প্রিয়াংশু মন্ডল, প্রতিনিধি
ময়দান আপডেট : আইএফএ শিল্ডের সেমিফাইনালে কিশোরভারতীতে এক স্নায়ুচাপের ম্যাচে, মুখোমুখি হয়েছিল মোহনবাগান ও পঞ্জাব এফসি। যেখানে খেলার শুরু থেকেই দুইদলের ফুটবলে কোনও পরিকল্পনা বা গতিময়তার ছাপ পাওয়া যায়নি। ষষ্ঠ মিনিটে মোহনবাগান বক্সের একটু বাইরে থেকে ফ্রি-কিক অর্জনের সুযোগ পেলেও সেখান থেকে কোনো সুযোগ কাজে লাগানো যায়নি।
অন্যদিকে দশম মিনিটে এর্ভিনের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং প্রথমার্ধের অন্তিম লগ্নে ছাংতের একটি চমৎকার প্রচেষ্টা আটকে দিয়ে বিপদ সামলান পাঞ্জাব গোলরক্ষক মোহিত। সামগ্রিকভাবে প্রথমার্ধজুড়ে দুই পক্ষই ভুলে ভরা পাসিং ও অলস ফুটবলের প্রতিযোগিতা চালিয়েছিল, যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আক্রমণভাগে বলের নিয়ন্ত্রণ হারানো ও একের পর এক আক্রমণ খেই হারিয়ে ফেলা দর্শকদের বেশ হতাশ করে তোলে। চোটের কারণে জেমি ম্যাকলারেনের অনুপস্থিতি মোহনবাগানের আক্রমণকে নখদন্তহীন করে রেখেছিল, আর লাগাতার অফ ফর্মে থাকা সত্ত্বেও লিস্টন কোলাসোকে শুরুর একাদশে সুযোগ দেওয়া নিয়ে সবুজ মেরুন ডাগআউটের কৌশল বড়োসড়ো প্রশ্নের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে যখন রিজার্ভ বেঞ্চে সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তরুণ ও চটপটে ফুটবলার তৈরি ছিলেন।
যদিও বিরতির পর লিস্টনের জায়গায় মিগুয়েলকে নামিয়ে আক্রমণে কিছুটা ধার বাড়াতে চেয়েছিলেন কোচ, তবুও লি আরউইনের পাশে তিনি বক্সের কাছাকাছি ইতিবাচক কিছু করে উঠতে ব্যর্থ হন এবং পাঞ্জাবের মেসি বাওলি সেভাবে দলের হাল ধরতে পারেননি। ৮৫ মিনিটে অধিনায়ক শুভাশিস বোস বল জালে জড়িয়ে সমর্থকদের আশা জাগালেও অফসাইডের সংকেতে তা বাতিল হয়ে যায়, যার ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিট তো বটেই, অতিরিক্ত সময়েও অচলাবস্থা বজায় থাকায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্যের খেলা পেনাল্টি শ্যুটআউটে।

ব্রাজিলের আগেই কলকাতায় ডিয়াগো ফোরলানের উরুগুয়ে দল
নাটকীয় শ্যুটআউটে পাঞ্জাবের হয়ে মেসি বাওলি ও আরশভির নিখুঁত শটে গোল পান, আর মোহনবাগানের পক্ষে রাহুল ভেকে ও শুভাশিস বোস গোলরক্ষককে বিভ্রান্ত করে জালে বল জড়ান, এরপরই আসল চমক শুরু হয় যখন পঞ্জাবের শাইজা ও পরে তরুণ বিশাল যাদবের নেওয়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ শট নিজের ডানদিকে দারুণভাবে ঝাঁপিয়ে রুখে দেন মোহনবাগান কিপার বিশাল কাইথ। মাঝে দেজান ড্রাজিক নিজের শট মিস করলেও, পঞ্জাবের শেষ শটে ঋষিকান্ত নেইমারের ভঙ্গিতে গোল করার পর শেষ মুহূর্তে ঠান্ডা মাথায় মিগুয়েল গোল করে মোহনবাগানকে ফাইনালে তুলে দেন। তবে রোমাঞ্চকর জয় সত্ত্বেও দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্স নিয়ে সমর্থকেরা বিন্দুমাত্র সন্তুষ্ট নন, কারণ হাতে গোনা দু-একজন ভারতীয় ফুটবলার ছাড়া দলটির বড় অংশই বর্তমানে মারাত্মক ফর্মহীনতায় ভুগছে এবং ম্যাচের পর ম্যাচ বিশাল কাইথের একক পরিত্রাতা হয়ে ওঠার ওপর ভরসা করে টিকে থাকা দীর্ঘমেয়াদে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।
এস্তেভাও-লিনো ঝলকে ব্রাজিলের কাছে পরাস্ত ভারত, হারলেও লড়াকু ফুটবল উপহার ভারতের
