রবিবার থেকে ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ ভারতের, রোহিতের প্রশংসা গম্ভীরের
প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : ভারতীয় ফুটবল দলের ঐতিহাসিক সফরের সূচনা হলো আজ। বেঙ্গালুরুর শ্রী কান্তিরাভা স্টেডিয়ামে বিশ্ব ফুটবলের ৪৪ নম্বর দল পানামার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করলো ভারত। সদ্য বিশ্বকাপ খেলে আসা পরাশক্তির বিপক্ষে এই ড্র ভারতের কাছে এক ঐতিহাসিক জয়ের সমান। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই খালিদ জামিলের ছেলেদের জেতার স্পষ্ট ক্ষিদে লক্ষ্য করা যায়। খেলার শুরুতেই আনোয়ার আলীর চমৎকার পাস থেকে বাম দিক ধরে রান নেন আকাশ মিশ্র। তিনি বক্সে থাকা রায়ান উইলিয়ামসকে লক্ষ্য করে নিখুঁত বল বাড়িয়ে দেন। তবে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে বলের দিক সামান্য পরিবর্তন হওয়ায় গোল করতে ব্যর্থ হন রায়ান। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডান দিক থেকে আসা পানামার ২৬ নম্বর ফুটবলারের এক ক্রস গুরপ্রীত ফিস্ট করে বিপদমুক্ত করেন এবং রিকি তা ক্লিয়ার করে দেন।
শুরুর দিকে ব্লু টাইগার্সদের প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে লং রেঞ্জার বা দূরপাল্লার শট নেওয়া শুরু করে পানামা। প্রথম কোয়ার্টারের শেষের দিকে থমাস রদ্রিগেজের একটি জোরালো শট পোস্টের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ম্যাচের ১৭ মিনিটের মাথায় রায়ান উইলিয়ামস আবারও একটি সুযোগ পেয়েও লক্ষ্যভেদ করতে পারেননি। অন্যদিকে পানামা উইংয়ে ফুটবলারের সংখ্যা বাড়িয়ে ঘনঘন আক্রমণে উঠতে থাকে। জোসেফের একটি মারাত্মক শট পাঞ্চ করে বক্সে ফেলেন গুরপ্রীত, তবে সেখানে কোনো পানামা ফুটবলার না থাকায় দ্রুত এগিয়ে এসে বল বিপদ মুক্ত করেন বিজয়। ২২ মিনিটের মাথায় বাম দিক থেকে আশিক কুরুনিয়ান দারুণভাবে ঢুকে পড়েছিলেন। কিন্তু সঠিক সময়ে বল রিলিজ করতে দেরি করায় নিশ্চিত সুযোগটি নষ্ট হয়ে যায়। ২৪ মিনিটে জাইর মডেলো খালি জায়গা পেয়ে একটি দারুণ থ্রু পাস বাড়ান, কিন্তু বক্সের মধ্যে প্রাচীর হয়ে উঠে তা ক্লিয়ার করে দেন আনোয়ার আলী।
ঠিক তার পরের মিনিটেই পাল্টা আক্রমণে ওঠে ভারত। রায়ান উইলিয়ামসকে ফাউল করা হলেও বল আশিকের পায়ে থাকায় রেফারি অ্যাডভান্টেজ দেন, তবে আশিকের নেওয়া শট সোজা পাশের সাইড নেটে গিয়ে আঘাত করে। অবশেষে ম্যাচের ৪১ মিনিটে আসে সেই বহুল কাঙ্ক্ষিত সোনালী মুহূর্ত, উড়ে আসা বল পানামা ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে বক্সে পড়লে রায়ান উইলিয়ামস দারুণ কন্ট্রোলে নেন, এরপর দ্বিতীয় পোস্টে নিখুঁত ফিনিশ করে ভারতকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে এই গোল ভারত গ্যালারিতে উন্মাদনা ছড়িয়ে দেয়। প্রথমার্ধের লিড নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধেও সমান মেজাজে খেলা শুরু করে ভারত। ৪৫ মিনিটে আশিক আবার সময়মতো বল রিলিজ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ফাঁকায় থাকা সুযোগ নষ্ট হলো। ৫০ মিনিটে জিওভেনী হারবার্ট এক রকেট শট মারলেও ভারতীয় গোলরক্ষক অসামান্য দক্ষতায় তা সেভ করেন। কিন্তু ম্যাচের ৬৭ মিনিটে হঠাৎই ভারতীয় রক্ষণে বড়ো বিপত্তি ঘটে।
ডান দিক থেকে আসা পাসে বক্সের বাইরে ফাঁকায় বল পেয়ে যান পানামার ওমার ভ্যালেন্সিয়া। অপুইয়া ব্লক করতে আসার আগেই দূরপাল্লার এক দুর্দান্ত শট নেন ওমার, ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রিত কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর সুযোগ পাননি, বল টপ কর্নারের সাইড নেটে ঢুকে ১-১ সমতা ফেরায়। ৭০ মিনিটে আবার সেই ওমার ভ্যালেন্সিয়া বাম দিক থেকে বক্সে ঢুকে ভারতীয় গোলরক্ষকের সঙ্গে ওয়ান-অন-ওয়ান হয়ে যান। তবে শেষ মুহূর্তে সঠিক সময়ে স্লাইড করে অবিশ্বাস্য ক্লিয়ারেন্স করেন রিকি। ৭৩ মিনিটে কার্লোস হার্ভের দূরপাল্লার একটি শট দুর্দান্তভাবে সেভ করে দলকে রক্ষা করেন গুরপ্রীত। ম্যাচের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি ভারতের সামনে আসে ৭৯ মিনিটের মাথায়, ডান দিক থেকে এডমন্ডের বাড়ানো নিখুঁত পাস বক্সে সম্পূর্ণ অরক্ষিত দাঁড়িয়ে থাকা মনবীর সিং পান, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে বলটি তিনি ধরতেই পারেননি, পায়ের তলা দিয়ে গলে বাইরে চলে যায়।
৮৭ মিনিটের মাথায় বক্সের ভেতরে ওয়ান-অন-ওয়ান চান্স পেয়ে গিয়েছিলেন রদ্রিগেজ, কিন্তু পেনাল্টি ও গোলের চরম ঝুঁকি নিয়েও শূন্যে ডাইভ দিয়ে অসাধারণভাবে বল ক্লিয়ার করেন বিজয়। ৮৯ মিনিটে আবার এডমন্ডের পাসে সাহাল আবদুল সামাদের ওয়ান টাচ শট প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারে লেগে প্রতিহত হয়। একদম শেষ মুহূর্তে মাঝমাঠ থেকে সাহালের ডিফেন্স চেরা পাসে দুজন ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে মনবীরের শটও পানামা রক্ষণে আটকে যায়। সব মিলিয়ে, বিশ্বকাপের বিশ্বমানের দলের বিরুদ্ধে এই ১-১ ড্র ভারতীয় ফুটবলে এক নতুন আত্মবিশ্বাসের বার্তা এনে দিলো। এর পরবর্তীতে কলকাতায় ৩রা অক্টোবর ব্রাজিল ও ৬ই অক্টোবর উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলতে নামবে ভারত। সবমিলিয়ে এই আসন্ন ম্যাচ ঘিরে কলকাতায় বাড়ছে উন্মাদনার পারদ।
৭০ ও ৯ বছর বয়সসীমা নিয়ে সিএবির এজিএম উত্তাল! মিলল না সমাধান সূত্র
