সৌরভ রায়, সম্পাদক
ময়দান আপডেট: স্বামী বিবেকানন্দ বলেছিলেন, “গীতা পড়ার থেকে ফুটবল খেলা ভালো “। কারণ স্বাস্থ্যই সম্পদ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলার উঠতি ফুটবলাররা আগামী দিনে হয়তো বলবে- “ফুটবল খেলার থেকে পরোটা ভাজা ভালো। “ কি শুনে একটু অবাক হয়ে গেলেন ? কারণ যে দেশের কোটি-কোটি অল্প বয়সি ছোটদের ফুটবল খেলার কিংবা ভবিষ্যতে ফুটবলার হয়ে ওঠার অনুপ্রেরণা বা জীবনের আইকন লিওনেল মেসি। লিও-কেই নিজের জীবনের আদর্শ মনে করেন এই বাংলারও লাখো-লাখো তরুণ ফুটবলাররা। অথচ বিশ্বকাপ জয়ী আর্জেন্টাইন মহাতারকা ১৪ বছর পর যখন এই বাংলায় পা রাখেন, তখন তাঁকে একবার হলেও দেখার স্বপ্ন দেখেছিলেন এমনই বহু উঠতি ফুটবলাররা। কিন্তু অভাগা এই রাজ্যে রাজনীতি যে বড় বালাই! তাই ফুটবলের রাজপুত্রকে একবার ছুঁয়ে দেখা তো দূরের কথা, দেখারও সুযোগও হয় না মেসি প্রেমীদের। অথচ মেসির সঙ্গে সেল্ফি থেকে ফ্রেমবন্দি হতে দেখা যায় পকেট পরোটা বিক্রেতা রাজু দা-কে। যে হয়তো ভালো ভাবে জানেই না মেসির ইতিহাস কিংবা মেসির জীবনের সাফল্যের কোনও খেলা আদৌও দেখেছে কিনা সন্দেহ! কিন্তু ওই যে বলে নিজের দম্ভ বা প্রভাব সমাজের কাছে প্রমাণ করে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিতে চান কিছু ব্যক্তি। যেমনটা এবার মেসির কলকাতা সফরের সময়ে উদ্যোক্তা সংস্থার প্রধান শতদ্রু দত্ত নিজের ক্ষমতার জোরে লোকের কাছে দেখিয়ে দিতে চেয়েছিলেন,“দেখো আমি দেখিয়ে দেব রাজু দা-কে মেসির সঙ্গে ছবি তোলাতে পারি কিনা! “ অথচ তিনি একবারও ভাবলেন না এই বাংলার উঠতি ফুটবলারদের কথা! যাদের প্রতিদিনের স্বপ্ন, ধ্যান-জ্ঞান, তপস্যা সবকিছু জুড়ে শুধুই লিওনেল মেসি। সকলকে সম্ভব না হোক, কিছু উঠতি ফুটবলারকে যদি মেসির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ করে দিতেন, আগামী দিনে সেই ছেলেটিও নিজেকে আরও বেশি করে ফুটবল খেলার জেদ নিয়ে মাঠে ঝাঁপিয়ে নামতে পারত। এমনকি যে ফুটবলারটি মেসির ভক্ত- মেসির দর্শন পেয়েছেন, তাঁর মেসি দর্শনের কথা শুনে অনেক ছেলে ভবিষ্যতে ফুটবল খেলার অনুপ্রেরণা পেতো। কিন্তু সে সব সুযোগ দেওয়া হয় নি এই বাংলার বুকে।

পাশাপাশি উল্লেখ্য যে দেশে ক্রমশ ফুটবলের ক্রমতালিকা বিশ্বের বুকে পিছিয়ে পড়ছে। ফুটবলের কোনও সাফল্য-উন্নতি হয় না! এমনকি দেশের সবথেকে বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট আইএসএল যেখানে অর্থের অভাবে,স্পন্সরের অভাবে বন্ধ হয়ে যেতে বসেছে! আর্থিক সঙ্কটে ভুগছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। দেশের ফুটবলের বিভিন্ন বিভাগে অর্থের অভাবে চরম অচলাবস্থা। সেই পরিস্থিতিতে এত কোটি-কোটি টাকা খরচ করে এই দেশে মেসিকে আনার কারণ কি ? মেসি আসায় দেশের ফুটবল কি বহুগুন এগিয়ে গেল ? মেসির পিছনে যে বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হল এই টাকা যদি দেশের ফুটবলের উন্নতির জন্য খরচ করা হতো, তাহলে বোধহয় আগামী দিনে ভারতীয় ফুটবল বিশ্বের মানচিত্রে কিছুটা উন্নতি লাভ করলেও করতে পারত। হয়তো ফুটবলের পরিকাঠামোও সেই অর্থ দিয়ে ঢেলে সাজানো যেতে পারত। আর যদিও বা মেসিকে আনা হল কলকাতায়, বাংলার উঠতি ফুটবলারদের কয়েকজনকে মেসির কাছে কেন যেতে দেওয়া হল না! তবে কী বাংলা বা দেশের ফুটবলের উন্নতি প্রধান লক্ষ্য নয়? মেসিকে সামনে এনে নেতা-মন্ত্রী, তারকাদের সমারোহে কোটি-কোটি টাকা অর্থ উপার্জন করাই ছিল শতদ্রু দত্তের প্রধান লক্ষ্য? আর নিজের প্রভাব-ক্ষমতা প্রদর্শন করে রাজু দার মতো মানুষদের মেসি দর্শন করিয়ে নিজেকে মহান প্রমাণ করার পরিকল্পনা ছিল ? সেই প্রশ্নগুলোয় ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলার ফুটবলের অন্দরমহলে !
মেসির ভারত সফরের ভিডিওতে বাদ যুবভারতী ! বনতারা’র মন্দিরে দৃষ্টান্ত স্থাপন লিও-এর
