প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপের হাইভোল্টেজ উদ্বোধনী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে মরসুমের প্রথম জয় ছিনিয়ে নিল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট। ঐতিহাসিক এই জয়ের ফলে কলকাতার ফুটবলের ৩৯২ তম ডার্বিতে বিজয়ের হাসি হাসল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। মরসুমের শুরুতেই এই জয়ে যেমন মোহনবাগান সমর্থকদের আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়েছে, তেমনই ডুরান্ড কাপে দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার পরিসংখ্যানেও লড়াই জমে উঠেছে। ডুরান্ড কাপের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত খেলা ২৪টি ডার্বির মধ্যে ইস্টবেঙ্গল জিতেছে ১০টিতে, মোহনবাগান জিতেছে ৯টিতে এবং ৫টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। গোলের পরিসংখ্যানে ১৯টি গোল নিয়ে ইস্টবেঙ্গল সামান্য এগিয়ে থাকলেও ১৬টি গোল করা মোহনবাগান এই জয়ের পর ফারাক অনেকটাই কমিয়ে আনল।

মোহনবাগানের নতুন গ্রিক কোচ পানাওগিওটিস ডিলমপেরিস এই ম্যাচে নিজের স্কোয়াডের গভীরতা মেপে নিতে কৌশলগত পথ বেছে নেন। তিনি সমস্ত ফুটবলারদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মাঠে নামিয়ে খেলার সুযোগ করে দেন এবং তাঁদের পারফরম্যান্স দেখে নেন। তিনি প্রথমে জানিয়েছিলেন দলের সমস্ত খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলাবেন, তিনি কার্যত সেটাই করেছেন সারা ম্যাচ জুড়ে। দীর্ঘদিন পর সাহাল বেশ অনেকটাই গেম টাইম পেয়েছেন, পাশাপাশি সায়ন ব্যানার্জী ইস্টবেঙ্গলে থাকাকালীন সবসময় নামার সুযোগ পেতেন না, তবে আজ তিনিও খেললেন। অনেকটা সময় খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন সুহেল আহমেদ ভাটও।

মাঠের লড়াইয়ে দুই দলই দারুণ আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিয়েছে। প্রাক মরশুম প্রস্তুতির অভাব সত্ত্বেও ফুটবলারদের লড়াকু মানসিকতা ম্যাচজুড়ে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছে। তবে সবুজ মেরুন ব্রিগেডের আসল নায়ক নিশ্চিত ভাবেই গোলরক্ষক বিশাল কাইথ। ইস্টবেঙ্গলের একের পর এক আক্রমণ কার্যত বিশালের দুর্ভেদ্য প্রাচীরের কাছে এসে আটকে যায়। ম্যাচের একটি সময়ে লাল হলুদের নবাগত ফুটবলার ডানি রামিরেজের নেওয়া একটি দুর্দান্ত শট পোস্টে লেগে বাইরে না গেলে ফলাফলে পরিবর্তন হতে পারতো। লাল হলুদ শিবির ম্যাচজুড়ে বেশ ভালো ফুটবল খেললেও গোলমুখ খুলতে না পারাটাই তাদের পরাজয়ের আসল কারণ। একই সঙ্গে এই হারের ফলে ভারতীয় ক্লাব ফুটবলে ইস্টবেঙ্গলের নবাগত কোচ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাসের ডার্বিতে দীর্ঘদিনের অপরাজিত থাকার রেকর্ডটি ভেঙে গেল।

প্রথম ম্যাচ হেরে ইস্টবেঙ্গলের জন্য নকআউটের রাস্তা বেশ কঠিন হয়ে গেল। টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী ছয়টি গ্রুপ থেকে শুধুমাত্র শীর্ষ দল এবং সেরা দুটি দ্বিতীয় স্থানে থাকা দল পরবর্তী রাউন্ডে পৌঁছাবে। ফলে গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করতে হলে হাবাস বাহিনীকে এখন তাদের বাকি ম্যাচগুলোতে বড়ো ব্যবধানে জিততেই হবে। ৩৯২ তম ডার্বি জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মোহনবাগান যেমন সুবিধাজনক অবস্থায় রইল, তেমনই লাল-হলুদ শিবিরকে ঘুরে দাঁড়াতে অল-আউট ঝাঁপাতে হবে। অপরদিকে মোহনবাগান ডার্বি জিতে নিজেদের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার পথ আরও সুগম করলো।
