প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট: শনিবার ঐতিহ্যবাহী ডুরান্ড কাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মুখোমুখি হতে চলেছে বাংলার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট ও ইস্টবেঙ্গল এফসি। মরসুমের প্রথম ডার্বিকে কেন্দ্র করে তিলোত্তমার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে।মরশুমের প্রথম ডার্বির আগে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি ডাগআউটের দ্বৈরথও নজর কাড়ছে। একদিকে ভারতীয় ক্লাব ফুটবলের অন্যতম সফল কোচ অ্যান্তোনিও লোপেজ হাবাস, যিনি নিজের প্রাক্তন ক্লাবের বিরুদ্ধে এখন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লাল-হলুদ শিবিরের সেনাপতি। আইএসএল জয় থেকে শুরু করে মেজাজি ট্রফি জেতার অভিজ্ঞতায় হাবাসের ট্যাকটিক্স সবসময়ই যেকোনো প্রতিপক্ষের চিন্তার কারণ। অন্যদিকে মোহনবাগানের নতুন হেড কোচ প্যানাজিওতিস দিলমপেরিস, যাঁর দর্শন অনুযায়ী—”আমার কাছে প্রতিটা ম্যাচই ডার্বির মতো।” তরুণ প্লেয়ার তুলে আনা ও ডেভেলপ করার ক্ষেত্রে এই গ্রিক কোচের বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। পাঞ্জাব এফসি-কে আই-লিগ থেকে আইএসএল-এ তোলা এবং আইএসএল-এর মঞ্চেও তাদের মানসম্মত পারফর্ম করানোর পেছনে পানাওগিওটিসের অবদান সর্বজনবিদিত।

ম্যাচের আগের দিন প্রেস কনফারেন্সে মোহনবাগান কোচ পানাওগিওটিস ডিলমপেরিস স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ধন্যবাদ মোহনবাগান সমর্থকদের আমাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানোর জন্য। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ডার্বি দিয়ে শুরু করাটা খুবই উত্তেজক। ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের দায়িত্ব ও সমর্থকদের উচ্চ প্রত্যাশা আমাকে উদ্বিগ্ন করে না, বরং অনুপ্রেরণা জোগায়। মাত্র ৩ দিনে ৩টি সেশনে আমার সম্পূর্ণ মডার্ন ও আক্রমণাত্মক ফুটবল নামানো কঠিন হলেও, আমার দলে ভারতের সেরা প্লেয়াররা রয়েছে এবং যেকোনো দলকে আমরা হারাতে পারি।” দলের নতুন বিদেশী ডেজান ড্র্যাজিচ যোগ করে বলেন, “ডার্বি সবার কাছে স্পেশ্যাল। জনি কাউকো ও আর্মান্দো সাদিকুর মতো বন্ধুদের কাছে শুনেছি মোহনবাগান ভারতের সেরা দল। আমরা জেতা ছাড়া কিছু ভাবছি না।”অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল কোচ হাবাস বাস্তববাদী সুরেই বলেন, “ডার্বির আগে পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যায়নি। তাই প্রতিপক্ষকে নিয়ে ভাবার বা বিশ্লেষণ করার সুযোগ নেই। অতীত নিয়ে পড়ে থাকতে চাই না, আমি এখন ইস্টবেঙ্গলকে নিয়ে গর্বিত। আরও ২-৩ জন ভালো ভারতীয় প্লেয়ার আসলে স্কোয়াড সম্পূর্ণ হবে।

গত মরশুমের ডুরান্ড কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলের কাছে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছিলো মোহনবাগান। অপরদিকে, কোয়ার্টার ফাইনাল জিতে সেমিফাইনালে নবাগত ডায়মন্ড হারবার এফসির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল ইস্টবেঙ্গলকে। যদিও পরে গত মরশুমে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছিল লাল হলুদ বাহিনী। তবে মরশুম শেষে প্রধান কোচ ও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার ক্লাব ছাড়ায় লাল-হলুদ ব্রিগেডকে এবার নতুন করে তৈরি হতে হচ্ছে। অন্যদিকে গত দুটি আসরে দুর্দান্ত ফুটবল খেলে চ্যাম্পিয়ন হওয়া নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসি খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে থাকবে।

এবারের ডার্বিতে মোহনবাগানের ক্ষেত্রে দেশীয় ফুটবলাররাই প্রধান শক্তি হতে চলেছেন। বিদেশীদের মধ্যে শুধুমাত্র ডেজান ড্র্যাজিচ স্কোয়াডে রয়েছেন এবং ম্যাচের আগের দিন আলবার্তো রদ্রিগেজ কলকাতায় এসে পৌঁছালেও ফিটনেসের কারণে এই ম্যাচে তাঁর খেলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। তবে মোহনবাগান নিজেদের দেশীয় ফুটবলারদের ফর্ম ও মান যাচাই করে নিতে সম্প্রতি কলকাতা লিগের একটি ম্যাচে তাদের খেলিয়ে দেখে নিয়েছে, যেখানে সিনিয়র দলের কোচ পানাওগিওটিস নিজেই মাঠে উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণ করেন।

ইস্টবেঙ্গলের স্কোয়াড পরিস্থিতিতে স্বস্তির বিষয় হলো ডানি রামিরেজ ও হেক্তর রশিদ এই ম্যাচের জন্য উপলব্ধ রয়েছেন, কিন্তু বাকি বিদেশিরা এখনও কলকাতায় পৌঁছাননি। ভারতীয় প্লেয়ারদের মধ্যেও চোট-আঘাতের সমস্যার কারণে সম্ভবত দানিশ ফারুক ও বরিস সিংকে ডার্বির দল থেকে বাদ পড়তেই হচ্ছে। সবচেয়ে বড়ো বিষয়, দুই প্রধানের কেউই এবার প্রাক-মরশুম প্রস্তুতি নেওয়ার সময় পায়নি। মোহনবাগান দল যেখানে ডার্বির আগে মাত্র ৩টি ট্রেনিং সেশন পেয়েছে, সেখানে ইস্টবেঙ্গল অনুশীলন করার সুযোগ পেয়েছে মাত্র ২টি সেশন। এত কম সময়ে ও নানা সীমাবদ্ধতার মাঝেও নিজেদের রণকৌশল বজায় রেখে ঐতিহ্য ও আত্মসম্মানের এই লড়াইয়ে দুই দল কীভাবে ঝাঁপায়, এখন সেটাই দেখার।
