ময়দান আপডেট: বয়স ৭০ পেরিয়ে গেল, কিংবা ক্রিকেট প্রশাসনে ৯ বছর কাটিয়ে ফেললে তিনি সিএবি-র সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে পারবেন? ভোট দিতে পারবেন? এই প্রশ্ন ঘিরেই গত কয়েক মাস ধরে দফায়-দফায় উত্তাল হচ্ছে বঙ্গ ক্রিকেট মহল। সিএবির এর আগের বার্ষিক সাধারণ সভায় এই প্রশ্নকে সামনে রেখেই বাকবিদন্ডায় জড়িয়েছিল শাসক ও বিরোধী পক্ষ। সিএবির সচিব, যুগ্ধ সচিব এবং একজন অ্যাপেক্স কাউন্সিল মেম্বারের পদ এখন শূন্য। আর এই পদে নির্বাচনও বাতিল হয়েছে এই প্রশ্নকে সামনে রেখে। এই প্রশ্নের সদুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না বলে ভেস্তে যাচ্ছে একের পর এক নির্বাচন। আর গতকাল বৃহস্পতিবারও সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভায় এই একই প্রশ্নকে ঘিরে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। বচসায় জড়ান প্রাক্তন সিএবির সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া ও প্রাক্তন সচিব বিশ্বরূপ দে। কে সৎ কে অসৎ এই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিষেক ডালমিয়া, তার পাল্টা বক্তব্য পেশ করেন বিশ্বরূপ দে। এমনকী বিভিন্ন ইস্যুতে অভিষেকের সঙ্গে সিএবি প্রাক্তন সভাপতি স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়ের উত্তপ্ত কথা চলে।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের শাসক গোষ্ঠী বলছে, সিএবি সংবিধান অনুযায়ী ৭০ পেরিয়ে গেলে কিংবা ক্রিকেট প্রশাসনে ৯ বছর কাটিয়ে ফেললে কোনও ব্যক্তির সভায় প্রতিনিধিত্ব করতে বা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বাধা নেই। অভিষেক ডালমিয়ার নেতৃত্বাধীন বিরোধী গোষ্ঠী বলছে, সিএবি গঠনতন্ত্রের ভুল ব্যাখ্যা করছে শাসক শিবির। বিরোধী শিবির থেকে পাল্টা বলা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত লোঢা কমিটির সুপারিশ মেনে যেখানে ভারতীয় বোর্ড বয়স ৭০ বছর ও ক্রিকেট প্রশাসনে ৯ বছর কাটিয়ে ফেলা ব্যক্তিদের নিয়ে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, সেখানে সিএবি ব্যতিক্রমী হয় কী করে? রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর অন্তত ১৫টি জেলার জেলাশাসকরা চিঠি পাঠিয়ে কার্যত বিরোধী শিবিরের প্রশ্নকেই মান্যতা দিয়েছেন। কেন সিএবি-র সভায় লোঢা আইন মানা হবে না, প্রশ্ন তুলেছেন জেলাশাসকরা। সেই চিঠির ঝড়েই পরপর দুটি নির্বাচন ভেস্তে গেল। কোনও পক্ষই মনোনয়ন জমা করেনি বলে।

কোনও অভিজাত হোটেল নয় এবার এজিএম হল ইডেনেই। বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর সিএবিতে প্রথম এজিএম। আর এই ৯৫ তম এজিএমে আসন অলঙ্কিত করে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের চারজন বিধায়ক। বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধি হিসাবে দেখা গেল সজল ঘোষ, রীতেশ তিওয়ারি, সৌরভ সিকদার ও অনুপম ভট্টাচার্যকে। ময়দানকে রাজনীতিমুক্ত করার বার্তা দেওয়া হলেও, এদিন সেই ছবিটা অপরিবর্তিত থাকল। যদিও তাদের সকলেরই সাফাই তারা ক্রীড়াপ্রেমী, খেলার জগতের সঙ্গে সম্পর্ক আছে। পাশাপাশি উল্লেখ্য, বয়স ভাঁড়ানো, জাল সার্টিফিকেট ইস্যুতে সরগরম সিএবির বার্ষিক সাধারণ সভা। কীভাবে দিনের পর দিন বয়স ভাঁড়িয়ে, জাল নথিপত্র দেখিয়ে ক্রিকেটাররা খেলছে সিএবি লিগে? এজিএমে প্রশ্ন তুললেন কাশীপুর-বেলগাছিয়ার বিধায়ক রীতেশ তিওয়ারি। বয়স ভাঁড়ানো, জাল সংশাপত্রের দুর্নীতি রুখতে প্রশাসনের সাহায্য নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব বেলগাছিয়া ইউনাইটেডের প্রতিনিধি রীতেশ তিওয়ারির। প্রস্তাবকে স্বাগত জানান সিএবি সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। সবমিলিয়ে এদিন সিএবির এজিএমে একাধিক বিষয়ে আলোচনা হলেও, সিএবির তিন পদে নির্বাচন হবে বা সিলেকশন হবে কতদিনে হবে সেই প্রক্রিয়া কার্যত ঝুলেই রইল।
কান্তিরাভায় ৯৪ ধাপ এগিয়ে থাকা বিশ্বকাপের দল পানামার মুখোমুখি ভারত
