Tuesday, September 1, 2026
Homeফুটবলকলকাতার ফুটবলসাহালের গোলে ডুরান্ডের বোধনে মরসুমের প্রথম ডার্বির রঙ সবুজ-মেরুন

সাহালের গোলে ডুরান্ডের বোধনে মরসুমের প্রথম ডার্বির রঙ সবুজ-মেরুন

ম্যাচের ৫৩ মিনিটে সাহালের গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। কিয়ানের বাড়ানো বলে পোস্টের সামনেই ছিলেন মনবীর। তবে মনবীরের পায়ে হালকা ছোঁয়া লেগে বল বেরিয়ে যায়, তবে পোস্টের পাশেই ছিলেন সাহাল আব্দুল সামাদ। গোল করতে ভুল করেননি তিনি। ফলে ডুরান্ডের প্রথম গোল স্কোরার হিসাবে নিজের নাম লিখে রাখলেন সাহাল আব্দুল সামাদ।

সোনালি চ্যাটার্জী, প্রতিনিধি 

ময়দান আপডেট: অবশেষে জল্পনার অবসান। শনিবার যুবভারতীতে ভরা গ্যালারিতে মোহন-ইস্ট ডার্বি দিয়ে শুরু হয়ে গেল ১৩৫ তম Durand Cup এর আসর। এদিন ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁর উপস্থিতিতে ডুরান্ড কাপের উদ্বোধন করা হয়। আর প্রথম ম্যাচেই Derby ডুয়েলে একদিকে প্রাক্তন মোহনবাগান কোচ হাবাসের নেতৃত্বে খেলতে নামে ইস্টবেঙ্গল, অন্যদিকে পঞ্জাব এফসির প্রাক্তন কোচ প্যানোসের নেতৃত্বে ডুরান্ড অভিযান শুরু করল মোহনবাগান। তবে মাত্র কয়েক দিনের অনুশীলনে এদিন খেলতে নামে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল দুই দলই। এখনও পর্যন্ত সমস্ত বিদেশীরা এসে পৌঁছায় নি। ফলে এদিন মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল দুই দলই তাদের ভারতীয় একাদশ নিয়েই দল সাজায়। মোহনবাগানের ড্রাজিক ও রডরিগেজকে রাখা হয় বেঞ্চে। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গলের প্রথম একাদশেও ছিলেন ভারতীয় ফুটবলাররা। আর বেঞ্চে রাখা হয় মহম্মদ রশিদ ও ডানিয়েল রামিরেজকে। আর এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই মোহনবাগানের আক্রমণের দাপট ছিল কিছুটা বেশি। কিছুটা রক্ষণাত্বক ভঙ্গিতে দেখা যায় লাল-হলুদ ফুটবলারদের। মোহনবাগানের হয়ে বেশ কিছু আক্রমণের সুযোগ তৈরি করতে থাকেন সাহাল, কিয়ান, মনবীররা। যদিও গোলের সুযোগ কার্যকরী হচ্ছিল না। অন্যদিকে লাল-হলুদের হয়ে এডমুন্ড, বিপিনরা মাঝে-মধ্যে মোহনবাগানের দূর্গ লক্ষ্য করে ঢোকার চেষ্টা করলেও, আক্রমণ রুখে দেন সবুজ-মেরুন ডিফেন্ডাররা।

প্রথমার্ধে মোহনবাগানের হয়ে হলুদ কার্ড দেখেন কিয়ান নাসিরি। পাশাপাশি ৪৫ মিনিটে আপুইয়াকে ফাউল করেন এডমুন্ড। ফলে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে হলুদ কার্ড দেখেন এডমুন্ড। এছাড়া খেলার প্রথমার্ধে খুব বড় ঘটনা ম্যাচে দেখা যায় নি। দুই দলই কিছুটা রক্ষণাত্বক ভঙ্গিতে খেলা চালিয়ে যায়। ম্যাচের প্রথমার্ধ শেষ হয় গোলশূন্য ভাবেই। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই একটা গোলের সুযোগ তৈরি করেন লিস্টন কোলাসো। যদিও গোল আসেনি। তবে ম্যাচের ৫৩ মিনিটে সাহালের গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। কিয়ানের বাড়ানো বলে পোস্টের সামনেই ছিলেন মনবীর। তবে মনবীরের পায়ে হালকা ছোঁয়া লেগে বল বেরিয়ে যায়, তবে পোস্টের পাশেই ছিলেন সাহাল আব্দুল সামাদ। গোল করতে ভুল করেননি তিনি। ফলে ডুরান্ডের প্রথম গোল স্কোরার হিসাবে নিজের নাম লিখে রাখলেন সাহাল আব্দুল সামাদ। ১-০ গোলে এগিয়ে যায় মোহনবাগান। এরপর গোল শোধ করার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইস্টবেঙ্গল।

৫৯ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করে ইস্টবেঙ্গল। রোহিত কুমার ও রোহিত দানুর জায়গায় মাঠে আসেন মহম্মদ রশিদ ও পিভি বিষ্ণু। এরপরই ৬১ মিনিটে জোড়া পরিবর্তন করে মোহনবাগান। গোলদাতা সাহাল ও কিয়ানের জায়গায় মাঠে আসেন দীপক টাংরি ও নয়া বিদেশী ড্রাজিক। এরপর ৬৯ মিনিটে মোহনবাগান মনবীরকে তুলে নিয়ে মাঠে নামায় সুহেল আহমেদ ভাটকে। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস ডেভিডকে তুলে নিয়ে মাঠে নামান দলের নয়া বিদেশী রামিরেজকে। খেলার ৭৪ মিনিটে এডমুন্ডকে ফাউল করায় হলুদ কার্ড দেখেন মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিস বোস। ৮০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে চুংনুঙ্গার বাড়ানো বলে গোলের সুযোগ নষ্ট করেন মহম্মদ রশিদ। ৮০ মিনিটে জেসন টিকে গোলের সুযোগ তৈরি করেন, তবে পোস্টের সামনে তাঁকে রুখে দেন মেহেতাব সিং। এরপর ৮২ মিনিটে আবারও জোড়া পরিবর্তন মোহনবাগানের। শুভাশিস ও লিস্টনের জায়গায় মাঠে নামেন অ্যালবার্তো রডরিগেজ ও সায়ন ব্য়ানার্জী। ৮৭ মিনিটে একটি দূরপাল্লার দুর্দান্ত শট নেন রামিরেজ। তবে পোস্টের পাশ দিয়ে বল বেরিয়ে যায়। ৯২ মিনিটে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে মহম্মদ রশিদ একটি ভালো শট নেন, তবে দুর্দান্ত ভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল রুখে দেন গোলকিপার বিশাল কাইথ। ৯৫ মিনিটে সায়ন ব্যানার্জী আক্রমণ করলেও, গোল আসেনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলে লাল-হলুদ বাহিনীকে হারিয়ে ডার্বি ম্যাচ জিতে নিল মোহনবাগান সুপার জায়েন্ট। ডুরান্ডের প্রথম ম্যাচ জিতে উল্লাসে ফেটে পড়েন সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। 

 

 

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular