প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : ডুরান্ড কাপের হাইভোল্টেজ ফাইনাল ঘিরে ফুটবল মহলে এখন তুমুল উন্মাদনা। গ্রুপ পর্বে একই গ্রুপে থাকায় দুই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হওয়ার পথ একই থাকলেও, নকআউটের লড়াইয়ে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েও মোহনবাগানকে নকআউটে জামশেদপুর এফসি ও নর্থইস্ট ইউনাইটেড এফসির মতো কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাধা টপকে ফাইনালে উঠতে হয়েছে।
আর অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল তাদের নকআউট ম্যাচগুলোতে মুখোমুখি হয়েছিল আর্মি রেড এবং দিল্লি এফসির। চলতি মরসুমের প্রথম ডার্বিতে ইস্টবেঙ্গলকে ১-০ গোলে হারিয়ে মোহনবাগান মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে থাকলেও, ফাইনালের মঞ্চ নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দুই দলই মূলত আক্রমণাত্মক ফুটবল পছন্দ করে, তাই রোমাঞ্চকর লড়াই নিশ্চিত। এই বড়ো ম্যাচে নজর থাকবে মোহনবাগানের জেমি ম্যাকলারেন, দেজান দ্রাঝিচ, সাহাল আব্দুল সামাদ, আপুইয়া, ছাঙ্গতের ওপর, তবে বিশেষ নজর থাকবে মিগুয়েলের উপর। লাল হলুদ শিবিরের হয়ে মূল আকর্ষণে থাকবেন ডেভিড লালহলানসাঙ্গা, ডানি রামিরেজ, আনোয়ার আলী এবং রশিদের উপর। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই মোহনবাগান তাদের আধিপত্য বজায় রেখে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
তবে ঘরের মাঠ কলকাতার চেনা মাঠে খেলার কারণে ইস্টবেঙ্গলের সামনে বড়ো একটি অ্যাডভান্টেজ রয়েছে, বিশেষ করে যেখানে সবুজ মেরুন ফুটবলাররা শিলং থেকে মোট পাঁচ দফায় শহরে ফিরেছেন এবং ফাইনালে নামার আগে মাত্র একটি অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন। মোহনবাগানের আক্রমণভাগের গভীরতা অসাধারণ হলেও, দীর্ঘ পথ সফর এবং শারীরিক ক্লান্তি তাদের বড়ো দুর্বলতা হতে পারে। বিপরীতে ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণে কিছুটা খামতি থাকলেও ঘরের মাঠের চেনা আবহাওয়া তাদের শক্তিশালী করে তুলছে। সমস্ত প্রতিকূলতা ও ক্লান্তি কাটিয়ে মোহনবাগান কি ট্রফি জিততে পারবে, নাকি মরসুমের প্রথম ডার্বি হারের মধুর বদলা নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হবে ইস্টবেঙ্গল।
