প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : এক সময়ের স্মরণীয় জয়ের সাক্ষী শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে, প্রায় তিন বছর পর ফের চেনা পরিবেশের মধ্যে ফিরেছে ভারতীয় দল। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়, আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে মধ্য আমেরিকার দেশ পানামার মুখোমুখি হতে চলেছে খালিদ জামিলের দল।
বিশ্ব ফুটবলের মানচিত্রে দুই দেশের ফুটবলের এটিই প্রথম দ্বৈরথ। বলা চলে, আসন্ন অক্টোবর মাসে কলকাতায় ব্রাজিল ও উরুগুয়ের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের বিরুদ্ধে নামার আগে ভারতীয় দলের আসল পরীক্ষার প্রথম ধাপ হলো এই ম্যাচ। যদিও বিশ্ব ফুটবল রাঙ্কিংয়ে ৪৪ নম্বরে অবস্থান করা পানামা দল ভারতের চেয়ে প্রায় ৯৪ ধাপ এগিয়ে রয়েছে, তবুও এই কঠিন লড়াইকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করছে দল। কনক্যাকাফ মহাদেশীয় ফুটবলের দলগুলোর বিরুদ্ধে ভারতের জয়ের রেকর্ড খুব একটা সুখকর নয়। আগের ১৪টি সাক্ষাতে জয় এসেছে মোটে ২টিতে, সঙ্গে ২টি ড্র ও ১০টি হার। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের জয়ের গ্রাফ কিছুটা নিম্নমুখী। গত মার্চ মাসে এশিয়ান কাপ কোয়ালিফায়ার্সে হংকংকে ২-১ গোলে হারানোর পর থেকে গত চার ম্যাচে কোনো জয়ের মুখ দেখেনি দল।
এই জয়হীনতার বৃত্ত ভেঙে ঘরের মাঠে জয়ের সরণিতে ফেরাই এখন গুরপ্রীতদের মূল লক্ষ্য। তবে প্রতিপক্ষের শক্তিশালী অবস্থান কিংবা বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতায় ভয় পেতে রাজি নন ভারতীয় প্রধান কোচ খালিদ জামিল। ম্যাচের আগের দিন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতিপক্ষ কত বড় নাম সেটা ভেবে পিছিয়ে না গিয়ে দল মাঠের পরিস্থিতিতে আক্রমণ ও রক্ষণের নিখুঁত মেলবন্ধন ঘটিয়ে খেলার চেষ্টা করবে। খালিদ জামিলের সুরেই সুর মিলিয়ে জাতীয় দলের সিনিয়র গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু বলেন, বিশ্বমঞ্চ কাঁপিয়ে আসা কোনো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলার এই সুযোগকে তারা নিজেদের যোগ্যতা যাচাইয়ের সেরা মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে ২০২৩ সালে এই কান্তিরাভার মাঠে অপরাজিত থেকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি জয়ের ইতিবাচক স্মৃতিকথা দলকে নতুনভাবে শক্তি জোগাবে।
অন্য জায়গায়, বিশ্বকাপের কঠিন গ্রুপে দারুণ রক্ষণাত্মক ফুটবল তুলে ধরা পানামা দলও জয়ের ধারা বজায় রাখতে ব্যাকুল। বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে ১০ ম্যাচে অপরাজিত থেকে মূল পর্বে আসা এই দলটি তাদের স্কোয়াডে কিছু তরুণ মুখ যুক্ত করলেও, জয়ের মানসিকতা থেকে বিন্দুমাত্র পিছু হটছে না। পানামার প্রধান কোচ টমাস ক্রিস্টিয়ানসেন খোলামেলাভাবেই মেনে নিয়েছেন যে, কাগজে-কলমে তাদের ফেভারিট ধরা হলেও মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই এবং সব ম্যাচেই জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামে তার দল। ভারতের মাটিতে প্রথম খেলতে আসা পানামার তরুণ মিডফিল্ডার কার্লোস হার্ভিও দেশকে ইতিবাচক ফলাফল উপহার দিতে নিজেদের উজার করে দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
ভারতের শেষ পাঁচ ম্যাচে ১টি জয়, ১টি ড্র এবং ৩টি পরাজিত হয়েছে, গোল করেছে ৪টি এবং খেয়েছে ৮টি গোল। অপরদিকে পানামা শেষ পাঁচ ম্যাচে ১টি জয়, ১টি ড্র ও ৩টি হেরেছে, গোল করেছে ৫টি এবং হজম করেছে ৭টি গোল। তবে শেষ পাঁচ বছর মধ্যে তারা তিনটি ম্যাচ খেলেছে বিশ্বকাপে সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ ছিলো ইংল্যান্ড (০-২), ক্রোয়েশিয়া (০-১) এবং ঘানা (০-১)। ফলে ব্রাজিল বা উরুগুয়ের মতো আন্তর্জাতিক পরাশক্তিদের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে, এই ম্যাচটি কেবল রাঙ্কিংয়ের ফারাক মাপা নয়, বরং ভারতীয় ফুটবলের গতি ও নতুন রূপ ফিরে পাওয়ার এক বড়ো পরীক্ষা হতে চলেছে।
