভ করতে গেলে বল তাঁর হাতে লেগে উল্টো দিকে খালি গোলের দিকে চলে যায়, কিন্তু পিছন থেকে ছুটে আসা ডগলাস সান্তোস শট নেওয়ার আগেই আপুইয়া দ্রুত এগিয়ে এসে বলটি বিপদমুক্ত করেন এবং এভাবেই প্রথমার্ধের খেলা ২-০ ব্যবধানে শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই অর্থাৎ ৫৫ মিনিটে মনবীর সিং একটি সুন্দর পাস পেয়ে ব্রাজিলের বক্সে ঢুকে শট নিলে বল মারকুইনহোসের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে গোলের দিকে যায়, তবে ব্রাজিলের গোলরক্ষক দারুণ দক্ষতার সঙ্গে তা সেভ করে দেন। এর ঠিক তিন মিনিট পর ৫৮ মিনিটে ভারতীয় ডিফেন্ডার বিজয় ভার্গেসের একটি মিস পাসের সুযোগ নিয়ে ডগলাস লুইজ চমৎকার পাস বাড়ান স্যামুয়েল লিনোর উদ্দেশ্যে, যা নিখুঁতভাবে জালে জড়িয়ে ব্রাজিলকে ৩-০ গোলে এগিয়ে দেন লিনো। ম্যাচের ৬৩ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামস প্রেস করে বল জিতে বাঁ প্রান্ত ধরে আক্রমণ সাজিয়ে সেকেন্ড পোস্ট লক্ষ্য করে একটি দূরপাল্লার শট নেন, যা ব্রাজিলের ডিফেন্ডার প্রতিহত করলে ফলো-আপে মনবীর বক্সের মধ্যে জটলা তৈরি করলেও তা শেষ পর্যন্ত ক্লিয়ার করে দেয় ল্যাটিন আমেরিকান দলটি।

পুরো ম্যাচ জুড়ে ভারতীয় দল লড়াইয়ের মানসিকতা দেখালেও বেশ কিছু বড় ভুলের কারণে গুরপ্রীত সিং সংধুকে বেশ নার্ভাস দেখায় এবং বল বারবার তাঁর হাত থেকে ফস্কে যাওয়ায় দ্বিতীয়ার্ধে ভারতীয় কোচ খালিদ জামিল তাঁকে তুলে নিয়ে প্রবসুখন গিলকে গোলপোস্টে নামান। মূলত একটি প্রীতি ম্যাচ হওয়ায় ভারতীয় কোচ খালিদ জামিল প্রায় পুরো দলকেই ধাপে ধাপে পরিবর্তন করে নতুন খেলোয়াড়দের নামান, যাতে তারা এই বিশ্বমানের পরাশক্তির বিরুদ্ধে খেলার মূল্যবান অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারে। তবে খেলার একদম শেষ মুহূর্তে ৯০+৪ মিনিটে বাঁ দিক থেকে বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত এক শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে ব্রাজিলের ৪-০ গোলের বড় জয় সুনিশ্চিত করেন স্যামুয়েল লিনো, যিনি মাত্র ৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে ব্রাজিলের জার্সিতে নিজের প্রথম গোল দুটি পেলেন।

এই গোলের পরেই উজবেকিস্তানের রেফারি ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজান এবং এই আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে নিজেদের সফরের সমাপ্তি ঘটায় কার্লো আনচেলত্তির ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের হেভিওয়েট কোচ কার্লো আনচেলত্তি ভারতীয় দলের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান যে, ভারতের দল হেরে গেলেও তারা মাঠে অত্যন্ত সংঘবদ্ধ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলেছে। প্রথমার্ধে ভিনিকে সামলানোর জন্য বিশেষ প্রশংসায় উঠে আসে তরুণ ভারতীয় ডিফেন্ডার অভি মিতেইয়ের নাম, যিনি ব্যক্তিগতভাবে অসাধারণ ফুটবল উপহার দিয়েছেন। অন্যদিকে ভারতীয় কোচ খালিদ জামিল নিজের দলকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে জানান, শুধুমাত্র গোলরক্ষককে দোষ না দিয়ে নিজেদের আরও অনেক ভুলত্রুটি শুধরে নিতে হবে এবং পরবর্তী ম্যাচের জন্য তিনি দলকে ‘শূন্য পয়েন্ট’ দিয়ে আত্মসমালোচনার পথ বেছে নেন।
আন্তর্জাতিক বিরতিতে ভারতের পরবর্তী মিশন আগামী ৬ অক্টোবর ২০২৬ সল্টলেক স্টেডিয়ামেই দু’বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের বিরুদ্ধে, আর সেই বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী দর্শকদের জন্য বড়ো উপহার ঘোষণা করে জানান, মেসি ইভেন্টের টিকিট কাটার কারণে যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন তাঁদের উরুগুয়ে ম্যাচের জন্য ২০,০০০টি কমপ্লিমেন্টারি টিকিট সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।
শিল্ডের ফাইনালে ডার্বি করাতে মরিয়া আইএফএ! জয়ের লক্ষ্যে দুই প্রধানই
